সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দাখিলের বিধি কঠোরভাবে মানার নির্দেশ: হাইকোর্ট

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪, ১৮: ১৬

সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সম্পদ বিবরণীর ঘোষণা এবং তা দাখিল-সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে মানতে মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে অগ্রগতি জানিয়ে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, দুদকের পক্ষে আইনজীবী ফজলুল হক শুনানি করেন।

শুনানিতে দুর্নীতি দেশে সুশাসন ও উন্নয়নের অন্তরায় উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, যেকোনো উপায়ে দুর্নীতি-অর্থপাচার বন্ধ করতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

রুলে সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের অবৈধ সম্পদ অর্জন রোধে প্রয়োজনীয় নীতিমালা, আইন ও নীতি করতে বিবাদীদের ভয়াবহ ব্যর্থতা এবং কথিত নিষ্ক্রিয়তা কেন বে-আইনি হবে না এবং সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ ও ডিজিটাল মাধ্যমে সময়ে আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার (১ জুলাই) এই রিট দায়ের করেন।

রিট দায়েরের পর আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব যেন নেওয়া হয় এবং সেগুলো যেন প্রকাশ করা হয়, তার নির্দেশনা চেয়ে রিট দাখিল করেছি। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের আয়ের কিছু অফিসিয়ালের বিপুল পরিমাণে সম্পদের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যে অফিসারই হোক না কেন তিনি কীভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জন করেন, সে বিষয়টি জানতে চেয়েছি। কারণ সরকারের একটি রুলস আছে। ওই রুলস অনুযায়ী, কোনো সরকারি অফিসার পূর্বানুমতি ছাড়া একটি বিল্ডিংও নির্মাণ করতে পারেন না। ইনভেস্ট করতে পারেন না। তিনি আইন থাকার পরেও কীভাবে এত বিপুল সম্পত্তি অর্জন করলেন। চাকরির প্রবেশকালে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে হবে এবং প্রতিবছর কত বাড়ল বা কমল তার বিবরণী দাখিল করার আইন রয়েছে। পরবর্তী তা সংশোধন করে প্রতি পাঁচ বছর পর পর দাখিল করার বিধান করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ ২০০৮ সালে কিছু কর্মকর্তা দাখিল করেছিলেন। ২০০৮ সালের পরে সরকার চাইলেও কর্মকর্তারা সেটা দেননি। আমরা বলেছি, আইনটা প্রতিপালন করার জন্য।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর ১৩ বিধিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী চাকরিতে প্রবেশের সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের নিকট তার অথবা তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা শেয়ার, সার্টিফিকেট, সিকিউরিটি, বীমা পলিসি এবং মোট পঞ্চাশ হাজার টাকা বা ততোধিক মূল্যের অলংকারাদিসহ স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা করবেন। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর প্রদর্শিত সম্পত্তির হ্রাস বৃদ্ধির হিসাব বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাখিল করবেন।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

আমি পদত্যাগ করিনি: আইজিপি

অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। সে অনুযায়ী এ বছরের ২০ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

১২ ঘণ্টা আগে

নির্বাচনে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে, জানাল ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭, জামায়াত ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

১৩ ঘণ্টা আগে

দেশ ছেড়েছেন ফয়েজ তৈয়্যব, বললেন নিজের কাছে সৎ আছি

জাতীয় নির্বাচনের পরের দিনই তিনি একরকম তাড়াহুড়ো করে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন ফয়েজ আহমেদ। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি’।

১৩ ঘণ্টা আগে

আইজিপির পদত্যাগের গুঞ্জন

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগ করেছেন বলে নানা মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

১৪ ঘণ্টা আগে