সাবেক মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মারা গেছেন
![আবুল হাসান মাহমুদ আলী [২ জুন ১৯৪৩ - ৬ নভেম্বর ২০২৫]](https://images.rajneete.com/original_images/Abul-Hasan-Mahmud-Ali-File-Photo-06-11-2025.jpg)
দীর্ঘ সময়ের কূটনীতিক, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসান মাহমুদ আলী মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দুই সপ্তাহ ধরে বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আবুল হাসান মাহমুদ আলীর। পরিবার জানিয়েছে, রাতেই রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেবারে শুরুতে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি তিনি। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে নবগঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিয়োগ করা হয় তাকে। সেখানে অবশ্য মাত্র মাস দুয়েক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান তিনি। এরপর ডা. দীপু মনিকে সরিয়ে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে শুরু থেকেই শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ফের দিনাজপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। পূর্ণ মেয়াদেই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি তার। পরে দ্বাদশ সংসদের মন্ত্রিসভায় তাকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সংসদ বিলুপ্ত করা পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
আবুল হাসান মাহমুদ আলীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ২ জুন, দিনাজপুরের খানসামার ডাক্তারপাড়া গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএ ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে শুরু করেন কর্মজীবন। পরে ১৯৬৬ সালে যোগ দেন তৎকালীন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আবুল হাসান মাহমুদ আলী ছিলেন পাকিস্তানের নিউইয়র্ক মিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন তিনি। ওই বছরের মে মাসে মুজিবনগরে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হন।
আবুল হাসান মাহমুদ আলী মুজিবনগর সরকারের বিদেশ প্রতিনিধি প্রধান এবং ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরীর নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর চীন, ভুটান, অস্ট্রিয়া, চেক রিপাবলিক, জার্মানি, নেপাল, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে তিনি ভারতের সঙ্গে তিন বিঘা করিডোর বাস্তবায়ন চুক্তিতে সই করেন। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে কিছুদিন পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।














-c173ff-256x144.webp)
-f7dee2-256x144.webp)

