বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হয়ে আঘাত হানতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
পূর্বমধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপ, যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ভারতের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ছবি: রোববার সন্ধ্যা ৭টায় উইন্ডি ডটকম থেকে
পূর্বমধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপ, যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ভারতের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ছবি: রোববার সন্ধ্যা ৭টায় উইন্ডি ডটকম থেকে

পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা নিম্নচাপটি আরও অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি এখন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে, যা ক্রমেই দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গভীর গভীর নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে অধিদপ্তরের আভাস, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে নিম্নচাপটির দূরত্ব ছিল সর্বনিম্ন ৭৩০ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৮৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত। নিম্নচাপ কেন্দ্রের আশপাশে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার বিকেলে অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত আবহাওয়ার ৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নিম্নচাপটির গতিবিধির এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এতে সই করেছেন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি শনিবার রাতে নিম্নচাপে পরিণত হয়। রোববার দুপুর নাগাদ তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। দুপুরে এটি দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল, স্থানাঙ্কে যার অবস্থান ১৫° উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০.৮° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

নিম্নচাপটির সম্ভাব্য গতিবিধি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আভাস, এটি দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরে ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরও প্রায় একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। রোববার জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে, যা মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নাগাদ রূপ নিতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আশঙ্কা, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত তথা বুধবার প্রথম প্রহরে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, যা অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানামের মাঝামাঝি বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

দেশের সমুদ্রবন্দরে দূরবর্তী সতর্কসংকেত

বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সমুদ্রবন্দর থেকে কিছুটা দূরেও সরে গেছে। রোববার সকাল ৬টায় এটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল, যা দুপুর ১২টায় আরও ৩০ কিলোমিটার উত্তরে সরে গিয়ে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এ ছাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার (ভোরে ৭৬০ কিলোমিটার), চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার (ভোরে ৭৮৫ কিলোমিটার) ও মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার (ভোরে ৮২০ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি।

সবশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার (ভোরে ৪০ কিলোমিটার), যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার (ভোরে ৫০ কিলোমিটার) পর্যন্ত বাড়ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad