ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, সব বন্দরে সতর্কতা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
বেনাপোল বন্দরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘিরে সতর্কতা। ছবি: রাজনীতি ডটকম
বেনাপোল বন্দরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘিরে সতর্কতা। ছবি: রাজনীতি ডটকম

ভারতের বিভিন্ন স্থানে নতুনভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। দেশেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ নিয়ে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব নৌ, স্থল ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংসহ স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি অনুসরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ জুন) সকালে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে গিয়ে দেখা যায়, মেডিকেল ডেস্কের দায়িত্বে থাকা উপসহকারীরা ভারত থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে কি না তা পরীক্ষা করছেন। বন্দরের সংশ্লিষ্টরা জানালেন, করোনা সংক্রমণের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা সতর্কতা তারা অনুসরণ করা হচ্ছে বেনাপোল বন্দরে।

গত বুধবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ফরহাদ হোসেনের সইয়ে এক আদেশ জারি হয়েছে। আদেশে ভারতসহ বিভিন্ন সংক্রমিত দেশ থেকে আগত সন্দেহজনক যাত্রীদের দেশের স্থল, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। সব যাত্রীকে স্বাস্থ্যবার্তা দিতেও বলা হয়েছে আদেশে।

বেনাপোল বন্দরেও সেই আদেশ অনুসরণ করে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। যাত্রীদেরও সচেতনতামূলক বার্তা দিচ্ছেন তারা।

চিকিৎসার জন্য প্রায় মাসখানে ভারতে ছিলেন সীমা। রোববার দেশে ফেরেন তিনি। রাজনীতি ডটকমকে সীমা বলেন, একমাস চিকিৎসার পর আজ দেশে ফিরলাম। ভারতের কোথাও নতুন করে করোনার প্রভাব ছড়িয়েছে শুনিনি। দেশে আসার পর দেখছি করোনার পরীক্ষা করছে।

ভারত থেকে ফেরা আরেক যাত্রী পরিতোষ মন্ডল বলেন, ১০ দিন আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। আজ দেশে ফিরলাম। বাংলাদেশের মতো ভারতের কোথাও করোনা বা ওমিক্রনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, জেনেটিক সিকুয়েন্স পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে, ভারতের কিছু কিছু স্থানে ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ বেড়েছে। দেশে করোনার এ নতুন ধরনটি যেন ছড়াতে না পারে সে জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সতর্কতার জন্য ভারত ফেরত প্রত্যেক যাত্রীকে আমরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছি।

আব্দুল মজিদ আরও বলেন, পরিচালক স্যার নির্দেশনা দিয়েছেন, কারও শরীরে করোনা বা এর ওমিক্রন উপধারার উপসর্গ পাওয়া গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন রূপে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস। এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট কোভিড-ওমিক্রন এক্সবিবি। এখনো পর্যন্ত এ অঞ্চলে কেউ আক্রান্ত না হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, চারপাশে কোভিড-ওমিক্রন এক্সবিবি আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঢাকা ও রাজশাহীতে কয়েকজন নতুন এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। তাই আগেভাগে যশোরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement