২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মেলেনি শিশু সাজিদের খোঁজ

রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর তানোরে সরু গর্ত দিয়ে মাটির নিচে হারিয়ে যাওয়া শিশু সাজিদকে ৪৫ ফুট নিচেও পাওয়া যায়নি

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের সরু গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৪৫ ফুট পর্যন্ত খুঁড়েও উদ্ধার করা যায়নি। টানা ২৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়েও শিশুটির সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে শিশুটির সন্ধান না মেলা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

জানা যায়, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে তানোরের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খনন করা ৮ ইঞ্চি ব্যাসের সরু গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। গর্তটি সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীর। এই এলাকায় পানির স্তর অনেক নিচে হওয়ায় বোরিংয়ের চেষ্টা করেও পানি না পেয়ে গর্তটি আগেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

শিশুটি পড়ে যাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সরু গর্তের পাশেই এক্সক্যাভেটর দিয়ে বড় একটি গর্ত খনন করা হয় এবং সেটিকে মূল গর্তের সঙ্গে মিলিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। প্রথমে ৩৫ ফুট পর্যন্ত ক্যামেরা নামানো হলেও কিছু দেখা যায়নি। পরে ৪৫ ফুট পর্যন্ত অনুসন্ধান করেও মিলছে না কোনো সাড়া। ফলে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আবারও গর্তে ক্যামেরা নামায় ফায়ার সার্ভিস।

এর আগে ঘটনাস্থলে ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের কোথাও এমন কোনো প্রযুক্তি নেই, যা ২০০ ফুট গভীর সরু গর্ত থেকে কাউকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা পাশ দিয়ে খনন করছি। উন্নত দেশগুলোতেও এত গভীর লাইনে পৌঁছাতে ৭৫ থেকে ৭৮ ঘণ্টা সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, ৪৫ ফুট পর্যন্ত খুঁড়েও শিশুটিকে পাইনি। আমি না পাওয়া পর্যন্ত কাজ করতেই থাকব। আমাদের সক্ষমতা কত, সেটি এখানে বিষয় না। যদি শিশুটি ১০০ ফুট নিচেও থাকে, তবুও অনুসন্ধান চলবে।

এদিকে, ঘটনাস্থলে হাজারো মানুষ ভিড় করেছেন সাজিদের খোঁজের আশায়। সময় যত বাড়ছে, ততই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ছে পুরো এলাকা। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের আশা—ধৈর্য ধরে অনুসন্ধান চালালে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজশাহীর তানোরে সাজিদ নামের দুই বছর বয়সী শিশুটি নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে যায়। শিশুটি তার মায়ের হাত ধরে কেটে নেওয়া ধানের খেতে হাটছিল। হঠাৎ সে গর্তে পড়ে যায়। সাজিদ উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের ছেলে। রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন।

শুরুতে সাড়া পাওয়া গেলেও ধীরে ধীরে সে সাড়া মিলিয়ে যেতে থাকে। এরপর উদ্ধার অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে থাকে। এতে উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত এসকেভেটর দিয়ে মাটি কাটা ও তা সরিয়ে নিতে প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হয়। ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম।

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল মায়ের

গুরুতর আহত ইভানকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

১৯ ঘণ্টা আগে

চট্টগ্রামে হিজড়া নেত্রীর লাশ উদ্ধার, পুলিশের ধারণা ‘হত্যা’

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় বাসা থেকে মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া (৫২) নামে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলায় জখমের চিহ্ন থাকা এবং বাসা থেকে টাকা ও দুটি মুঠোফোন না পাওয়ায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

১ দিন আগে

ফকিরহাটে ডাকাতিতে ব্যর্থ, পালানোর সময় ডাকাত দলের ককটেলে আহত ২

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতশৈয়া গ্রামের মাহবুব মল্লিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণে আহতদের স্থানীয় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

১ দিন আগে

আশুলিয়ায় নবজাতকসহ নিহত দম্পতির পরিচয় শনাক্ত, পুলিশের ধারণা ‘হত্যা’

গতকাল শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে মধ্য জামগড়া এলাকার চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দুজন হলেন— দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার নাজমা আক্তার (৩৩) ও তার স্বামী নিশা পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪২)।

১ দিন আগে
Advertisement