
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম থানায় নিজের দপ্তরে বসে এক ব্যক্তির সঙ্গে খামে ভরা টাকা আদান-প্রদান করছেন-এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে রাজশাহীজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ওসি মাহাবুব আলম চন্দ্রিমা থানায় দপ্তরে নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন। টেবিলের অপর দিকে চেয়ারে বসে থাকা এক ব্যক্তি বলছেন, ‘মাহবুব ভাই, ভাই উঠব ভাই।’ জবাবে ওসি বলেন, ‘আচ্ছা।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘একটু কথা বলে যাই।’ ওসি বলেন, ‘হুম।’ সামনে বসে থাকা ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, একটা ছোট ইয়ে, খাম দেন। ওসি তখন মুচকি হাসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মাহবুব ভাই, আপনি আমাকে চেনেন, জানেন, বোঝেন। আমি বিপদে পড়সি বলেই আপনার কাছে আসছি ভাই। আমি বিপদেই পড়ি।’ তখন তৃতীয় এক কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘দাও।’ ভিডিও ধারণের ক্যামেরা ওই তৃতীয় ব্যক্তির হাতেই ছিল। তখন সামনে বসে থাকা ব্যক্তিটি আবারও বলেন, 'দেন ভাই, একটা খাম দেন।’ ওসি তখন মুচকি হেসে তার ড্রয়ার থেকে একটা ফাঁকা খাম বের করে দেন। এরপর তৃতীয় ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে ওসি বলেন, ‘দিলাম ভাই, বুইঝেন। তাকে অবশ্য আগেরটাও আমি হেল্প করসি।’ ওই ব্যক্তি তখন বলেন, ‘আমি জানি, আমি মাহবুব ভাইয়ের কাছে আসলে ভাই কাজ হবে।’ এ সময় ওসি বলেন, ‘না, যথেষ্ট হেল্প করসি।’ কথা বলতে বলতে সামনে থাকা ওই ব্যক্তি টাকা ভরা খাম টেবিলে এগিয়ে দিলে ওসি সেটি আবার নিয়ে নিজের ড্রয়ারে রেখে দেন।'
এসময় ওই ব্যক্তি ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি না পারতে এ পর্যন্ত আসলাম। বিশ্বাস করেন! আর একদিন এসে বলব ও আমাকে কী পর্যায়ে পেরেশানির মধ্যে রেখেছে। যদি অফিসিয়াল সলিউশন করতে পারতাম আমি! সে জিএম সাহেবের কাছে ৪০ জন লোক নিয়ে গেছে ‘রিমুভ ফ্রম সার্ভিস’ করার জন্য আমার বোনের। আমি আপনাকে কী বোঝাব বলেন।
তখন ওসি বলেন, ‘দুজনেই পানিশমেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, আমার বোনের যদি পানিশমেন্ট হয় হোক, কিন্তু এই অপরাধ; অন্যায় যে করে, আর যে সহে—দুজনে সমান অপরাধী।’ ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের এই ভিডিও এখানেই শেষ হয়।
ওসির সাথে খাম আদান-প্রদান করা ওই যুবকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান বলে জানা গেছে। তিনি রাজশাহী নগরীর ভদ্রা বৌ-বাজার এলাকার বাসিন্দা।
খাম আদান-প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার বোন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে কর্মরত আছে। সম্প্রতি তিনি এক কর্মকর্তার দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেই মামলার নথিপত্র একটি খামে করে ওসিকে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বেশি লোক থাকার কারণে গোপন নথিপত্র একটি খামে দেওয়া হয়েছিল। সেটি কেউ ভিডিও করে ভাইরাল করেছে। ওই খামে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমরাই তো ভুক্তোভোগী। তাহলে আমরা কেন পুলিশকে টাকা দিতে যাব।’
অভিযুক্ত ওসি মাহাবুব আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি খামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি পাবলিকের কাছ থেকে টাকা খাই না। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আসলে মামলার কিছু নথিপত্র একজন যুবক খামে করে দিয়ে গিয়েছিল। সেখানে মিডিয়া কর্মীসহ অনেকই ছিলেন। সেটি কেউ ভিডিও করে রেখেছিল। পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সেই ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে।
বিষয়টি কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘চন্দ্রিমা থানার ওসির একটি খাম লেনদেনের ভিডিও কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
এদিকে, ২০২১ সালে ওসি মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এক নারী পুলিশ পরিদর্শকের স্বামীকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে ওই বছরের ২৪ মার্চ আরএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তার সেই অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার গোলাম ফারুক। ওই ঘটনার সময় মাহাবুব আলম দামকুড়া থানার ওসি ছিলেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম থানায় নিজের দপ্তরে বসে এক ব্যক্তির সঙ্গে খামে ভরা টাকা আদান-প্রদান করছেন-এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে রাজশাহীজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ওসি মাহাবুব আলম চন্দ্রিমা থানায় দপ্তরে নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন। টেবিলের অপর দিকে চেয়ারে বসে থাকা এক ব্যক্তি বলছেন, ‘মাহবুব ভাই, ভাই উঠব ভাই।’ জবাবে ওসি বলেন, ‘আচ্ছা।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘একটু কথা বলে যাই।’ ওসি বলেন, ‘হুম।’ সামনে বসে থাকা ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, একটা ছোট ইয়ে, খাম দেন। ওসি তখন মুচকি হাসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মাহবুব ভাই, আপনি আমাকে চেনেন, জানেন, বোঝেন। আমি বিপদে পড়সি বলেই আপনার কাছে আসছি ভাই। আমি বিপদেই পড়ি।’ তখন তৃতীয় এক কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘দাও।’ ভিডিও ধারণের ক্যামেরা ওই তৃতীয় ব্যক্তির হাতেই ছিল। তখন সামনে বসে থাকা ব্যক্তিটি আবারও বলেন, 'দেন ভাই, একটা খাম দেন।’ ওসি তখন মুচকি হেসে তার ড্রয়ার থেকে একটা ফাঁকা খাম বের করে দেন। এরপর তৃতীয় ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে ওসি বলেন, ‘দিলাম ভাই, বুইঝেন। তাকে অবশ্য আগেরটাও আমি হেল্প করসি।’ ওই ব্যক্তি তখন বলেন, ‘আমি জানি, আমি মাহবুব ভাইয়ের কাছে আসলে ভাই কাজ হবে।’ এ সময় ওসি বলেন, ‘না, যথেষ্ট হেল্প করসি।’ কথা বলতে বলতে সামনে থাকা ওই ব্যক্তি টাকা ভরা খাম টেবিলে এগিয়ে দিলে ওসি সেটি আবার নিয়ে নিজের ড্রয়ারে রেখে দেন।'
এসময় ওই ব্যক্তি ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি না পারতে এ পর্যন্ত আসলাম। বিশ্বাস করেন! আর একদিন এসে বলব ও আমাকে কী পর্যায়ে পেরেশানির মধ্যে রেখেছে। যদি অফিসিয়াল সলিউশন করতে পারতাম আমি! সে জিএম সাহেবের কাছে ৪০ জন লোক নিয়ে গেছে ‘রিমুভ ফ্রম সার্ভিস’ করার জন্য আমার বোনের। আমি আপনাকে কী বোঝাব বলেন।
তখন ওসি বলেন, ‘দুজনেই পানিশমেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, আমার বোনের যদি পানিশমেন্ট হয় হোক, কিন্তু এই অপরাধ; অন্যায় যে করে, আর যে সহে—দুজনে সমান অপরাধী।’ ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের এই ভিডিও এখানেই শেষ হয়।
ওসির সাথে খাম আদান-প্রদান করা ওই যুবকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান বলে জানা গেছে। তিনি রাজশাহী নগরীর ভদ্রা বৌ-বাজার এলাকার বাসিন্দা।
খাম আদান-প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার বোন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে কর্মরত আছে। সম্প্রতি তিনি এক কর্মকর্তার দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেই মামলার নথিপত্র একটি খামে করে ওসিকে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বেশি লোক থাকার কারণে গোপন নথিপত্র একটি খামে দেওয়া হয়েছিল। সেটি কেউ ভিডিও করে ভাইরাল করেছে। ওই খামে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমরাই তো ভুক্তোভোগী। তাহলে আমরা কেন পুলিশকে টাকা দিতে যাব।’
অভিযুক্ত ওসি মাহাবুব আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি খামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি পাবলিকের কাছ থেকে টাকা খাই না। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আসলে মামলার কিছু নথিপত্র একজন যুবক খামে করে দিয়ে গিয়েছিল। সেখানে মিডিয়া কর্মীসহ অনেকই ছিলেন। সেটি কেউ ভিডিও করে রেখেছিল। পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সেই ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে।
বিষয়টি কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘চন্দ্রিমা থানার ওসির একটি খাম লেনদেনের ভিডিও কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
এদিকে, ২০২১ সালে ওসি মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এক নারী পুলিশ পরিদর্শকের স্বামীকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে ওই বছরের ২৪ মার্চ আরএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তার সেই অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ খন্দকার গোলাম ফারুক। ওই ঘটনার সময় মাহাবুব আলম দামকুড়া থানার ওসি ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে উচ্চ শব্দে গান বাজান মেহেদী হাসান। পরে প্লায়ার্স (ধাতব কোনো বস্তু শক্ত করে ধরা, বাঁকানো ও চাপা দেওয়ার যন্ত্র) দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হলে দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর কাস্তে গরম করে তার হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
১৭ ঘণ্টা আগে
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছানোর পর দুই দেশের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৮ ঘণ্টা আগে
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান।
১ দিন আগে
ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা বলেন, ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করতে কিছুটা সময় নিয়েছে। তারা দুপুর ১২টার দিকে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। এরপর ১৫ মিনিটের মধ্যে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
১ দিন আগে