পশুর হাট চলে আসে মহাসড়কে, তীব্র যানজটে দুর্ভোগ

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৫, ২২: ৫৯

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পশু বেচাকেনার সবচেয়ে বড় হাটের নাম হচ্ছে মেরেঙ্গা বাজার। বাজারের পুরোটাই ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পূর্বদিকে অবস্থিত। কিন্তু হাটের দিন পশুর হাটের একটি অংশ চলে আসে মহাসড়কের ওপর। ফলে সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। সেই যানজটে পড়ে নাকাল হন পথচারি। যানবাহনগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।

বছরের পর বছর ধরে কোটি টাকারও বেশি ইজারা ডাকের হাটটির কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও তা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন বা হাট কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ ইজারা ডাক থেকে আয় হওয়া অর্থের একটি অংশ বাজার উন্নয়নে ব্যয় করার কথা।

এ প্রতিবেদক গত রোববার বিকালে নান্দাইল থেকে পাশের জেলা কিশোরগঞ্জে যাচ্ছিলেন। তখন দেখতে পান ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মেরেঙ্গা বাজারের সামনে যানবাহনের জট লেগে আছে।

জটের মূল কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের অর্ধেকটাজুড়ে গরুবাহী পিকআপ থামিয়ে গরু নামানো হচ্ছে। নামানো গরুগুলো হাটের ভেতরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত আন্তঃজেলার যানবাহনগুলোকে মহাসড়ক তথা বাজারের দুপাশে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথচ পায়ে হেঁটে বাজারের সামনের সড়কের অংশটি দু’মিনিটে আর যানবাহন মূহূর্তেই পাড় হওয়ার কথা। অথচ হাটের দিন (রোববার) হলে ২০-২৫ মিনিট অথবা আরও বেশি সময় লেগে যায়। তীব্র যানজট ও গাড়ি থেকে পশু ওঠানামার দৃশ্য দেখে এটি পশুর হাট নাকি খোদ মহাসড়কটি পশুর হাটের ভেতরে দিয়ে কিশোরগঞ্জের দিকে চলে গেছে তা ঠাহর করা যায় না।

জানা যায়, পশুর হাটটি নান্দাইল উপজেলার মুশুলি ইউনিয়নে অবস্থিত। দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যে ইজারা ডাক হলেও বাজারের পরিধি আগের মতো খুবই ছোট। এক সময় ছোট এই হাটে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঈদকে কেন্দ্র করে ইজারা ডাক ছাড়াই গরুর হাট বসিয়েছিলেন। পরে হাটটি ইজারা ডাকের আওতায় আসে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য এক দশক আগের তুলনায় মেরেঙ্গা বাজারে গবাদিপশুর ক্রেতা-বিক্রেতার আগমনের হার শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাজারের পরিধি সে অনুযায়ী বৃদ্ধি পায়নি। ফলে হাটের দিন গরুর ভিড় মহাসড়ক পর্যন্ত উঠে যায়। গরুবাহী শত শত যানবাহন সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফলে দুই লেনের সড়কটি সরু হয়ে পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া হাটের দিন গরু-ছাগলের পয়োবর্জ্যে সড়কজুড়ে তৈরি হয় এক নোংরা পরিবেশ। সড়কটি তখন পিচ্ছিল হয়ে যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটের চারপাশে গ্রামের লোকজনের কৃষি জমি রয়েছে। সেখানে বিক্রেতাদের গরু রাখার সুবিধা নেই। তাই বাজারের ভেতর বা সড়কের কাছাকাছি গরু রাখতে হয়। হাট কর্তৃপক্ষ আমাদের জায়গা করে দিলে সেখানেই গরু রাখা হবে।

একটি ট্রাকের চালক মো. মনির মিয়া (৪০) জানান, মেরেঙ্গা বাজারের গরুর হাটের জন্য তীব্র যানজট দেখা দেয়। বাস চালক মো. খোকন মিয়া বলেন, হাটের দিন হলেই যানজটের জন্য বাসের টাইম ঠিক রাখা সম্ভব হয় না।

মেরেঙ্গা বাজারের ইজারাদার মো. মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, প্রতি হাটের দিন সড়কের যানজট নিরসনে প্রায় ১৮-২০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রাম পুলিশের ১০-১২ জন সদস্যকে নিয়োজিত রাখা হয়। তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান করে যানজট নিরসনে কাজ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তারের মোবাইল ফোনে রাজনীতি ডটকমকে বলেন, তিনি মেরেঙ্গা বাজারের ইজারাদারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন। হাটের কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে না।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোরে জেলার দাউদকান্দি, বুড়িচং (নিমসার), চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

১২ ঘণ্টা আগে

শখের বসে হলুদ তরমুজ চাষ, সফল মৌলভীবাজারের খোর্শেদ

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলার ডোমাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা পরিবেশ ও সংবাদকর্মী খোর্শেদ আলম। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে হলুদ তরমুজ চাষাবাদের শখ জাগে তার। পরীক্ষামূলকভাবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো এই তরমুজ চাষ করে সফল হন তিনি। এর পর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

১৪ ঘণ্টা আগে

ক্রেতা সংকটে আমতলীর তরমুজ চাষিরা, শতকোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

বাম্পার ফলন হলেও ক্রেতা সংকটে বিপাকে পড়েছেন বরগুনার আমতলীর তরমুজ চাষিরা। বড় পাইকার না থাকায় উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করতে না পেরে চাষিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এ অবস্থায় উপজেলায় অন্তত শতকোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

তালতলীতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান

বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভবনের সংকটে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে। সাম্প্রতিক ঝড়ে বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের টিনের চালা উড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এখন গাছতলায়, কখনও রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

১৫ ঘণ্টা আগে