
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের খামারগুলোতে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খামারে খামারে চলছে গবাদিপশুর পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা। বিস্তীর্ণ মাঠ, সবুজ চরাঞ্চল, গৃহস্থের উঠান আর বাণিজ্যিক খামারগুলোতে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই। কোরবানির পশু ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে গ্রামীণ জনপদেও।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার কিশোরগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি গবাদিপশু। এর বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি পশুর। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত থাকবে প্রায় ৩৯ হাজার ২২১টি পশু। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে জেলার বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ৭৫ হাজার ২৬৭টি ষাঁড়, ৪ হাজার ১৩৪টি বলদ, ১৭ হাজার ৮৮৬টি গাভী, ৩ হাজার ৮৩৬টি মহিষ, ৮৪ হাজার ৯৪৩টি ছাগল এবং ৫ হাজার ২৯৮টি ভেড়া। জেলার প্রায় ৫৩৩টি খামারে বাণিজ্যিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।
গত এক দশকে কিশোরগঞ্জে গবাদিপশু পালনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। একসময় শুধুমাত্র পারিবারিক প্রয়োজনেই গরু-ছাগল পালন করা হলেও এখন তা রূপ নিয়েছে লাভজনক বাণিজ্যিক খাতে। অনেক শিক্ষিত তরুণ বেকারত্ব দূর করতে গড়ে তুলছেন আধুনিক খামার। এতে যেমন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি শক্তিশালী হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার খামার ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ১৫০টি, কোথাও ২৫০টি, আবার কোনো কোনো বড় খামারে ৩০০টিরও বেশি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। খামার জুড়ে দেখা গেছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিয়মিত পরিচর্যা ও ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। শ্রমিকরা গরুকে গোসল করাচ্ছেন, পুষ্টিকর খাবার দিচ্ছেন এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।
খামারগুলোর ভেতরে এখন যেন ছোট ছোট কোরবানির হাটের আবহ তৈরি হয়েছে। খামারিদের ভাষ্য, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তারা পশুগুলো বড় করেছেন। ঈদুল আজহা তাদের কাছে শুধু ব্যবসার মৌসুম নয়, ধর্মীয় আবেগ ও আত্মতৃপ্তিরও একটি উপলক্ষ্য। খামারিদের আশা, ভারতীয় গরু আমদানি সীমিত থাকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
অনেক খামারি জানান, ঈদের কয়েক মাস আগ থেকেই তারা পশুর খাদ্য, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণের কারণে কিশোরগঞ্জের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও দিন দিন বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা খামারে এসে পশু কিনছেন।
তানভীর আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘হাট থেকে গরু কিনলে হাসিল, পরিবহনসহ নানা খরচ থাকে। তাছাড়া খামারে এসে পশু দেখলে বোঝা যায় কীভাবে লালন-পালন করা হয়েছে। এতে আস্থা বাড়ে। হাটের তুলনায় খামার থেকে পশু কেনা অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কিশোরগঞ্জে প্রতি বছরই কোরবানির চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়। কিশোরগঞ্জের গবাদিপশু প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা হয় বলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বছর বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রায় হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খামারিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের তদারকির কারণে এখন মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে সচেতন হয়েছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহারের বিরুদ্ধে পুরো জেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
রাজনীতি/আইআর

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের খামারগুলোতে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খামারে খামারে চলছে গবাদিপশুর পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা। বিস্তীর্ণ মাঠ, সবুজ চরাঞ্চল, গৃহস্থের উঠান আর বাণিজ্যিক খামারগুলোতে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই। কোরবানির পশু ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে গ্রামীণ জনপদেও।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার কিশোরগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি গবাদিপশু। এর বিপরীতে জেলার মোট চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি পশুর। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত থাকবে প্রায় ৩৯ হাজার ২২১টি পশু। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে জেলার বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ৭৫ হাজার ২৬৭টি ষাঁড়, ৪ হাজার ১৩৪টি বলদ, ১৭ হাজার ৮৮৬টি গাভী, ৩ হাজার ৮৩৬টি মহিষ, ৮৪ হাজার ৯৪৩টি ছাগল এবং ৫ হাজার ২৯৮টি ভেড়া। জেলার প্রায় ৫৩৩টি খামারে বাণিজ্যিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।
গত এক দশকে কিশোরগঞ্জে গবাদিপশু পালনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। একসময় শুধুমাত্র পারিবারিক প্রয়োজনেই গরু-ছাগল পালন করা হলেও এখন তা রূপ নিয়েছে লাভজনক বাণিজ্যিক খাতে। অনেক শিক্ষিত তরুণ বেকারত্ব দূর করতে গড়ে তুলছেন আধুনিক খামার। এতে যেমন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি শক্তিশালী হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার খামার ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ১৫০টি, কোথাও ২৫০টি, আবার কোনো কোনো বড় খামারে ৩০০টিরও বেশি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। খামার জুড়ে দেখা গেছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিয়মিত পরিচর্যা ও ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। শ্রমিকরা গরুকে গোসল করাচ্ছেন, পুষ্টিকর খাবার দিচ্ছেন এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।
খামারগুলোর ভেতরে এখন যেন ছোট ছোট কোরবানির হাটের আবহ তৈরি হয়েছে। খামারিদের ভাষ্য, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তারা পশুগুলো বড় করেছেন। ঈদুল আজহা তাদের কাছে শুধু ব্যবসার মৌসুম নয়, ধর্মীয় আবেগ ও আত্মতৃপ্তিরও একটি উপলক্ষ্য। খামারিদের আশা, ভারতীয় গরু আমদানি সীমিত থাকলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
অনেক খামারি জানান, ঈদের কয়েক মাস আগ থেকেই তারা পশুর খাদ্য, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণের কারণে কিশোরগঞ্জের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও দিন দিন বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা খামারে এসে পশু কিনছেন।
তানভীর আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘হাট থেকে গরু কিনলে হাসিল, পরিবহনসহ নানা খরচ থাকে। তাছাড়া খামারে এসে পশু দেখলে বোঝা যায় কীভাবে লালন-পালন করা হয়েছে। এতে আস্থা বাড়ে। হাটের তুলনায় খামার থেকে পশু কেনা অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কিশোরগঞ্জে প্রতি বছরই কোরবানির চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়। কিশোরগঞ্জের গবাদিপশু প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা হয় বলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বছর বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রায় হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খামারিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের তদারকির কারণে এখন মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে সচেতন হয়েছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহারের বিরুদ্ধে পুরো জেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
রাজনীতি/আইআর

বগুড়া সদর উপজেলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ২০ জন অসচ্ছল নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
১৮ ঘণ্টা আগে
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। এ খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়াতে আগামী জাতীয় বাজেটে বিজ্ঞানের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
কৃষকরা জানান, হাওরের বিভিন্ন খাল খনন না হওয়ায় এ সকল খাল এখন জমি হয়ে গেছে। অষ্টগ্রামের হাওরের একমাত্র জোয়াইরা খাল ও কাটা খাল বন্ধ হয়ে গেছে। এ দুটি খালের কারণে অধিকাংশ জমি এখনো পানির নিচে।
২ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি গাজীপুরের আলোচিত পাঁচ হত্যা মামলার আসামি ফোরকানের (৪০) হতে পারে।
২ দিন আগে