
নাজমুল ইসলাম হৃদয়

প্রায় আট বছর পর ফের চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মোহাম্মদ মনজুর আলম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দলবদল এবং পরে অন্তরালে চলে যাওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক এই মেয়রকে নিয়ে এখন কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখে তার বাসায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আড়াই ঘণ্টা অবস্থান সব জল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
নগরীর কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎ ঘিরে চট্টগ্রামের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— তবে কি এনসিপির হাত ধরে আবারও রাজনীতিতে ফিরতে যাচ্ছেন ধনাঢ্য এই ব্যবসায়ী? বিএনপির সমর্থন নিয়ে চসিক মেয়রের দায়িত্ব পালন করা মনজুর আলম কি এবার এনসিপির ব্যানারে ফের নামবেন মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে?
এসব প্রশ্ন ও কৌতূহলের খুব স্পষ্ট জবাব মিলছে না। মনজুর আলম নিজে জানিয়েছেন, এখন আর রাজনীতিতে ফেরার ভাবনা তার নেই। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের রাজনীতিতে মনজুর আলমকে যুক্ত করা নিয়ে মুখ খুলছেন না। তবে চট্টগ্রাম এনসিপির নেতাদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনজুরকেই চট্টগ্রামের কাণ্ডারী করতে চান তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মনজুর আলমের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থাকলেও এই মুহূর্তেই বিএনপির তাকে দলে ফেরানোর কোনো সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও তিনি এখন রাজনীতি করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে মনজুর আলম রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে এনসিপি তার জন্য প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অবস্থান দৃঢ় করতে এনসিপিও তাকে কাজে লাগাতে পারে।
নতুন করে মনজুর আলম আলোচনায় আসেন বাংলা নববর্ষ বরণের দিনে, যেদিন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় যান। দুপুরে মনজুরের উত্তর কাট্টলীর ওই বাসায় গিয়ে হাসনাত বের হন শেষ বিকেল পেরিয়ে।
হাসনাত ওই বাসা থেকে বের হতে না হতেই ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া একদল বিক্ষুব্ধ তরুণের তোপের মুখে পড়েন। তারা প্রশ্ন তোলেন— বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হয়েও কেন হাসনাত আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন। ওই তরুণদের মধ্যে বড় অংশই ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এর আগে অবশ্য গত রমজানে এনসিপির ইফতার মাহফিলে অর্থায়ন করেছিলেন মনজুর আলম। এ ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে এবার যেভাবে মনজুর নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছেন, তা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ের পর এই প্রথম।
যাকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই মনজুর আলম কে? কেনই বা তাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এত আলোচনা?
পেশায় মনজুর আলমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু আওয়ামী লীগে। চসিকের কাউন্সিলর ছিলেন দীর্ঘ ১৭ বছর। পুরোটা সময়ই যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। চসিক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ‘গুরু’ও মানতেন।
২০১০ সালে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে দেন মনজুর। বিএনপিতে যোগ দিয়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ায় বিএনপিও পূর্ণ সমর্থন দেয় তাকে। নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন তারই ‘গুরু’ আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহিউদ্দিন। ‘গুরু মারা বিদ্যা’ প্রয়োগ করে সে নির্বাচনে জিতে আসেন মনজুর।
এরপর ২০১৫ সালেও চসিক মেয়র নির্বাচন করেন এই ব্যবসায়ী। বিএনপি আবারও সমর্থন দেয় তাকে। তবে এবার আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছিরের সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনি। তবে নির্বাচনে হেরে বিএনপি ছাড়েন মনজুর। ফের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন মনজুর। তবে শেষ পর্যন্ত দলটি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তার আসন চট্টগ্রাম-১০ থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করে মো. আফসারুল আমীনকে। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি, তবে ভোটে জিততে পারেননি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আলোচনা না থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এরই মধ্যে নির্বাচন কমিটি গঠন করেছে, যে কমিটি দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী বাছাই করছে। এরই মধ্যে ঢাকার দুটিসহ কুমিল্লা, রাজশাহী ও খুলনা সিটির জন্য প্রার্থী ঘোষণাও করেছে দলটি।
তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি এনসিপি। এ কারণেই মনজুরের বাসায় হাসনাতের আগমন আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের ও অভিজ্ঞ কোনো প্রার্থী খুঁজছে এনসিপি, যে তালিকায় মনজুর আলমের নাম সবার ওপরে।
এদিকে এনসিপির চট্টগ্রাম কমিটিও এখনো গঠিত হয়নি। এনসিপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, চট্টগ্রামে তাদের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদ প্রয়োজন, যিনি অনভিজ্ঞ দলটির রাজনীতির মাঠে ঢাল হয়ে থাকতে পারবেন। মনজুর আলমকে এ কারণেই পছন্দ করছেন তারা।
এনসিপির সঙ্গে মনজুর আলমের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে জানতে চাইলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘উনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র। দীর্ঘ সময় তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাঝে আবার কিছুটা নিষ্ক্রিয়ও হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি আমাদের দলের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে ওনার একটি সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়েছে।’
ওই বৈঠকে মনজুর আলমের এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়ে তেমন আলোচনা হয়নি জানিয়ে আদীব বলেন, ‘তিনি আমাদের দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মেয়র নির্বাচনের প্রার্থিতার বিষয়েও ওনার সঙ্গে আমাদের এখনো কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।’
মনজুর আলম নিজেও রাজনীতি ডটকমের প্রশ্নের জবাবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গুঞ্জনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এনসিপিতে যোগ দেওয়া বা সেখান থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে যে গুঞ্জনটি উঠেছে, সেটি হয়তো আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী অতিরঞ্জিত করে ছড়িয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
তার বাসায় হাসনাতের আগমনের হেতু তাহলে কী? মনজুর আলম বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে ওনাদের একটি প্রোগ্রামে এসেছিলেন। তখন উনার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। আমি উনাকে আমার বাসায় মধ্যাহ্নভোজের দাওয়াত দিই। তিনি এসেছিলেন, খাওয়া-দাওয়া করেছেন এবং বিকেলের দিকে চলে গেছেন। এর বাইরে ওনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো আলাপ হয়নি।’
তবে চট্টগ্রাম এনসিপির একজন নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে কিছুটা ভিন্ন সুর। তার ভাষ্য, মনজুরের বাসায় হাসনাত যাওয়ার আগে এনসিপির কেন্দ্র থেকে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়— এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও চসিক মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনজুর আলমকে নিয়ে তাদের ভাবনা কী। চট্টগ্রাম এনসিপির ওই নেতা বলেন, ‘মনজুর আলমকে নিয়ে আমাদের আপত্তির কারণ নেই। তার মতো অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী একজন নেতা এনসিপির রাজনীতির জন্য সহায়ক হবে।’
মনজুরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনের এই তুমুল আলোচনা খুব ইতিবাচকভাবে দেখছে না তার সাবেক দল বিএনপি। তাদের দলে মনজুরের আপাতত স্থান নেই বলেও জানাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক দল করার স্বাধীনতা রাখেন। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে আমাদের বিশেষ কোনো মন্তব্য নেই। তবে বিএনপির রাজনীতিতে তার পুনরায় ফিরে আসার বা যুক্ত হওয়ার সুযোগ বর্তমানে খুব একটা আছে বলে আমি মনে করি না।’
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, এই মুহূর্তে মনজুর আলমের খুব বেশি প্রভাব রয়েছে বলা যাবে না। সবশেষ যে রাজনৈতিক দলে তিনি ছিলেন, সেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। তাদের রাজনীতির মাঠে ফেরার পথও আপাতত বন্ধই থাকছে। ফলে মনজুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে যে বিএনপির সমর্থনে মনজুর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই বিএনপির দরজাও তার জন্য বন্ধই বলা চলে। বিএনপি নেতা নাজিমুর রহমান বলেন, ‘উনার সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব বা শত্রুতা নেই। তবে যেহেতু তিনি নিজ ইচ্ছায় বিএনপি ছেড়ে চলে গেছেন, তাই বর্তমানে তাকে আমাদের দলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার মতো কোনো কারণ অবশিষ্ট নেই।’
বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাস্তা বন্ধ থাকায় মনজুরের রাজনীতিতে ফেরার জন্য এনসিপি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অন্যদিকে চট্টগ্রামে এনসিপির ভিত্তি মজবুত করতে মনজুরের নেতৃত্ব সহায়ক হতে পারে। মনজুর-এনসিপি জুটি মোটের ওপর দুপক্ষের জন্যই ‘উইন-উইন’ সমীকরণ হতে পারে।
সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি তাকে (মনজুর আলম) প্রার্থী হিসেবে পাওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার যে প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি, তারই অংশ হিসেবে হয়তো তারা মনজুর আলমের মতো একজনকে খুঁজছে।’
এনসিপি ও মনজুর আলম উভয়েই একে অন্যের ‘প্রয়োজনীয়তা’ অনুভব করে থাকতে পারেন জানিয়ে অধ্যাপক নিজাম আরও বলেন, ‘এনসিপির জন্য সুবিধা হলো— তাদের বর্তমানে চট্টগ্রামে তেমন কোনো পরিচিত মুখ নেই। মনজুর আলমের মতো একজন অভিজ্ঞ ও পরিণত রাজনীতিবিদকে পেলে তারা রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে।’
‘অন্যদিকে মনজুর আলমের জন্যও এখন রাজনীতিতে সরব হওয়ার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। কারণ বড় দুই দল তাকে ওউন করছে না। ফলে এনসিপি তার জন্য একটি নতুন ক্ষেত্র হতে পারে। তবে এ ঘটনার ফলে চট্টগ্রামের সামগ্রিক রাজনীতিতে খুব বড় কোনো পরিবর্তন বা প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না,’— বলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও মনজুর আলম বারবারই দাবি করছেন, তিনি এখন কেবল একজন সমাজসেবক হিসেবে কাজ করতে চান। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এটি তিন দিন আগের একটি সাধারণ সৌজন্যমূলক ঘটনা। একজন মানুষের বাসায় অন্য কেউ আসতেই পারে— সেটি আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের খাতিরে হতে পারে। কিন্তু একটি সাধারণ বিষয়কে বারবার ইস্যু করা মোটেও ঠিক নয়। আমি আগেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছি, আবারও বলছি— এখানে রাজনীতির কোনো বিষয় ছিল না।’

প্রায় আট বছর পর ফের চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মোহাম্মদ মনজুর আলম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দলবদল এবং পরে অন্তরালে চলে যাওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক এই মেয়রকে নিয়ে এখন কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখে তার বাসায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আড়াই ঘণ্টা অবস্থান সব জল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
নগরীর কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎ ঘিরে চট্টগ্রামের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— তবে কি এনসিপির হাত ধরে আবারও রাজনীতিতে ফিরতে যাচ্ছেন ধনাঢ্য এই ব্যবসায়ী? বিএনপির সমর্থন নিয়ে চসিক মেয়রের দায়িত্ব পালন করা মনজুর আলম কি এবার এনসিপির ব্যানারে ফের নামবেন মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে?
এসব প্রশ্ন ও কৌতূহলের খুব স্পষ্ট জবাব মিলছে না। মনজুর আলম নিজে জানিয়েছেন, এখন আর রাজনীতিতে ফেরার ভাবনা তার নেই। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের রাজনীতিতে মনজুর আলমকে যুক্ত করা নিয়ে মুখ খুলছেন না। তবে চট্টগ্রাম এনসিপির নেতাদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মনজুরকেই চট্টগ্রামের কাণ্ডারী করতে চান তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মনজুর আলমের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থাকলেও এই মুহূর্তেই বিএনপির তাকে দলে ফেরানোর কোনো সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও তিনি এখন রাজনীতি করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে মনজুর আলম রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে এনসিপি তার জন্য প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অবস্থান দৃঢ় করতে এনসিপিও তাকে কাজে লাগাতে পারে।
নতুন করে মনজুর আলম আলোচনায় আসেন বাংলা নববর্ষ বরণের দিনে, যেদিন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় যান। দুপুরে মনজুরের উত্তর কাট্টলীর ওই বাসায় গিয়ে হাসনাত বের হন শেষ বিকেল পেরিয়ে।
হাসনাত ওই বাসা থেকে বের হতে না হতেই ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া একদল বিক্ষুব্ধ তরুণের তোপের মুখে পড়েন। তারা প্রশ্ন তোলেন— বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হয়েও কেন হাসনাত আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন। ওই তরুণদের মধ্যে বড় অংশই ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এর আগে অবশ্য গত রমজানে এনসিপির ইফতার মাহফিলে অর্থায়ন করেছিলেন মনজুর আলম। এ ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে এবার যেভাবে মনজুর নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় উঠে এসেছেন, তা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ের পর এই প্রথম।
যাকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই মনজুর আলম কে? কেনই বা তাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এত আলোচনা?
পেশায় মনজুর আলমের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু আওয়ামী লীগে। চসিকের কাউন্সিলর ছিলেন দীর্ঘ ১৭ বছর। পুরোটা সময়ই যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। চসিক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ‘গুরু’ও মানতেন।
২০১০ সালে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে দেন মনজুর। বিএনপিতে যোগ দিয়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ায় বিএনপিও পূর্ণ সমর্থন দেয় তাকে। নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন তারই ‘গুরু’ আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহিউদ্দিন। ‘গুরু মারা বিদ্যা’ প্রয়োগ করে সে নির্বাচনে জিতে আসেন মনজুর।
এরপর ২০১৫ সালেও চসিক মেয়র নির্বাচন করেন এই ব্যবসায়ী। বিএনপি আবারও সমর্থন দেয় তাকে। তবে এবার আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ জ ম নাছিরের সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনি। তবে নির্বাচনে হেরে বিএনপি ছাড়েন মনজুর। ফের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন মনজুর। তবে শেষ পর্যন্ত দলটি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তার আসন চট্টগ্রাম-১০ থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করে মো. আফসারুল আমীনকে। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি, তবে ভোটে জিততে পারেননি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আলোচনা না থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এরই মধ্যে নির্বাচন কমিটি গঠন করেছে, যে কমিটি দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী বাছাই করছে। এরই মধ্যে ঢাকার দুটিসহ কুমিল্লা, রাজশাহী ও খুলনা সিটির জন্য প্রার্থী ঘোষণাও করেছে দলটি।
তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি এনসিপি। এ কারণেই মনজুরের বাসায় হাসনাতের আগমন আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের ও অভিজ্ঞ কোনো প্রার্থী খুঁজছে এনসিপি, যে তালিকায় মনজুর আলমের নাম সবার ওপরে।
এদিকে এনসিপির চট্টগ্রাম কমিটিও এখনো গঠিত হয়নি। এনসিপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, চট্টগ্রামে তাদের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদ প্রয়োজন, যিনি অনভিজ্ঞ দলটির রাজনীতির মাঠে ঢাল হয়ে থাকতে পারবেন। মনজুর আলমকে এ কারণেই পছন্দ করছেন তারা।
এনসিপির সঙ্গে মনজুর আলমের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে জানতে চাইলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘উনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র। দীর্ঘ সময় তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাঝে আবার কিছুটা নিষ্ক্রিয়ও হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি আমাদের দলের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে ওনার একটি সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়েছে।’
ওই বৈঠকে মনজুর আলমের এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়ে তেমন আলোচনা হয়নি জানিয়ে আদীব বলেন, ‘তিনি আমাদের দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মেয়র নির্বাচনের প্রার্থিতার বিষয়েও ওনার সঙ্গে আমাদের এখনো কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।’
মনজুর আলম নিজেও রাজনীতি ডটকমের প্রশ্নের জবাবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গুঞ্জনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এনসিপিতে যোগ দেওয়া বা সেখান থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে যে গুঞ্জনটি উঠেছে, সেটি হয়তো আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী অতিরঞ্জিত করে ছড়িয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
তার বাসায় হাসনাতের আগমনের হেতু তাহলে কী? মনজুর আলম বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে ওনাদের একটি প্রোগ্রামে এসেছিলেন। তখন উনার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। আমি উনাকে আমার বাসায় মধ্যাহ্নভোজের দাওয়াত দিই। তিনি এসেছিলেন, খাওয়া-দাওয়া করেছেন এবং বিকেলের দিকে চলে গেছেন। এর বাইরে ওনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো আলাপ হয়নি।’
তবে চট্টগ্রাম এনসিপির একজন নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে কিছুটা ভিন্ন সুর। তার ভাষ্য, মনজুরের বাসায় হাসনাত যাওয়ার আগে এনসিপির কেন্দ্র থেকে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়— এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও চসিক মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনজুর আলমকে নিয়ে তাদের ভাবনা কী। চট্টগ্রাম এনসিপির ওই নেতা বলেন, ‘মনজুর আলমকে নিয়ে আমাদের আপত্তির কারণ নেই। তার মতো অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী একজন নেতা এনসিপির রাজনীতির জন্য সহায়ক হবে।’
মনজুরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনের এই তুমুল আলোচনা খুব ইতিবাচকভাবে দেখছে না তার সাবেক দল বিএনপি। তাদের দলে মনজুরের আপাতত স্থান নেই বলেও জানাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক দল করার স্বাধীনতা রাখেন। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে আমাদের বিশেষ কোনো মন্তব্য নেই। তবে বিএনপির রাজনীতিতে তার পুনরায় ফিরে আসার বা যুক্ত হওয়ার সুযোগ বর্তমানে খুব একটা আছে বলে আমি মনে করি না।’
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, এই মুহূর্তে মনজুর আলমের খুব বেশি প্রভাব রয়েছে বলা যাবে না। সবশেষ যে রাজনৈতিক দলে তিনি ছিলেন, সেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। তাদের রাজনীতির মাঠে ফেরার পথও আপাতত বন্ধই থাকছে। ফলে মনজুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে যে বিএনপির সমর্থনে মনজুর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই বিএনপির দরজাও তার জন্য বন্ধই বলা চলে। বিএনপি নেতা নাজিমুর রহমান বলেন, ‘উনার সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব বা শত্রুতা নেই। তবে যেহেতু তিনি নিজ ইচ্ছায় বিএনপি ছেড়ে চলে গেছেন, তাই বর্তমানে তাকে আমাদের দলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার মতো কোনো কারণ অবশিষ্ট নেই।’
বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাস্তা বন্ধ থাকায় মনজুরের রাজনীতিতে ফেরার জন্য এনসিপি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অন্যদিকে চট্টগ্রামে এনসিপির ভিত্তি মজবুত করতে মনজুরের নেতৃত্ব সহায়ক হতে পারে। মনজুর-এনসিপি জুটি মোটের ওপর দুপক্ষের জন্যই ‘উইন-উইন’ সমীকরণ হতে পারে।
সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি তাকে (মনজুর আলম) প্রার্থী হিসেবে পাওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার যে প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি, তারই অংশ হিসেবে হয়তো তারা মনজুর আলমের মতো একজনকে খুঁজছে।’
এনসিপি ও মনজুর আলম উভয়েই একে অন্যের ‘প্রয়োজনীয়তা’ অনুভব করে থাকতে পারেন জানিয়ে অধ্যাপক নিজাম আরও বলেন, ‘এনসিপির জন্য সুবিধা হলো— তাদের বর্তমানে চট্টগ্রামে তেমন কোনো পরিচিত মুখ নেই। মনজুর আলমের মতো একজন অভিজ্ঞ ও পরিণত রাজনীতিবিদকে পেলে তারা রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে।’
‘অন্যদিকে মনজুর আলমের জন্যও এখন রাজনীতিতে সরব হওয়ার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। কারণ বড় দুই দল তাকে ওউন করছে না। ফলে এনসিপি তার জন্য একটি নতুন ক্ষেত্র হতে পারে। তবে এ ঘটনার ফলে চট্টগ্রামের সামগ্রিক রাজনীতিতে খুব বড় কোনো পরিবর্তন বা প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না,’— বলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও মনজুর আলম বারবারই দাবি করছেন, তিনি এখন কেবল একজন সমাজসেবক হিসেবে কাজ করতে চান। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এটি তিন দিন আগের একটি সাধারণ সৌজন্যমূলক ঘটনা। একজন মানুষের বাসায় অন্য কেউ আসতেই পারে— সেটি আত্মীয়তা বা বন্ধুত্বের খাতিরে হতে পারে। কিন্তু একটি সাধারণ বিষয়কে বারবার ইস্যু করা মোটেও ঠিক নয়। আমি আগেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছি, আবারও বলছি— এখানে রাজনীতির কোনো বিষয় ছিল না।’

শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও মহিষের গাড়ি। ছোট শিশুদের রঙিন পোশাকে কৃষকের আদলে সাজিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।
৩ দিন আগে
অনলাইন জুয়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা খোয়ানোর পর দুধ দিয়ে গোসল করে জুয়া ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার এক যুবক।
৩ দিন আগে
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দিনটিকে স্বাগত জানায় রাজশাহীবাসী।
৩ দিন আগে
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলার কাজলা ভাঙ্গাপ্রেস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দিয়া শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বোন জয়া একটি মাদ্রাসার এবং ছোট ভাই মোয়াজ স্কুলশিক্ষার্থী।
৩ দিন আগে