মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর, পুলিশের ‘গাফিলতি’ খতিয়ে দেখবে ডিএমপি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুর, পুলিশের ‘গাফিলতি’ খতিয়ে দেখবে ডিএমপি

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে মিরপুর-১ নম্বরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। কমিশনার বলেন, ঘটনাটি আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মধ্যে ঘটানো সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল দেখে তার মনে হয়েছে, সময় নিয়ে স্থাপনাটি ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ভবনের দুই পাশের টিনশেড ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশেও ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভেতরে থাকা বিভিন্ন ডাটা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির অনেকগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির লোকজন জানিয়েছেন, এসব সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তিনি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে (ডিসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে নাম উল্লেখ থাকা একজনের পাশাপাশি আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই পুলিশ এ ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একটি ঘটনা প্রিভেন্ট করা, এটি তো অবশ্যই পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা দেখছি যে আমাদের পুলিশের এই ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। যেহেতু এটি গভীর রাতের ঘটনা, তো আমরা দেখছি যে পুলিশ জানার পরেও পুলিশ এখানে সময়মতো এসেছিল কিনা এবং তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা আছে কিনা।’

ডিএমপি কমিশনার জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ খবর পাওয়ার পর যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না, কিংবা দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে দারুস সালাম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজকের মধ্যেই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ওই সময় পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দাবি করেছেন, ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

রাজনৈতিক ইন্ধন বা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো দল বা মত বিবেচনায় নেওয়া হবে না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। কোনো ধরনের দখল, বেআইনি বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা জড়িত হিসেবে শনাক্ত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement