‘সাউন্ড বাইট’ দেবো না, কাজ করে দেখাব: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩৬
‘সাউন্ড বাইট’ দেবো না, কাজ করে দেখাব: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোনো ‘সাউন্ড বাইট’ দেবো না, বরং কাজ করে দেখাবো বলে আশ্বাস দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, রমজান এবং পরবর্তী সময়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও পরবর্তীসময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রমজান এলেই ‘সিন্ডিকেট’ প্রসঙ্গ সামনে আসে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ‘সাউন্ড বাইট’ দেবো না। ইনশাল্লাহ কাজ করে দেখাবো। বাজার তদারকি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”

রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করে, ফলে হঠাৎ করে ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং এর সাময়িক প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে।

অন্যদিকে রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্য থেকে আসে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন পণ্য যুক্ত করে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি জানান।

বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা দেশের নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রধান শর্ত হলো স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হয় যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দু-তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement