নেতাকর্মীদের ফেলে পালানোদের রাজনীতি করার অধিকার নেই: হাসনাত

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১৭: ২৮

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘যে দলের প্রধানরা দেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের ফেলে পালিয়ে যায়, তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।’

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে এনসিপি আয়োজিত এক পদযাত্রা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বেগমপাড়ায় আমাদের কোনো বাড়ি নেই, নেই কোনো গাড়ি। অথচ আমাদের মুরব্বিদের অনেকেরই সেখানে বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। তাদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করে, চিকিৎসা নিতে বিদেশে যায়। সাধারণ মানুষ দেশে চিকিৎসা নিলেও কিছু অসাধারণ মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি খাতে মেধাবীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এসএমই খাতকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি আগামী বাজেটে তরুণদের কর্মসংস্থান ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।’

পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘হাসিনার আমলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার কারণে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। বর্তমান সময়েও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না।’

চৌদ্দগ্রাম সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক সমস্যাকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ ও জাতির শত্রু এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। কিছু মাদক কারবারির সঙ্গে থানার অসাধু সদস্যদের সম্পর্ক রয়েছে, যা বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে আরও আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান তিনি।

জাতীয় যুব শক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মজুমদারের সঞ্চালনায় আয়োজিত পদযাত্রায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাভীদ নওরোজ শাহ, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ, নেতা মাসুমুল কাউছার, জাহিদুল তালুকদার, মো. হানিফ পাটোয়ারী ও আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।

রাজনীতি/একে

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

এনসিপির সমাবেশে হামলার নিন্দা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির, দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল হামলা এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন এ হামলার দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

৩ দিন আগে

এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ: জামায়াতের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের

রাশেদ খাঁন লেখেন, “আমরা না হয় বিরোধিতা বা সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু একসঙ্গে একজোটে থেকে কীভাবে এনসিপির উত্থান ও জাগরণ ঠেকাতে জাশি (জামায়াত-শিবির) এমন ফ্রেমিং করা শুরু করলো? যেখানে জাশির (জামায়াত-শিবির) পক্ষ থেকে বিবৃতি বা বিক্ষোভ করে জোটসঙ্গীদের পাশে থাকার কথা ছিল।”

৩ দিন আগে

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

৩ দিন আগে

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ, প্রশাসনের সহায়তায় বোমা হামলার অভিযোগ নাহিদের

নাহিদ আরও বলেন, কে বোমা হামলা করেছে, আমরা জানি না। আমরা জানি, এর দায় হলো প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের। ফলে আমরা এখানকার পুলিশ-প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা চাইব— কেন তারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে? তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা কীভাবে বোমা হামলা করার সুযোগ পেল?

৪ দিন আগে