বিরোধীদের ইফতার, সরকারের উপহার

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে রমজান মাসে ইফতার পার্টি আয়োজন করা স্বাভাবিক রেওয়াজ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পরে তাতে কিছুটা ছেদ পড়ে।

মহামারীর প্রকোপ কমার পর আবার পুরোদমে শুরু হয় ইফতার পার্টি, যা ঘিরে মূলত রমজান মাসে বাংলাদেশের রাজনীতি সরগরম থাকে। কিন্তু অর্থনেতিক মন্দার কারণে এবার ইফতার পার্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং প্রশাসনসহ আর্থিক খাত, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন ইফতার করা থেকে বিরত থাকে। তবে ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের পক্ষ থেকে দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে সরকারি দলের ইফতার পার্টি আয়োজন না করার এই সিদ্ধান্তের পাল্টা অবস্থান নিয়ে এবার বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যরা ব্যাপক ইফতার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে সরকার ও সরকারি দলের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা।

ঢাকাসহ সারাদেশে এবার যতো ইফতার মাহফিল বিএনপি করেছে, তা যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

পাশাপাশি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কারা নির্যাতিত, গুম-খুনের শিকার হওয়া নেতাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঈদ উপহারও বিতরণ করেছে দলটি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশের জেলা-উপজেলায় ইফতার পার্টি আয়োজনের মাধ্যমে গণসংযোগের কাজ করেছে বিএনপি। দলীয় রীতি অনুযায়ী রোজার প্রথম দিনে এতিম-ওলামা-মাশায়েখদের নিয়ে ইফতার করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার পার্টি করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করার পর হতাশ নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ধর্মীয় এই অনুষ্ঠান বেশ খানিকটা প্রভাব রাখতে পেরেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

ওই সব ইফতার পার্টিতে দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল না হারানো এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ছিলো শীর্ষ পর্যায় থেকে। প্রত্যেক দিন এক বা একাধিক অনুষ্ঠানে অনলাইনে লন্ডন থেকে যুক্ত হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান রাজনীতি ডট কমকে বলেন, “এবার ইফতারের আয়োজন বেশি ছিল। সারা দেশে জেলা-উপজেলা সব জায়গায় স্থানীয় নেতারা তাদের মতো করে এই আয়োজন করেছে।

ইফতারের সঙ্গে ইসলাম ধর্মের সম্পর্ক আছে। দোয়া মাহফিল হয়েছে। দলের অসুস্থ চেয়ারপারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করা হয়েছে। এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ ও গণসংযোগের কাজও হয়েছে।”

এদিকে ইফতার পার্টিতে অপচয় না করে সেই অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে মাসজুড়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইফতার ও ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করে আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচি থেকে বিরোধীদের ইফতার পার্টি আয়োজন করার সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

তাদের দাবি, দেশের মানুষের দুঃসময়ে এ ধরনের পার্টি না করে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে সঠিক কাজ করেছে আওয়ামী লীগ। পক্ষান্তরে বিএনপি মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে পার্টি করেই দায়িত্ব শেষ করেছে।

ইফতার পার্টি না করার যুক্তি হিসেবে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, “করোনার প্রভাব ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সবার উপার্জন সমান নয়। তাই এ ধরনের পার্টি না করে এবং অপচয় কমিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ইফতার পার্টি না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওনার এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে।”

২০২০ সালে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ইফতার পার্টি আয়োজনে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছিলো সরকার। পরবর্তীতে করোনা সংক্রমণের হার কমে আসলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় আবারও ইফতার পার্টি না করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রতি বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইফতার পার্টি আয়োজনের রীতি থাকলেও এবার উল্লেখযোগ্য হারে তা কমেছে।

রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মানে রমজানের প্রায় প্রতিদিনই ইফতার পার্টির আয়োজন থাকতো প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে, এবার তা হয়নি।

ইফতার পার্টি করা বা না করার রাজনীতি বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি করে।

সরকারের নীতি অনুসরণ করে দেশের দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইফতার পার্টি আয়োজন না করতে বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে সমালোচনার মুখে বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট যে কেউ নিজেদের অর্থায়নে ইফতার পার্টির আয়োজন করতে পারবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন নিষেধ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘গণ-ইফতার’ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া গণ-ইফতার কর্মসূচি পালন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সরকার ও সরকারি দলের এই ঘোষণার পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়।

এরই মধ্যে রমজান মাস প্রায় শেষের পথে, এখন অপেক্ষা ঈদের। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানেই ধনী-গরীব ভেদাভেদ ভুলে পরস্পরকে বুকে টেনে নেয়ার উজ্জলতম খুশির দিন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের অনন্য প্রতীক : দুদু

আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (ডুয়া) উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

৯ ঘণ্টা আগে

বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য দারুস-সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিক সাজুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

১০ ঘণ্টা আগে

তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের বৈঠক

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ১২ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিমসহ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

১০ ঘণ্টা আগে

কুমিল্লায় তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভা ২৪ জানুয়ারি

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারে আগামী ২৪ জানুয়ারি কুমিল্লায় আসছেন। তারেক রহমানের আগমন কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়াবে।

১০ ঘণ্টা আগে