
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে ‘ওয়ান বক্স’ নীতির অধীনে জোটবদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামী দল। ভোটের গাড়ি চলতে চলতে সে জোটে একে একে যুক্ত হয় ১১টি দল, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সবশেষ ও সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন।
এই জোটের সব দলের ভোট এক বাক্সে আনার এই উদ্যোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দুই সপ্তাহেরও কম সময় থাকলেও দলগুলোর মধ্যে আসন নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে, ১১ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত টিকে না-ও থাকতে পারে। ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে বরং নতুন কোনো জোটের আত্মপ্রকাশও হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটে রয়েছে— বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, এবি পার্টি ও এলডিপি।
গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে এই জোটের নির্বাচনি আসন সমঝোতার বিষয়টি। বিশেষ করে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় জোট থেকে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছিল না।
এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিনভর ও রাতেও দলগুলো নিজেরা ও জোটের মাঝে আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে। তাতে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ধাপের দিকে পৌঁছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান ফেসবুক পোস্টে জানান বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জোটের চূড়ান্ত আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
পরে বুধবার সকালেও ১১ দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়েছিল, বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে (দ্বিতীয় তলা) সংবাদ সম্মেলন করা হবে। দুপুর ২টার দিকেই আরেক বার্তায় ‘অনিবার্য কারণে’ সেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণাও আসে।
১১ দল সূত্রে জানা গেছে, বুধবারের সংবাদ সম্মেলন থেকেই আসন সমঝোতার হিসাব তুলে ধরার কথা ছিল। জোটের পক্ষ থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসন নিয়ে শেষ পর্যন্ত দলগুলো একমত হতে পারেনি বলেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে হয়েছে।
১১ দলীয় এই জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আসন সমাঝোতার ক্ষেত্রে জটিলতার বড় অংশে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি বুধবার দুপুর থেকে দীর্ঘ সময় নিয়ে বৈঠক করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে ১১ দলীয় জোটের টিকে না থাকা ও নতুন জোটের ইঙ্গিত।
বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্যেই তারা ১১ দলীয় জোটেরও অংশ হয়। দলটির একটি সূত্র বলছে, শতাধিক আসনের প্রত্যাশা নিয়ে জোটে যোগ দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু প্রথম ধাপে তাদের ৩৫টি আসনের কথা বলা হয়। পরে আরও পাঁচটিসহ ৪০টি আসনে সমঝোতার কথা হয়। ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসনে নেমে এলেও সে চাহিদা পূরণ হয়নি। এ অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীরা এত কম আসনে সমঝোতা মেনে নিতে পারছেন না।
জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর বলেন, আশা করা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সেটি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল (মঙ্গলবার) বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ মজলিসে আমেলার (দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম) বৈঠক হয়েছে।
সার্বিকভাবে ভোটের জন্য যে ‘ওয়ান বক্স’ নীতিমালা শুরু থেকে অনুসরণ করতে চেয়েছে ইসলামী আন্দোলন, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে বলে জানান গাজী আতাউর। বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
আসন সমঝোতাই কেবল নয়, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সংশয়ও রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের, যেগুলোও জোট নিয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সাক্ষাতের ঘটনাটি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সহমর্মিতা জানাতে ১ জানুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে ওই সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবেন তারা। জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে পাঁচ বছরের জন্য সবাই মিলে কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা করার কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই সবাই বসে খোলা মনে কথা বলবেন বলে আশাবাদ জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে এ প্রসঙ্গ টেনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতের আমির ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করতে আলোচনা করবেন। এ আলোচনা নির্বাচনের পরও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। জামায়াতের আমির বলেছেন, খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের ওপরে দাঁড়িয়ে তারা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন।
সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের এই মুখপাত্র বলেন, সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলেছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে?
এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন এখনো নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। দলটির মধ্যে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষেও মত রয়েছে কারও কারও। ভোটের আলোচনায় শুরুতে আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা পাঁচ ইসলামী দলের সঙ্গে জোটের পক্ষেও রয়েছেন দলের কোনো কোনো নেতা। ১১ দলের বাইরের আরও কিছু দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে জানান গাজী আতাউর।
আবার ১১ দল বা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে— এমনটি বলছে না ইসলামী আন্দোলন। গাজী আতাউর বলেন, আলোচনা থেকে কারও বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের ওপর কারও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
কেবল ইসলামী আন্দোলন নয়, ১১ দলের সঙ্গে শেষ দিকে যুক্ত হওয়া এনসিপিতেও আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শুরুতে জানা যায়, এনসিপিকে ৩০টি সংসদীয় আসন দেওয়া হবে নির্বাচনের জন্য। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে, এনসিপিকে হয়তো ১০ থেকে ১৫টি আসন দেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে এনসিপিতেও অসন্তোষ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামপন্থিদের ‘ওয়ান বক্স’ নীতি এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। এ ইস্যুতে এখন নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠেছে বড় ইস্যু। বিশেষ করে জোটে ১১টি দল থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে ১৯০ থেকে ২১০টি আসনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করার ঝোঁক অন্যদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। ফলে ইসলামপন্থি দলগুলোর সবার ভোট এক বাক্সে পড়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে ‘ওয়ান বক্স’ নীতির অধীনে জোটবদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি ইসলামী দল। ভোটের গাড়ি চলতে চলতে সে জোটে একে একে যুক্ত হয় ১১টি দল, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সবশেষ ও সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন।
এই জোটের সব দলের ভোট এক বাক্সে আনার এই উদ্যোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দুই সপ্তাহেরও কম সময় থাকলেও দলগুলোর মধ্যে আসন নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে, ১১ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত টিকে না-ও থাকতে পারে। ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে বরং নতুন কোনো জোটের আত্মপ্রকাশও হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটে রয়েছে— বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, এবি পার্টি ও এলডিপি।
গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে এই জোটের নির্বাচনি আসন সমঝোতার বিষয়টি। বিশেষ করে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় জোট থেকে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছিল না।
এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিনভর ও রাতেও দলগুলো নিজেরা ও জোটের মাঝে আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে। তাতে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত ধাপের দিকে পৌঁছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান ফেসবুক পোস্টে জানান বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জোটের চূড়ান্ত আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
পরে বুধবার সকালেও ১১ দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়েছিল, বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে (দ্বিতীয় তলা) সংবাদ সম্মেলন করা হবে। দুপুর ২টার দিকেই আরেক বার্তায় ‘অনিবার্য কারণে’ সেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণাও আসে।
১১ দল সূত্রে জানা গেছে, বুধবারের সংবাদ সম্মেলন থেকেই আসন সমঝোতার হিসাব তুলে ধরার কথা ছিল। জোটের পক্ষ থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসন নিয়ে শেষ পর্যন্ত দলগুলো একমত হতে পারেনি বলেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে হয়েছে।
১১ দলীয় এই জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আসন সমাঝোতার ক্ষেত্রে জটিলতার বড় অংশে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি বুধবার দুপুর থেকে দীর্ঘ সময় নিয়ে বৈঠক করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে ১১ দলীয় জোটের টিকে না থাকা ও নতুন জোটের ইঙ্গিত।
বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্যেই তারা ১১ দলীয় জোটেরও অংশ হয়। দলটির একটি সূত্র বলছে, শতাধিক আসনের প্রত্যাশা নিয়ে জোটে যোগ দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু প্রথম ধাপে তাদের ৩৫টি আসনের কথা বলা হয়। পরে আরও পাঁচটিসহ ৪০টি আসনে সমঝোতার কথা হয়। ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসনে নেমে এলেও সে চাহিদা পূরণ হয়নি। এ অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীরা এত কম আসনে সমঝোতা মেনে নিতে পারছেন না।
জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর বলেন, আশা করা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সেটি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল (মঙ্গলবার) বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ মজলিসে আমেলার (দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম) বৈঠক হয়েছে।
সার্বিকভাবে ভোটের জন্য যে ‘ওয়ান বক্স’ নীতিমালা শুরু থেকে অনুসরণ করতে চেয়েছে ইসলামী আন্দোলন, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে বলে জানান গাজী আতাউর। বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
আসন সমঝোতাই কেবল নয়, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সংশয়ও রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের, যেগুলোও জোট নিয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সাক্ষাতের ঘটনাটি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সহমর্মিতা জানাতে ১ জানুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে ওই সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবেন তারা। জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে পাঁচ বছরের জন্য সবাই মিলে কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা করার কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই সবাই বসে খোলা মনে কথা বলবেন বলে আশাবাদ জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে এ প্রসঙ্গ টেনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতের আমির ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করতে আলোচনা করবেন। এ আলোচনা নির্বাচনের পরও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। জামায়াতের আমির বলেছেন, খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের ওপরে দাঁড়িয়ে তারা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন।
সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের এই মুখপাত্র বলেন, সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলেছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে?
এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন এখনো নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। দলটির মধ্যে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষেও মত রয়েছে কারও কারও। ভোটের আলোচনায় শুরুতে আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা পাঁচ ইসলামী দলের সঙ্গে জোটের পক্ষেও রয়েছেন দলের কোনো কোনো নেতা। ১১ দলের বাইরের আরও কিছু দলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে জানান গাজী আতাউর।
আবার ১১ দল বা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে— এমনটি বলছে না ইসলামী আন্দোলন। গাজী আতাউর বলেন, আলোচনা থেকে কারও বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের ওপর কারও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
কেবল ইসলামী আন্দোলন নয়, ১১ দলের সঙ্গে শেষ দিকে যুক্ত হওয়া এনসিপিতেও আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শুরুতে জানা যায়, এনসিপিকে ৩০টি সংসদীয় আসন দেওয়া হবে নির্বাচনের জন্য। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে, এনসিপিকে হয়তো ১০ থেকে ১৫টি আসন দেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে এনসিপিতেও অসন্তোষ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামপন্থিদের ‘ওয়ান বক্স’ নীতি এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। এ ইস্যুতে এখন নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠেছে বড় ইস্যু। বিশেষ করে জোটে ১১টি দল থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে ১৯০ থেকে ২১০টি আসনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করার ঝোঁক অন্যদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। ফলে ইসলামপন্থি দলগুলোর সবার ভোট এক বাক্সে পড়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য দারুস-সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিক সাজুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ১২ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিমসহ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
৫ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারে আগামী ২৪ জানুয়ারি কুমিল্লায় আসছেন। তারেক রহমানের আগমন কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়াবে।
৫ ঘণ্টা আগে
এ সিদ্ধান্তের ফলে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সিলেট জেলা মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি খোদেজা রহিম কলি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেলেন। এ ছাড়া রংপুরের পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মো. ফরহাদ হোসেন অনুও তার হারানো পদ ফ
৭ ঘণ্টা আগে