
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা, রং করা হচ্ছে ফুটপাত, শহরকে সাজানো হচ্ছে চকচকে করে। শহর জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা ও উৎকণ্ঠার এক মিশ্র পরিবেশ। সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে একটি বৈঠক, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে যুদ্ধের শুরু, তার ঠিক ছয় সপ্তাহ পর হতে যাচ্ছে এই আলোচনা। এতে প্রধান অংশীদার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকছে পাকিস্তান। প্রেক্ষাপটে যুদ্ধে ইরান-লেবাননসহ অন্তত ১৫টি দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণহানি আর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের ঠিক ছয় সপ্তাহ পর এই আলোচনা হতে যাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে সারা বিশ্বের মানুষের প্রত্যাশা— দুই সপ্তাহের জন্য যে যুদ্ধবিরতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে, সেটি যুদ্ধে বন্ধের স্থায়ী রূপ পাবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলবে তেলবাহী জাহাজ; ছয় সপ্তাহ ধরে বৈশ্বিক যে জ্বালানি সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ পেয়েছে, ধীরে ধীরে সে সংকট কেটে যাবে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের মারগাল্লা পাহাড়ঘেরা রাজধানী ইসলামাবাদ প্রস্তুত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আতিথ্য দিতে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এ আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির জাতীয় সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফের। তারাসহ দুই দেশের আর যেসব প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, তাদের আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর পর এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ৮ এপ্রিল জানায়, আলোচনা ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ সময় পর্যন্ত ইসলামাবাদেই অবস্থান করতে পারেন, অথবা কিছু সদস্য সেখানে অবস্থান করতে পারেন এবং বাকিরা আলোচনার জন্য যাওয়া-আসার মধ্যে থাকতে পারেন।
ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ (কূটনৈতিক এলাকা) অবস্থিত সেরেনা হোটেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে এ আলোচনার জন্য। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রোববার পর্যন্ত সময়ের জন্য হোটেলটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ৯ ও ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, কেবল পুলিশ, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এ ছুটির অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। পুরো শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, রেড জোন সিল করা হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। উইটকফ ও কুশনার এর আগেও ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইরানের গণমাধ্যমগুলোর খবর বলছে, তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিতে পারেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কোনো প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গালিবাফ অবশ্য নিজেই সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, দুপক্ষ থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে আলোচনায় প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।

জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমে দুপক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করবেন। পুরো আলোচনার সমন্বয় করবেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এরপর দুপক্ষকে নিয়ে শুরু হবে আলোচনা। এ ক্ষেত্রে দুপক্ষকে শারীরিকভাবে মুখোমুখি করা হবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে বসবেন। এ সময় পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুপক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন। অর্থাৎ এটি সরাসরি নয়, বরং ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ ধরনের আলোচনা হতে পারে।
এর আগের দফায় ওমানের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে উইটকফ ও কুশনারের ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান ইরান। কারণ ওই আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে এবারের আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত করা হচ্ছে। কারণ ভ্যান্স ব্যক্তিগতভাবে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছিলেন বলে খবর এসেছে। এ ছাড়া তিনি সংঘাত কমাতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছে মার্কিন কূটনৈতিক বিভিন্ন সূত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। দেশটির সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। এ ছাড়া পাকিস্তানে বসবাসরত শিয়াদের সংখ্যা সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, যা শিয়া অধ্যুষিত তেহরানের কাছে দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই, যা ইরানের কাছে এটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। আবার ২০০৪ সাল থেকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৬ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফর করেননি। আবার ২০১১ সালের পর কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টও যাননি পাকিস্তানে। সেদিক থেকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ও পাকিস্তান সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বড় ধরনের মতপার্থক্য নিয়েই বসছে আলোচনায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরানকে। পরে ইরান যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার জন্য ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—
যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। বরং তারা দাবি করছে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে রাজি, যা তেহরান অস্বীকার করছে।

৪০ দিন পর যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান যুদ্ধে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে লেবানন। দেশটির সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই ইরানপন্থি ও ইরানের প্রত্যক্ষ সমর্থনেই পরিচালিত হয়ে আসছে। সংগঠনটির সঙ্গে ইসরায়েলের শত্রুতাও নতুন নয়।
এবারের ইরান যুদ্ধে ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েল হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলও পালটা হামলা চালায় লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে। তবে ইসরায়েলের সেসব হামলা হিজবুল্লাহর স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল না, লেবাননের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকাও ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এই লেবাননই এখন আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিভাজনের নিয়ামক হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান জানিয়েছিল, লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ইরান এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে লেবাননে হামলা বন্ধ থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে সে আলোচনা ভেস্তে যেতে সময় লাগবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ দুপক্ষের মধ্যেই অবিশ্বাসের বীজ অনেক গভীরে প্রোথিত। তবে পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে সমঝোতায় কিছুটা অগ্রগতি হতে পারে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে— চুক্তির ‘গ্যারান্টর’ কে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একক দেশ এই দায়িত্ব নিতে চাইবে না। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই আলোচনা জটিল ও দীর্ঘ হতে পারে। তবে যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে এবং দুপক্ষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আলোচনায় অগ্রসর হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।
[আল জাজিরার প্রতিবেদন অবলম্বনে]

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা, রং করা হচ্ছে ফুটপাত, শহরকে সাজানো হচ্ছে চকচকে করে। শহর জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা ও উৎকণ্ঠার এক মিশ্র পরিবেশ। সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে একটি বৈঠক, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে যুদ্ধের শুরু, তার ঠিক ছয় সপ্তাহ পর হতে যাচ্ছে এই আলোচনা। এতে প্রধান অংশীদার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকছে পাকিস্তান। প্রেক্ষাপটে যুদ্ধে ইরান-লেবাননসহ অন্তত ১৫টি দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণহানি আর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের ঠিক ছয় সপ্তাহ পর এই আলোচনা হতে যাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে সারা বিশ্বের মানুষের প্রত্যাশা— দুই সপ্তাহের জন্য যে যুদ্ধবিরতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে, সেটি যুদ্ধে বন্ধের স্থায়ী রূপ পাবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলবে তেলবাহী জাহাজ; ছয় সপ্তাহ ধরে বৈশ্বিক যে জ্বালানি সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ পেয়েছে, ধীরে ধীরে সে সংকট কেটে যাবে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের মারগাল্লা পাহাড়ঘেরা রাজধানী ইসলামাবাদ প্রস্তুত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আতিথ্য দিতে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এ আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির জাতীয় সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফের। তারাসহ দুই দেশের আর যেসব প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, তাদের আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর পর এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ৮ এপ্রিল জানায়, আলোচনা ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এ সময় পর্যন্ত ইসলামাবাদেই অবস্থান করতে পারেন, অথবা কিছু সদস্য সেখানে অবস্থান করতে পারেন এবং বাকিরা আলোচনার জন্য যাওয়া-আসার মধ্যে থাকতে পারেন।
ইসলামাবাদের ‘রেড জোনে’ (কূটনৈতিক এলাকা) অবস্থিত সেরেনা হোটেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে এ আলোচনার জন্য। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রোববার পর্যন্ত সময়ের জন্য হোটেলটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ৯ ও ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, কেবল পুলিশ, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এ ছুটির অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। পুরো শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, রেড জোন সিল করা হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। উইটকফ ও কুশনার এর আগেও ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইরানের গণমাধ্যমগুলোর খবর বলছে, তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিতে পারেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কোনো প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গালিবাফ অবশ্য নিজেই সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, দুপক্ষ থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে আলোচনায় প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।

জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমে দুপক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করবেন। পুরো আলোচনার সমন্বয় করবেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এরপর দুপক্ষকে নিয়ে শুরু হবে আলোচনা। এ ক্ষেত্রে দুপক্ষকে শারীরিকভাবে মুখোমুখি করা হবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে বসবেন। এ সময় পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুপক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন। অর্থাৎ এটি সরাসরি নয়, বরং ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ ধরনের আলোচনা হতে পারে।
এর আগের দফায় ওমানের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে উইটকফ ও কুশনারের ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান ইরান। কারণ ওই আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে এবারের আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত করা হচ্ছে। কারণ ভ্যান্স ব্যক্তিগতভাবে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছিলেন বলে খবর এসেছে। এ ছাড়া তিনি সংঘাত কমাতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছে মার্কিন কূটনৈতিক বিভিন্ন সূত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। দেশটির সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। এ ছাড়া পাকিস্তানে বসবাসরত শিয়াদের সংখ্যা সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, যা শিয়া অধ্যুষিত তেহরানের কাছে দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই, যা ইরানের কাছে এটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। আবার ২০০৪ সাল থেকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৬ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফর করেননি। আবার ২০১১ সালের পর কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টও যাননি পাকিস্তানে। সেদিক থেকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ও পাকিস্তান সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বড় ধরনের মতপার্থক্য নিয়েই বসছে আলোচনায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরানকে। পরে ইরান যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার জন্য ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—
যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। বরং তারা দাবি করছে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে রাজি, যা তেহরান অস্বীকার করছে।

৪০ দিন পর যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান যুদ্ধে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে লেবানন। দেশটির সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই ইরানপন্থি ও ইরানের প্রত্যক্ষ সমর্থনেই পরিচালিত হয়ে আসছে। সংগঠনটির সঙ্গে ইসরায়েলের শত্রুতাও নতুন নয়।
এবারের ইরান যুদ্ধে ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েল হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলও পালটা হামলা চালায় লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে। তবে ইসরায়েলের সেসব হামলা হিজবুল্লাহর স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল না, লেবাননের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকাও ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এই লেবাননই এখন আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিভাজনের নিয়ামক হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান জানিয়েছিল, লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ইরান এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে লেবাননে হামলা বন্ধ থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে সে আলোচনা ভেস্তে যেতে সময় লাগবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ দুপক্ষের মধ্যেই অবিশ্বাসের বীজ অনেক গভীরে প্রোথিত। তবে পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে সমঝোতায় কিছুটা অগ্রগতি হতে পারে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে— চুক্তির ‘গ্যারান্টর’ কে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একক দেশ এই দায়িত্ব নিতে চাইবে না। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই আলোচনা জটিল ও দীর্ঘ হতে পারে। তবে যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে এবং দুপক্ষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আলোচনায় অগ্রসর হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।
[আল জাজিরার প্রতিবেদন অবলম্বনে]

মোতজবা খামেনি তার বার্তায় বলেন, এই যুদ্ধে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ’ এবং এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী জাতি’ও ইরানই। যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ আদায় করবে এবং এই যুদ্ধে আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করবে।
৪ ঘণ্টা আগে
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার বিচার আগামী রোববার আবার শুরু হচ্ছে। তার দাবি, যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
৫ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরান তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ফি আদায় করছে বলে খবর পাচ্ছি। তারা যেন এমনটা না করে। আর যদি করেও থাকে, তবে এখনই তা বন্ধ করতে হবে।’
৬ ঘণ্টা আগে
সেখানে পরবর্তী এক ঘণ্টায় নেতানিয়াহুর যে উপস্থাপনাটি করেন, তা বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল একটি অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) কেন্দ্রস্থলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের পথে চালিত করার পরিকল্পনা। পরবর্তী দিন ও সপ্তাহগুলোতে হোয়াইট হাউজে সে পরিকল্পনা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়। সেই আলোচ
১৭ ঘণ্টা আগে