
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে নিজেদের বাড়িতেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দুটি ফিলিস্তিনি পরিবার। দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই পরিবার দুটিকে ঘিরে রেখেছেন।
অবরুদ্ধ পরিবার দুটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের খাবার, পানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খাবারের যে মজুত ছিল, তাও ফুরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় তাদের রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামের একটি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ আউটপোস্ট থেকে সরে গেছে বলে খবর পাওয়া যায়। সেখানে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দলের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের পর তারা সরে যায়। তবে সেখানে প্রায় এক ডজন বসতি স্থাপনকারী এখনো অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনি বাড়ির মালিকরা প্রথমবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানানোর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো প্রথম কয়েকজন সেনাকে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে প্রার্থনা করতে দেখা যায়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
আবু রিদি ও হাসান পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছেন। তারা জানান, তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং খাবারের মজুতও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
কুসরায় অবস্থান নেওয়া বসতি স্থাপনকারীরা ঠিক কী চান, তা স্পষ্ট নয়। অতীতেও বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে সম্পত্তি দখল করেছেন। বসতি স্থাপনকারীদের ঘোষিত লক্ষ্য হলো— ওই এলাকা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া।

এদিকে সবশেষ এ ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটল, যখন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মঙ্গলবার নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেছেন, ‘পশ্চিম তীর সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের সব বসতিই অবৈধ। আর আউটপোস্টগুলো ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই স্থাপন করা হয়।
ফিলিস্তিনিদের একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় বসতি স্থাপনকারীরা আবু রিদি পরিবারের বাড়ির বাইরে একটি দেয়াল ভেঙে ফেলে। পরে সেই দেয়ালের পাথর ব্যবহার করে রাস্তা আটকে দেন তারা। এর ফলে দুই শিশুকন্যাসহ সাতজন বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। অন্য ফিলিস্তিনিরাও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছিলেন না।
পরিবারগুলো পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া বি’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় বসবাস করে। এ অঞ্চলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে।
ফেসবুকে কুসরা আবু রিদি লিখেছেন, পরিস্থিতি সংকটজনক, ‘বিশেষ করে আমরা যখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। আমরা আমাদের নিজেদের বাড়িতে, নিজেদের জমিতে বসবাস করছি। নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার ছাড়া আমরা আর কিছু চাইছি না।’
আয়েশা হাসান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা বাড়ির ফটক ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেছেন এবং তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছেন। একই সঙ্গে গালিগালাজ ও অপমানজনক কথাও বলেছেন তারা। তিনি বলেন, তার পরিবার ‘ভীত এবং তীব্রভাবে আতঙ্কিত’।
সোমবার বামপন্থি ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের সাংবাদিকদের ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাড়িতে পৌঁছাতে বাধা দেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। সাংবাদিকেরা জানান, তাদের গাড়ি দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হলেও ঘটনাস্থলে থাকা ইসরায়েলি সেনারা তাদের সহায়তা করেননি। তাদের বলা হয়েছিল, এলাকাটি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বন্ধ এলাকা। তবে বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি।
এর এক দিন পর ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধানের কাছে জরুরি আবেদন জানায়। অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেওয়া, বসতি স্থাপনকারীদের আউটপোস্ট সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
মঙ্গলবার রাতে শেষ পর্যন্ত একটি ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্সকে পরিবারগুলোর কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি তাদের জন্য খাবার নিয়ে যায় এবং একটি শিশুকে চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে নিয়ে আসে।

একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নতুন এই আউটপোস্ট স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে প্রবেশ ও তা দখল করা ‘অবৈধ, নিন্দনীয় ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।
বুধবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন।
এরপর ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও বিবিসির হাতে আসে। এতে ইসরায়েলি সেনা ও সীমান্ত পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে বসতি স্থাপনকারীদের একটি বড় দলের সংঘর্ষ দেখা যায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহার করে।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বসতি স্থাপনকারীরা যে ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী সেটি সরিয়ে নিচ্ছে। তবে তাদের অন্যান্য সরঞ্জাম সেখানে রেখে দেওয়া হয়।
আইডিএফ বলেছে, সীমান্ত পুলিশ বাহিনী তাঁবুটি সরিয়ে দিয়েছে এবং সেখানে অবস্থানকারী বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। ঘটনাটি এখনো চলমান। কয়েক দিন আগে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ভিডিওতে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি গ্রামের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বিবিসিকে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা কুসরাকে লক্ষ্য করে ‘স্পষ্ট ও ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানোর একটি প্রবণতা’ দেখতে পাচ্ছেন। গত মাসে গ্রামে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। এর কাছাকাছি এলাকায় হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতিও লেখা হয়।
ওই বসতি স্থাপনকারীদের হামলাটি ছিল এমন অনেক হামলার একটি, যা ফিলিস্তিনি গ্রাম তাল-এ একটি ঘটনার পর শুরু হয়। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তাল-এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। এতে ছয়জন নিহত হন— চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা। নিহত দুই সেনার একজন কাছের একটি ইসরায়েলি বসতির নিরাপত্তা সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
জুলাই মাসে কুসরার কাছের জালুদ গ্রামেও বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ঘিরে রাখেন। পরে বাড়ির মালিকেরা সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর বসতি স্থাপনকারীরা বাড়িটি দখল করে নেন এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপসমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ বলেন, ‘বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।’ তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার ‘ভয়াবহ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নাবলুস গভর্নরেট সহিংসতায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৭৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮টি শিশু। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষে এবং পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনির চালানো কথিত গাড়ি হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বেসামরিক নাগরিক।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরের ১২৭টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায়ের সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ৬ হাজার ৩৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৬ সালে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বাড়িঘর ধ্বংস ও উচ্ছেদের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু।
জাতিসংঘের বৈঠকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন যে ইসরায়েলি বসতিগুলো শান্তির পথে বাধা। তিনি বলেন, বসতিগুলো থাকবে এবং আরও সম্প্রসারিত হবে। কারণ ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের বাইবেলভিত্তিক, ঐতিহাসিক ও আইনগত অধিকার রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ড্যানন বলেন, নিরাপত্তা পরিষদকে ‘একটি সহজ সত্য বুঝতে হবে—আমরা কোথাও যাচ্ছি না।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে নিজেদের বাড়িতেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দুটি ফিলিস্তিনি পরিবার। দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই পরিবার দুটিকে ঘিরে রেখেছেন।
অবরুদ্ধ পরিবার দুটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের খাবার, পানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খাবারের যে মজুত ছিল, তাও ফুরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় তাদের রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামের একটি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ আউটপোস্ট থেকে সরে গেছে বলে খবর পাওয়া যায়। সেখানে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দলের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের পর তারা সরে যায়। তবে সেখানে প্রায় এক ডজন বসতি স্থাপনকারী এখনো অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনি বাড়ির মালিকরা প্রথমবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানানোর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো প্রথম কয়েকজন সেনাকে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে প্রার্থনা করতে দেখা যায়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
আবু রিদি ও হাসান পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছেন। তারা জানান, তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং খাবারের মজুতও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
কুসরায় অবস্থান নেওয়া বসতি স্থাপনকারীরা ঠিক কী চান, তা স্পষ্ট নয়। অতীতেও বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে সম্পত্তি দখল করেছেন। বসতি স্থাপনকারীদের ঘোষিত লক্ষ্য হলো— ওই এলাকা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া।

এদিকে সবশেষ এ ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটল, যখন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মঙ্গলবার নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেছেন, ‘পশ্চিম তীর সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের সব বসতিই অবৈধ। আর আউটপোস্টগুলো ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই স্থাপন করা হয়।
ফিলিস্তিনিদের একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় বসতি স্থাপনকারীরা আবু রিদি পরিবারের বাড়ির বাইরে একটি দেয়াল ভেঙে ফেলে। পরে সেই দেয়ালের পাথর ব্যবহার করে রাস্তা আটকে দেন তারা। এর ফলে দুই শিশুকন্যাসহ সাতজন বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। অন্য ফিলিস্তিনিরাও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছিলেন না।
পরিবারগুলো পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া বি’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় বসবাস করে। এ অঞ্চলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে।
ফেসবুকে কুসরা আবু রিদি লিখেছেন, পরিস্থিতি সংকটজনক, ‘বিশেষ করে আমরা যখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। আমরা আমাদের নিজেদের বাড়িতে, নিজেদের জমিতে বসবাস করছি। নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার ছাড়া আমরা আর কিছু চাইছি না।’
আয়েশা হাসান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা বাড়ির ফটক ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেছেন এবং তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়েছেন। একই সঙ্গে গালিগালাজ ও অপমানজনক কথাও বলেছেন তারা। তিনি বলেন, তার পরিবার ‘ভীত এবং তীব্রভাবে আতঙ্কিত’।
সোমবার বামপন্থি ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের সাংবাদিকদের ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাড়িতে পৌঁছাতে বাধা দেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। সাংবাদিকেরা জানান, তাদের গাড়ি দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হলেও ঘটনাস্থলে থাকা ইসরায়েলি সেনারা তাদের সহায়তা করেননি। তাদের বলা হয়েছিল, এলাকাটি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বন্ধ এলাকা। তবে বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি।
এর এক দিন পর ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন দেশটির সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধানের কাছে জরুরি আবেদন জানায়। অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেওয়া, বসতি স্থাপনকারীদের আউটপোস্ট সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
মঙ্গলবার রাতে শেষ পর্যন্ত একটি ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্সকে পরিবারগুলোর কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি তাদের জন্য খাবার নিয়ে যায় এবং একটি শিশুকে চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে নিয়ে আসে।

একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নতুন এই আউটপোস্ট স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে প্রবেশ ও তা দখল করা ‘অবৈধ, নিন্দনীয় ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।
বুধবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন।
এরপর ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও বিবিসির হাতে আসে। এতে ইসরায়েলি সেনা ও সীমান্ত পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে বসতি স্থাপনকারীদের একটি বড় দলের সংঘর্ষ দেখা যায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহার করে।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বসতি স্থাপনকারীরা যে ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী সেটি সরিয়ে নিচ্ছে। তবে তাদের অন্যান্য সরঞ্জাম সেখানে রেখে দেওয়া হয়।
আইডিএফ বলেছে, সীমান্ত পুলিশ বাহিনী তাঁবুটি সরিয়ে দিয়েছে এবং সেখানে অবস্থানকারী বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। ঘটনাটি এখনো চলমান। কয়েক দিন আগে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ভিডিওতে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি গ্রামের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বিবিসিকে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা কুসরাকে লক্ষ্য করে ‘স্পষ্ট ও ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানোর একটি প্রবণতা’ দেখতে পাচ্ছেন। গত মাসে গ্রামে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। এর কাছাকাছি এলাকায় হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতিও লেখা হয়।
ওই বসতি স্থাপনকারীদের হামলাটি ছিল এমন অনেক হামলার একটি, যা ফিলিস্তিনি গ্রাম তাল-এ একটি ঘটনার পর শুরু হয়। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তাল-এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। এতে ছয়জন নিহত হন— চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা। নিহত দুই সেনার একজন কাছের একটি ইসরায়েলি বসতির নিরাপত্তা সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
জুলাই মাসে কুসরার কাছের জালুদ গ্রামেও বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ঘিরে রাখেন। পরে বাড়ির মালিকেরা সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর বসতি স্থাপনকারীরা বাড়িটি দখল করে নেন এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপসমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ বলেন, ‘বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।’ তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার ‘ভয়াবহ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নাবলুস গভর্নরেট সহিংসতায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৭৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮টি শিশু। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষে এবং পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনির চালানো কথিত গাড়ি হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বেসামরিক নাগরিক।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরের ১২৭টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায়ের সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ৬ হাজার ৩৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৬ সালে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বাড়িঘর ধ্বংস ও উচ্ছেদের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের প্রায় অর্ধেকই শিশু।
জাতিসংঘের বৈঠকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন যে ইসরায়েলি বসতিগুলো শান্তির পথে বাধা। তিনি বলেন, বসতিগুলো থাকবে এবং আরও সম্প্রসারিত হবে। কারণ ওই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের বাইবেলভিত্তিক, ঐতিহাসিক ও আইনগত অধিকার রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ড্যানন বলেন, নিরাপত্তা পরিষদকে ‘একটি সহজ সত্য বুঝতে হবে—আমরা কোথাও যাচ্ছি না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফার্স্ট অফিসারের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও ক্যাপ্টেন দুটি পরীক্ষাতেই অকৃতকার্য হন। বিশেষ করে দ্বিতীয় পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি গাঁজা সেবন করেছিলেন। তবে তিনি কখন বা কোথায় গাঁজা সেবন করেছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
১৫ ঘণ্টা আগে
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়েছে ৭১ সেন্ট বা ০.৮৫ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৯১ ডলার।
১৮ ঘণ্টা আগে
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, রাশিয়া তার মিত্র উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা পাচ্ছে বলে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সতর্ক করেছিলেন জেলেনস্কি। এর একদিন পরই ইউক্রেনজুড়ে এই বড় ধরনের হামলা চালানো হয়।
১৮ ঘণ্টা আগে
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পেরেইরা শহরে, সেখানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কাতিতে অন্তত ৯৫ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা গেছে।
১৯ ঘণ্টা আগে