
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির এ ঘোষণায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পালটাপালটি হামলার মধ্যে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটন আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এর মধ্যেই সৌদির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিল হুতিরা।
মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের কাছে কিছু ‘প্রস্তাব’ দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিললেও এসব প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হুতিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য বেড়ে গেলেও পরে আবার কমে আসে। কারণ, ব্যবসায়ীরা এখনো কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন। তবে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক জাহাজের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক বিমার খরচ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তেহরান হুতিদের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যাবে। কারণ, তখন সৌদি আরবের অধিকাংশ তেল রপ্তানি ওই অঞ্চল থেকে বের হতে পারবে না। এতে উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই বিশ্ব তেল সরবরাহে যে প্রায় ১০ শতাংশ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা আরও বাড়বে।
হুতিদের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর যে ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করেছে, তার জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে তারা ‘অপরাধী সৌদি শত্রুর’ বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রপথে অবরোধ কার্যকর করছে।
এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিরতি ফেরাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী চুক্তি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তেহরান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরির উদ্দেশ্যেই ওই অন্তর্বর্তী চুক্তি করা হয়েছিল।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা ওই কর্মকর্তা— কেউই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত জানাননি।
পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্র পৃথকভাবে জানিয়েছে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি পাকিস্তানকে আবারও এই সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পরে তিনি আরও আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছান।
এরই মধ্যে টানা আরেক রাত ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাম্প্রতিক হামলার সমর্থনে বলেছেন, ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান যখনই একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, বিপরীতে তাদের তাদের বহু গুণ বেশি পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ নির্দেশ যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন এবং সামরিক বাহিনীর সব নেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া দুই বছরের যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় গাজায় এখনো ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করছে।
সোমবার হামাস জানিয়েছে, তারা শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হাইয়াকে সংগঠনটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। একজন বিশ্লেষক জানান, এই সিদ্ধান্ত হামাসকে নিরস্ত্র করার আহ্বানের বিষয়ে সংগঠনটির আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হতে পারে।
দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের দাবি
আইআরজিসি জানিয়েছে, দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ‘অনিরাপদ’ একটি পথ দিয়ে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগের দিন রোববার একই এলাকায় দুটি জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ার কথা জানিয়েছিল আইআরজিসি। তবে দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। আইআরজিসির বিবৃতিতে জাহাজগুলোর পরিচয় বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পাশের ওমান উপকূলে একটি জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করা। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে তাদের নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেনি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, তাবরিজের দক্ষিণ-পশ্চিমে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে থাকা মার্কিন বিমান, কুয়েতের আল-আদিরি সামরিক শিবির, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ায় মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সোমবার দিনভর বাহরাইনে বারবার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজেছে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার শিকার হয়েছে। এতে সেখানে আগুন লেগেছে। দেশটির সেনাবাহিনী ফের ইরানের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে।

ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির এ ঘোষণায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পালটাপালটি হামলার মধ্যে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটন আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এর মধ্যেই সৌদির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিল হুতিরা।
মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানের কাছে কিছু ‘প্রস্তাব’ দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিললেও এসব প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হুতিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য বেড়ে গেলেও পরে আবার কমে আসে। কারণ, ব্যবসায়ীরা এখনো কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন। তবে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক জাহাজের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক বিমার খরচ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তেহরান হুতিদের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যাবে। কারণ, তখন সৌদি আরবের অধিকাংশ তেল রপ্তানি ওই অঞ্চল থেকে বের হতে পারবে না। এতে উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই বিশ্ব তেল সরবরাহে যে প্রায় ১০ শতাংশ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা আরও বাড়বে।
হুতিদের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর যে ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করেছে, তার জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে তারা ‘অপরাধী সৌদি শত্রুর’ বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রপথে অবরোধ কার্যকর করছে।
এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিরতি ফেরাতে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী চুক্তি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তেহরান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরির উদ্দেশ্যেই ওই অন্তর্বর্তী চুক্তি করা হয়েছিল।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা ওই কর্মকর্তা— কেউই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত জানাননি।
পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্র পৃথকভাবে জানিয়েছে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি পাকিস্তানকে আবারও এই সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পরে তিনি আরও আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছান।
এরই মধ্যে টানা আরেক রাত ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাম্প্রতিক হামলার সমর্থনে বলেছেন, ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান যখনই একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, বিপরীতে তাদের তাদের বহু গুণ বেশি পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ নির্দেশ যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন এবং সামরিক বাহিনীর সব নেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া দুই বছরের যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় গাজায় এখনো ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করছে।
সোমবার হামাস জানিয়েছে, তারা শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হাইয়াকে সংগঠনটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। একজন বিশ্লেষক জানান, এই সিদ্ধান্ত হামাসকে নিরস্ত্র করার আহ্বানের বিষয়ে সংগঠনটির আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হতে পারে।
দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের দাবি
আইআরজিসি জানিয়েছে, দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ‘অনিরাপদ’ একটি পথ দিয়ে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগের দিন রোববার একই এলাকায় দুটি জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ার কথা জানিয়েছিল আইআরজিসি। তবে দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। আইআরজিসির বিবৃতিতে জাহাজগুলোর পরিচয় বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পাশের ওমান উপকূলে একটি জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করা। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে তাদের নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেনি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, তাবরিজের দক্ষিণ-পশ্চিমে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে থাকা মার্কিন বিমান, কুয়েতের আল-আদিরি সামরিক শিবির, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ায় মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সোমবার দিনভর বাহরাইনে বারবার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজেছে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলার শিকার হয়েছে। এতে সেখানে আগুন লেগেছে। দেশটির সেনাবাহিনী ফের ইরানের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে।

নুরিস্তানের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে পারুন শহরের মেয়রসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। স্থানীয় একটি এনজিও প্রধান জানান, বন্যায় পৌরসভা ভবন, একাধিক হোটেল এবং কয়েক ডজন দোকান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কিয়ার স্টারমার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে তিন দফা
২০ ঘণ্টা আগে
‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এবার দিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, যন্তর মন্তরের কাছে হাজারো সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় আন্দোলনের হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১ দিন আগে