আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তর। ছবি: অনলাইন
নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তর। ছবি: অনলাইন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নজিরবিহীন বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুধু আদালটির বিচারক বা প্রসিকিউটর নয়, এবার পুরো প্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রোববার এ বিষয়ে দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চলতি সপ্তাহেই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। তবে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি।

প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) থেকে বিশেষ অনুমতি না নিয়ে আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না। এর আওতায় আদালটির সঙ্গে কাজ করা তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানও পড়তে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর অধিকাংশ লেনদেন বন্ধ করার আগে আইসিসিকে ছয় থেকে সাত মাসের মতো সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যোগাযোগসংক্রান্ত কিছু লেনদেন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকতে পারে।

এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আদালটির প্রায় ৯০০ কর্মী রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা কেনা, বিমা করা, তদন্তকারী নিয়োগ, ব্যাংকিং লেনদেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো কাজও জটিল হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় না পড়লেও ঝুঁকি এড়াতে আইসিসির সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইসিসির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার খবর পাওয়ার পর দেশটির সরকার আদালতটির কার্যক্রম সচল রাখার উপায় খুঁজছে। সাক্ষীদের সুরক্ষা, কর্মীদের বেতন ও আদালতের আটককেন্দ্র পরিচালনার মতো বিষয়গুলো কীভাবে চালু রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলার পথ খুঁজছে।

আইসিসিও কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বছরের শুরুতে আদালতটি মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার থেকে জার্মান একটি সফটওয়্যার সরবরাহকারীর দিকে সরে গেছে। একই সঙ্গে বিমা ও অন্যান্য আর্থিক সেবার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম নেই— এমন প্রতিষ্ঠানের দিকে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে আদালতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিলেও নেদারল্যান্ডস ও আইসিসি কর্মকর্তারা সে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে প্রায় ছয় মাসের সময় চাইছেন, যেন মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে আইসিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পথ খুলে দেন। এরপর একাধিক বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত আগস্টে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়েকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়।

গাজা যুদ্ধের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে আদালটির বিরোধ আরও তীব্র হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল— দুই দেশের কোনোটিই আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির আগের তদন্ত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানিয়ে আসছে।

গত জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে বিচ্ছিন্ন করার একটি প্রচারাভিযান ঘোষণা করেন এবং অন্য দেশগুলোকে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এর পর ভেনেজুয়েলা ও চাদও আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়।

পুরো একটি আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগকে তাই আগের ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিষেধাজ্ঞার তুলনায় বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রয়টার্সের ভাষ্য, এর ফলে আইসিসির অর্থায়ন, জনবল, তদন্ত ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম সরাসরি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের