ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে রাজি বাইডেন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ফাইল ছবি

রাশিয়া দুই বছর ধরে ইউক্রেনে বহু হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকা হাতছাড়া হয়েছে ইউক্রেনের। দেশটির হাজার হাজার সৈন্যের মৃত্যুও হয়েছে। এমন দুর্দশায় অস্ত্র সরবরাহ, কূটনৈতিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমা মিত্ররা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পাশে থাকলেও সেনা পাঠাতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এতদিন বলে এসেছে যে তাদের সৈন্যরা ইউক্রেনযুদ্ধ এড়িয়ে চলবে। এমনকি মার্কিনিদের সেখানে ভ্রমণ করার বিষয়েও সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন আনছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন। খবর সিএনএনের।

হোয়াইট হাউস ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে হোয়াইট হাউসের সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে এবং তাদের সেনাবাহিনীর হাত সুসংহত করবে। তবে মার্কিন সেনারা ইউক্রেনে গিয়ে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামবেন না বা রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হবেন না। তারা আমেরিকান বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করবেন। সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন বিভিন্ন অস্ত্র দেখভাল করবেন এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া সমরাস্ত্র ও সামরিক যান মেরামত করবেন। যাদের বলা হচ্ছে মিলিটারি কন্সট্রাক্টর। তবে বিষয়টি এখনও কর্মকর্তাদের পর্যায়েই রয়েছে। নথিতে চূড়ান্ত সাক্ষর করেননি প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

এদিকে ইউক্রেনে সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্তে বাইডেন এখনও দৃঢ় অবস্থানে আছেন বলে দাবি করেছেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনও আলোচনা বা সিদ্ধান্ত- কিছুই হয়নি।

তবে একবার সিদ্ধান্তটি অনুমোদন হওয়ার পর এ বছরই তা কার্যকর হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের অভ্যন্তরে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকেও।

ধীরে ধীরে ইউক্রেন যুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা। সম্প্রতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ স্থাপনায় হামলার অনুমতি দেয় তারা। অনেক ভারী ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনের বাইরে। আবার যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলো সীমান্তবর্তী পোল্যান্ড, রোমানিয়াসহ অন্যান্য ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশে নিয়ে মেরামত করা হয়। এ ছাড়া যেগুলো পরিবহন করা কষ্টসাধ্য, সেগুলো মার্কিন সামরিক কন্ট্রাক্টররা ভিডিও কলের মাধ্যমে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে সংস্কার করার বিষয়ে সহায়তা দিয়ে আসছিলেন। তবে এসব প্রক্রিয়া অনেক সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে শতভাগ ত্রুটিমুক্ত হওয়া নিয়েও শঙ্কা থেকে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনে সরাসরি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের খবর এলো।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হাঙ্গেরিতে ভোটে ট্রাম্প-পুতিন ঘনিষ্ঠ অরবানের ভরাডুবি, জয়ের পথে মাজিয়ার

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিসজা পার্টি ১৩৮টি আসনে জয় পেয়েছে। অরবানের ক্ষমতাসীন দল ফিদেজ পেয়েছে ৫৫টি আসন, আর কট্টর ডানপন্থি আওয়ার হোমল্যান্ড পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন। মোট ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে এটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

৪ ঘণ্টা আগে

ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলও

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই আইডিএফ প্রধান এয়াল জামির সেনাবাহিনীকে ‘উচ্চ সতর্ক অবস্থায়’ যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত পুনরায় শুরুর প্রস্তুতিও নিতে বলেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সম্ভাব্য ইরানি আকস্মিক হামলার আশঙ্কা

৫ ঘণ্টা আগে

ফের ইরানে বিমান হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এমন আভাস দিয়েছেন।

৮ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্পের অবরোধ, ইরানের নজরদারি জোরদার— ফের হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের অবরোধ ও ইরানের পালটা বাড়তি নজরদারির ঘোষণা স্পষ্টতই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছ

৯ ঘণ্টা আগে