
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বড় জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসার কৌশল এখনো আগের মতোই কার্যকর। এবার সেই কৌশলের নতুন লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ শুরু করেছেন।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় কোনো অবস্থাতেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ট্রুথ সোশ্যালকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক উসকে দেওয়ার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্য শুধু নেতানিয়াহুকে ঘিরে অবস্থান স্পষ্ট করেনি; বরং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের সঙ্গে ফেডারেল সরকারের সম্ভাব্য ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ইঙ্গিতও দিয়েছে।
তবে এই বিরোধের তাৎপর্য শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আবারও এমন একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে চাইছেন, যেখানে একজন ব্যক্তিকে সামনে এনে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব হবে।
নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানানো ট্রাম্পের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে, তারপরও এই অবস্থান নিয়ে তিনি একদিকে পুরোনো মিত্রকে সমর্থন জানাচ্ছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ক্রমেই অতিরিক্ত বামপন্থি ও চরম অবস্থানের দল হিসেবে তুলে ধরার রাজনৈতিক কৌশলও অনুসরণ করছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে এই বিরোধ মামদানির জন্যও রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। কারণ এটি শুধু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ঘিরে পররাষ্ট্রনীতির বিতর্ক নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।
বাস্তবে মামদানি আদৌ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন কি না, সেটিই এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
কারণ আইনি দিক থেকে বিষয়টি যথেষ্ট জটিল। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধি অনুমোদন করেনি। ফলে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা দেশটির নেই। তাছাড়া অতীতেও ইরান, কিউবা বা অন্যান্য বৈরী দেশের নেতাদের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ফলে এখানে আইনি লড়াইয়ের চেয়ে রাজনৈতিক লড়াইটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রায় সর্বসম্মত অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। পাশাপাশি এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রজন্মের মুখ মামদানি
জোহরান মামদানি এমন এক নতুন প্রজন্মের ডেমোক্র্যাট নেতাদের প্রতিনিধি, যারা ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। দলটির উদারপন্থি ও তরুণ সমর্থকদের মধ্যে এই অবস্থান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসার সিদ্ধান্তও সেই রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার অংশ। কারণ নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি যে সমর্থন অর্জন করেছেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রগতিশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেই সমর্থন ধরে রাখা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক তরুণ ও প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটের কাছে ইসরায়েল প্রশ্নে মামদানির অবস্থান এখন রাজনৈতিক মতের চেয়েও বেশি— এটি প্রায় বিশ্বাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজায় কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং এ জন্য তাকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের একটি পডকাস্টে মামদানি বলেন, ‘তার (নেতানিয়াহুর) জায়গা দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।’ একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিয়ে তিনি তার আইনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।
তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। ইসরায়েলের আরও অভিযোগ, হামাস বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প— উভয় প্রশাসনই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি অংশ এখন ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানকে শুধু গাজা যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে না। তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি ব্যয় এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করছে।
মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ গত ২ জুলাই সিএনএনকে বলেন, ‘আমি চাই, আমার করের অর্থ মিশিগানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নে ব্যয় হোক। ফিলিস্তিনিদের হত্যা, গণহত্যা ও বর্ণবৈষম্যমূলক নীতির জন্য সেই অর্থ বিদেশে পাঠানো হোক, তা আমি চাই না।’
ট্রাম্প-মামদানি সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা
নেতানিয়াহুকে ঘিরে প্রকাশ্য বিরোধ শুরু হলে তা ট্রাম্প ও মামদানির সম্পর্কেও নতুন মোড় আনতে পারে।
মজার বিষয় হলো, গত বছর ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় দুজনের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তার (মামদানি) সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। আমাদের কয়েকটি ভালো বৈঠক ও ভালো আলোচনা হয়েছে। সে যেমন, তেমনই।’
এরপর ফেব্রুয়ারিতেও মামদানি ওভাল অফিসে যান। সাবেক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে নিউইয়র্কে বড় ধরনের ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন।
বয়স, রাজনৈতিক আদর্শ ও ব্যক্তিত্বে দুজনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মিল রয়েছে। দুজনই জনতাবাদী রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করেন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুজনই অত্যন্ত দক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ানো মামদানির জন্যও রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। এতে জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার অবস্থান আরও দৃশ্যমান হবে। অন্যদিকে ট্রাম্পও সব সময় নতুন কোনো রাজনৈতিক ইস্যুর খোঁজে থাকেন।
ট্রুথ সোশ্যালে নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টটি তুলনামূলক সংযত হলেও এর মধ্য দিয়ে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে, ইসরায়েল প্রশ্নে ডেমোক্রেটিক পার্টির অবস্থান বদলের প্রতীক হিসেবে নিউইয়র্ককে সামনে এনে হোয়াইট হাউস ভবিষ্যতে যুক্তি দাঁড় করাতে পারে— ডেমোক্র্যাটরা এখন অনেক আমেরিকানের কাছে অতিরিক্ত চরমপন্থি হয়ে উঠেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মামদানিকে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ট্রাম্পের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য ও ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজকে একইভাবে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। একইভাবে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে অংশ নেওয়া ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে তিনি ‘পাগল’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।
ইসরায়েল ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে বাড়ছে বিভক্তি
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অনেকের মত।
তবে ট্রাম্প যদি আবারও আদর্শগত বা সাংস্কৃতিক বিভাজনকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য রক্ষণশীল শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটারদের সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে অভিবাসন, খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ এবং অপরাধের মতো ইস্যু ব্যবহার করে তিনি সফলভাবে ডেমোক্র্যাটদের সাধারণ মানুষের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন দল হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে ইসরায়েল ইস্যু।
নির্বাচনি প্রচারে ইসরায়েলকে সামনে আনলে ট্রাম্প একদিকে ইসরায়েলপন্থি ইভানজেলিক্যাল রক্ষণশীলদের আরও উৎসাহিত করতে পারবেন। একই সঙ্গে তার বার্তায় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়া মূলধারার রিপাবলিকানদেরও কাছে টানতে পারবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন করা দোদুল্যমান ভোটারদের কাছেও এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েল ইস্যুতে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে বড় ধরনের মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলের মধ্যপন্থি নেতারা সতর্ক করে দিচ্ছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী কিছু বক্তব্য অনেক সময় ইহুদিবিদ্বেষের সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে।
ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন, এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করে আসা কিছু ইহুদি ভোটারকেও নিজের দিকে টানা সম্ভব।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যপন্থি অংশের উদ্বেগ, তাদের দল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
গত সপ্তাহে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বলেন, ‘প্রাইমারিতে আমরা যাদের নির্বাচিত করছি, তারা শুধু ফিলিস্তিনপন্থি নন, বরং অত্যন্ত, অত্যন্ত ইসরায়েলবিরোধী।’
এই বিভক্তির আরেকটি উদাহরণ দেখা যাচ্ছে মিশিগানে। সেখানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স স্বীকার করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের অনেক ভোটারের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এমন অবস্থান নিয়েছেন, যা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সাধারণ নির্বাচনে তুলনামূলক মূলধারার অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ মাসের শুরুতে এক বিতর্কে স্টিভেন্স বলেন, ‘আমি বলতে পারি, ফিলিস্তিন ও গাজার মানুষের পাশাপাশি ইসরায়েলেরও শান্তিপূর্ণভাবে টিকে থাকার অধিকার আছে। এটা খুবই পরিষ্কার যে, মি. নেতানিয়াহু আমাদের আরও নিরাপদ করতে পারেননি, শান্তির কাছেও নিয়ে যেতে পারেননি। বরং তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহুদিদেরও আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।’
এল-সায়েদের সঙ্গে তার এই মতপার্থক্য শুধু মিশিগানেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের আরও অনেক জায়গায় একই ধরনের বিভাজন দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির জাতীয়তাবাদী অংশের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কিছুটা দুর্বল হতে শুরু করেছে। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক লড়াইয়েও এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে আপাতত গাজা যুদ্ধকে ঘিরে সবচেয়ে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেই। আর সেই বিভক্তিকে আরও গভীর করতে জোহরান মামদানির মতো একজন নেতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যথেষ্ট কারণ ট্রাম্পের রয়েছে।
[মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ। মূল প্রতিবেদনটি লিখেছেন সিএনএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক স্টিফেন কলিনসন। তিনি হোয়াইট হাউজ, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয় কভার করেন]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বড় জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসার কৌশল এখনো আগের মতোই কার্যকর। এবার সেই কৌশলের নতুন লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই ট্রাম্প তাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ শুরু করেছেন।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় কোনো অবস্থাতেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ট্রুথ সোশ্যালকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক উসকে দেওয়ার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্য শুধু নেতানিয়াহুকে ঘিরে অবস্থান স্পষ্ট করেনি; বরং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের সঙ্গে ফেডারেল সরকারের সম্ভাব্য ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ইঙ্গিতও দিয়েছে।
তবে এই বিরোধের তাৎপর্য শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আবারও এমন একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে চাইছেন, যেখানে একজন ব্যক্তিকে সামনে এনে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব হবে।
নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানানো ট্রাম্পের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে, তারপরও এই অবস্থান নিয়ে তিনি একদিকে পুরোনো মিত্রকে সমর্থন জানাচ্ছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ক্রমেই অতিরিক্ত বামপন্থি ও চরম অবস্থানের দল হিসেবে তুলে ধরার রাজনৈতিক কৌশলও অনুসরণ করছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে এই বিরোধ মামদানির জন্যও রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। কারণ এটি শুধু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ঘিরে পররাষ্ট্রনীতির বিতর্ক নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।
বাস্তবে মামদানি আদৌ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন কি না, সেটিই এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
কারণ আইনি দিক থেকে বিষয়টি যথেষ্ট জটিল। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধি অনুমোদন করেনি। ফলে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা দেশটির নেই। তাছাড়া অতীতেও ইরান, কিউবা বা অন্যান্য বৈরী দেশের নেতাদের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ফলে এখানে আইনি লড়াইয়ের চেয়ে রাজনৈতিক লড়াইটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রায় সর্বসম্মত অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। পাশাপাশি এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রজন্মের মুখ মামদানি
জোহরান মামদানি এমন এক নতুন প্রজন্মের ডেমোক্র্যাট নেতাদের প্রতিনিধি, যারা ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। দলটির উদারপন্থি ও তরুণ সমর্থকদের মধ্যে এই অবস্থান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসার সিদ্ধান্তও সেই রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার অংশ। কারণ নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি যে সমর্থন অর্জন করেছেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রগতিশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেই সমর্থন ধরে রাখা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক তরুণ ও প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটের কাছে ইসরায়েল প্রশ্নে মামদানির অবস্থান এখন রাজনৈতিক মতের চেয়েও বেশি— এটি প্রায় বিশ্বাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজায় কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং এ জন্য তাকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের একটি পডকাস্টে মামদানি বলেন, ‘তার (নেতানিয়াহুর) জায়গা দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।’ একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিয়ে তিনি তার আইনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।
তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। ইসরায়েলের আরও অভিযোগ, হামাস বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প— উভয় প্রশাসনই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি অংশ এখন ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানকে শুধু গাজা যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে না। তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি ব্যয় এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করছে।
মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ গত ২ জুলাই সিএনএনকে বলেন, ‘আমি চাই, আমার করের অর্থ মিশিগানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নে ব্যয় হোক। ফিলিস্তিনিদের হত্যা, গণহত্যা ও বর্ণবৈষম্যমূলক নীতির জন্য সেই অর্থ বিদেশে পাঠানো হোক, তা আমি চাই না।’
ট্রাম্প-মামদানি সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা
নেতানিয়াহুকে ঘিরে প্রকাশ্য বিরোধ শুরু হলে তা ট্রাম্প ও মামদানির সম্পর্কেও নতুন মোড় আনতে পারে।
মজার বিষয় হলো, গত বছর ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় দুজনের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তার (মামদানি) সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। আমাদের কয়েকটি ভালো বৈঠক ও ভালো আলোচনা হয়েছে। সে যেমন, তেমনই।’
এরপর ফেব্রুয়ারিতেও মামদানি ওভাল অফিসে যান। সাবেক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে নিউইয়র্কে বড় ধরনের ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন।
বয়স, রাজনৈতিক আদর্শ ও ব্যক্তিত্বে দুজনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মিল রয়েছে। দুজনই জনতাবাদী রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করেন এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দুজনই অত্যন্ত দক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়ানো মামদানির জন্যও রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। এতে জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার অবস্থান আরও দৃশ্যমান হবে। অন্যদিকে ট্রাম্পও সব সময় নতুন কোনো রাজনৈতিক ইস্যুর খোঁজে থাকেন।
ট্রুথ সোশ্যালে নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টটি তুলনামূলক সংযত হলেও এর মধ্য দিয়ে এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে, ইসরায়েল প্রশ্নে ডেমোক্রেটিক পার্টির অবস্থান বদলের প্রতীক হিসেবে নিউইয়র্ককে সামনে এনে হোয়াইট হাউস ভবিষ্যতে যুক্তি দাঁড় করাতে পারে— ডেমোক্র্যাটরা এখন অনেক আমেরিকানের কাছে অতিরিক্ত চরমপন্থি হয়ে উঠেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মামদানিকে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ট্রাম্পের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য ও ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজকে একইভাবে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। একইভাবে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে অংশ নেওয়া ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকে তিনি ‘পাগল’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।
ইসরায়েল ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে বাড়ছে বিভক্তি
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অনেকের মত।
তবে ট্রাম্প যদি আবারও আদর্শগত বা সাংস্কৃতিক বিভাজনকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য রক্ষণশীল শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটারদের সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে অভিবাসন, খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ এবং অপরাধের মতো ইস্যু ব্যবহার করে তিনি সফলভাবে ডেমোক্র্যাটদের সাধারণ মানুষের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন দল হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে ইসরায়েল ইস্যু।
নির্বাচনি প্রচারে ইসরায়েলকে সামনে আনলে ট্রাম্প একদিকে ইসরায়েলপন্থি ইভানজেলিক্যাল রক্ষণশীলদের আরও উৎসাহিত করতে পারবেন। একই সঙ্গে তার বার্তায় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়া মূলধারার রিপাবলিকানদেরও কাছে টানতে পারবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন করা দোদুল্যমান ভোটারদের কাছেও এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েল ইস্যুতে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে বড় ধরনের মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলের মধ্যপন্থি নেতারা সতর্ক করে দিচ্ছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী কিছু বক্তব্য অনেক সময় ইহুদিবিদ্বেষের সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে।
ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন, এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করে আসা কিছু ইহুদি ভোটারকেও নিজের দিকে টানা সম্ভব।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যপন্থি অংশের উদ্বেগ, তাদের দল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
গত সপ্তাহে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বলেন, ‘প্রাইমারিতে আমরা যাদের নির্বাচিত করছি, তারা শুধু ফিলিস্তিনপন্থি নন, বরং অত্যন্ত, অত্যন্ত ইসরায়েলবিরোধী।’
এই বিভক্তির আরেকটি উদাহরণ দেখা যাচ্ছে মিশিগানে। সেখানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স স্বীকার করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের অনেক ভোটারের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এমন অবস্থান নিয়েছেন, যা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সাধারণ নির্বাচনে তুলনামূলক মূলধারার অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ মাসের শুরুতে এক বিতর্কে স্টিভেন্স বলেন, ‘আমি বলতে পারি, ফিলিস্তিন ও গাজার মানুষের পাশাপাশি ইসরায়েলেরও শান্তিপূর্ণভাবে টিকে থাকার অধিকার আছে। এটা খুবই পরিষ্কার যে, মি. নেতানিয়াহু আমাদের আরও নিরাপদ করতে পারেননি, শান্তির কাছেও নিয়ে যেতে পারেননি। বরং তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহুদিদেরও আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।’
এল-সায়েদের সঙ্গে তার এই মতপার্থক্য শুধু মিশিগানেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের আরও অনেক জায়গায় একই ধরনের বিভাজন দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির জাতীয়তাবাদী অংশের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কিছুটা দুর্বল হতে শুরু করেছে। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক লড়াইয়েও এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে আপাতত গাজা যুদ্ধকে ঘিরে সবচেয়ে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেই। আর সেই বিভক্তিকে আরও গভীর করতে জোহরান মামদানির মতো একজন নেতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার যথেষ্ট কারণ ট্রাম্পের রয়েছে।
[মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অনুবাদ। মূল প্রতিবেদনটি লিখেছেন সিএনএনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক স্টিফেন কলিনসন। তিনি হোয়াইট হাউজ, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয় কভার করেন]

ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তবে আর কোনো মিছিল করবে না। গতকাল সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু সমর্থক আহত হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনের নেতারা।
৯ ঘণ্টা আগে
আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির প্রথম বিবৃতি অনুযায়ী, কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর একটি দূরপাল্লার রাডার কেন্দ্র, একটি টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে সফল হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে 'আলি আল-সালেম' বিমানঘাঁটিতে অ
৯ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, "কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক শুল্ক আরোপের যে একতরফা বাণিজ্য পদক্ষেপ শুরু করেছিল, শুল্ক আরোপের নতুন এই সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা।"
১২ ঘণ্টা আগে
নুরিস্তানের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে পারুন শহরের মেয়রসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। স্থানীয় একটি এনজিও প্রধান জানান, বন্যায় পৌরসভা ভবন, একাধিক হোটেল এবং কয়েক ডজন দোকান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
১২ ঘণ্টা আগে