ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সীমা মধ্যবর্তী নির্বাচন, প্রশাসনে দীর্ঘ যুদ্ধের শঙ্কা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৪৪
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতীকী ছবি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানের জন্য আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কার্যত একটি সময়সীমা হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই, এবং এমনকি নির্বাচনের আগেই যুদ্ধের অবসান হতে পারে।

তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদী পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলছে না তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা— মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করে যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রোববার আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ শেষের সময়সীমা হিসেবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ এ বছরের মধ্যেই শেষ হতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তার আগেও সমঝোতা হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সঠিক চুক্তি’ হতে হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বরও ট্রাম্প বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। তার দাবি ছিল, ইরান আর বেশি দিন মার্কিন চাপ সহ্য করতে পারবে না এবং দেশটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স ও রুবিওসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে ইরান সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্তও গড়াতে পারে। অর্থাৎ, যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলার সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

ইরানের ওপর নৌ অবরোধ, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও তেহরান প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে— এটাই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগের মূল জায়গা।

ভ্যান্স প্রকাশ্যেও যুদ্ধের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য, ইরান যখন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও সময়সূচি প্রকাশ করা দায়িত্বশীল হবে না। হোয়াইট হাউজও বলেছে, যুদ্ধ কখন শেষ হবে সে সিদ্ধান্ত কেবল ট্রাম্পই জানেন।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিতও মিলছে মার্কিন সামরিক তৎপরতায়। মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের মোতায়াতের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে এবং নতুন করে মেরিন ইউনিট পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্য আটলান্টিকের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অবস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে।

এর মধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সংকট এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রোববার ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত কমে আসবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধের পর ইরানে মার্কিন উপস্থিতি বজায় রেখে দেশটির তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

ফলে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুটি পরস্পরবিরোধী ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তির কাছাকাছি সময় হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে তার নিজের প্রশাসনেরই শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন এক সংঘাতের জন্য, যার শেষ দেখতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এই পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি ও এর রাজনৈতিক হিসাবের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিটি ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সেখানে থাকা প্রধান অস্ত্রের গুদাম এবং ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়।

১৪ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধের পরিণতি কি আফগানিস্তান-ইরাকের মতো হবে?

ইরানের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বড়। কারণ এটি ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দুর্বল রাষ্ট্র নয়। প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশটির রয়েছে শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো, বিশাল ভূখণ্ড, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং নিজস্ব জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিচয়। ফলে তেহরানে সরকার পতন ঘটানো গেলেও

১৪ ঘণ্টা আগে

ব্রিকসে ইরান-আমিরাত বরফ গলার আভাস

ভারতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে। তার মতে, ভারত কঠিন আলোচনাগুলো চালু রাখার সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো একই টেবিলে বসতে পারে, কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করতে পারে এবং যেসব বিষয়ে তাদের স্বার্থের মিল রয়েছ

১ দিন আগে

জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যার্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে: আনোয়ার ইব্রাহিম

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন, পিস টিভিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরুর পর ২০১৬ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরে দেশটিতে তাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

১ দিন আগে
Advertisement