১৯ দেশের অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড ফের যাচাই করবে ট্রাম্প প্রশাসন

বিবিসি বাংলা
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৩: ৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন। প্রতীকী ছবি

বিশ্বের ১৯টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের গ্রিনকার্ড পুনরায় যাচাই করবে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার প্রধান জোসেফ এডলো জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন।

এডলো বলছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ— যেসব দেশ নিয়ে উদ্বেগ আছে, সেসব দেশ থেকে আসা প্রতিটি বিদেশির গ্রিন কার্ড পূর্ণাঙ্গ ও কঠোরভাবে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে।

কোন ১৯ দেশ রয়েছে ট্রাম্পের এই পর্যালোচনার তালিকায় সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউজ। বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে তাদের জুন মাসের একটি ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করা হয়। বিদেশি সন্ত্রাসী এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ওই সময়।

ঘোষণায় ১২টি দেশের নাগরিকদের প্রবেশে ওপর বিধিনিষেধ পুরোপুরি আরোপের কথা বলা হয়। দেশগুলো হলো— আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাঁদ, কঙ্গো, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন।

এর বাইরে আরও সাতটি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেগুলো হলো— বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। হোয়াইট হাউজের ইঙ্গিত, এই ১৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ডই আবার পর্যালোচনা করবে ট্রাম্প প্রশাসন।

সবশেষ বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গ্রিন কার্ড পুনরায় যাচাই করার ঘোষণাটি এলো। গুলিবিদ্ধ ওই দুজনের মধ্যে একজন পরে মারা যান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ হামলা একটি বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানদের জন্য বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন লাখানওয়াল।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার প্রধান জোসেফ এডলোর পোস্টে গ্রিন কার্ডের ব্যাপক পর্যালোচনার কথা বলা হলেও হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি। এডলো বলেন, আমেরিকা ও তার জনগণের সুরক্ষা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেপরোয়া পুনর্বাসন নীতির খেসারত আমেরিকান জনগণ দেবে না।

গ্রিনকার্ডের এই পুনর্পর্যালোচনা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য সেখানে দেওয়া হয়নি।

জুন মাসের ঘোষণার ব্যাপারে বিবিসিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি ব্যবসা, ছাত্র ও পর্যটক ভিসায় এসে অতিরিক্ত সময় আমেরিকা অবস্থান করার মতো কারণেও কোনো কোনো দেশকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ওই ঘোষণায় আফগানিস্তানের ব্যাপারে বলা হয়েছিল, বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট গ্রুপ) তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে পাসপোর্ট বা নাগরিক নথি ইস্যু করার জন্য দক্ষ বা সহযোগী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই এবং যথাযথ স্ক্রিনিং ও যাচাই ব্যবস্থা নেই। অতএব অভিবাসী ও অনভিবাসী আফগান নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হলো।

মার্কিন সেনা সদস্যদের ওপর বুধবারের হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে। ট্রাম্প বলেন, এ হামলা আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকার ইঙ্গিত দেয়। পূর্ববর্তী প্রশাসন সারা বিশ্ব থেকে দুই কোটি অজানা ও যাচাই-বাছাইবিহীন বিদেশিকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এমন সব জায়গা থেকে তারা এসেছে যেগুলোর নামও আপনি জানতে চাইবেন না। কোনো দেশ তার অস্তিত্বের প্রতি এমন ঝুঁকি সহ্য করতে পারে না।

গ্রিন কার্ড পর্যালোচনার কাজে যুক্ত মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা গত সপ্তাহের ঘোষণা দিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়কার সব শরণার্থীর অনুমোদন পর্যালোচনা করে দেখবে তারা। বুধবার আফগানদের সব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও যাচাই প্রোটোকল পর্যালোচনার মাধ্যমে।

নিজের প্রথম মেয়াদের শুরুতে সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৫ সালে তিনি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘আসলে কী ঘটছে সে বিষয়ে আমাদের দেশের প্রতিনিধিরা বুঝতে না পারা পর্যন্ত মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ সেই ঘোষণারই ধারাবাহিকতা ছিল এটি।

ওই সময় বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার পর্যটক, অভিবাসী, ব্যবসায়ী ও মার্কিন গ্রিন কার্ডধারীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরেই প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েন, কারণ বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা করে। অনেককে মাঝপথে ফেরত পাঠানো হয় অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটে উঠতে বাধাও দেওয়া হয়।

এ বছরের জুন মাসে আরোপিত প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত জানাতে হোয়াইট হাউজের দেওয়া বিবৃতির শুরুতে ২০১৭ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে জারি করা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তখন এটিকে অনেক সময় ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ বলা হতো।

নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের মানুষের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তখন বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং অনেকবার সংশোধনও করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালত এটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করার রায় দেয়।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

চিলির নতুন প্রেসিডেন্ট কট্টর ডানপন্থি কাস্ত

ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, হোসে আন্তোনিও কাস্ত ৫৮ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টির ৫৯ বছর বয়সী এই নেতা এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করলেন।

১ দিন আগে

জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি নেতা জিমি

বিচারক বলেন, লাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিলেন। তিনি বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী। তবে এ অপরাধে তার সাজা কী হবে, আদালত সেটি পরে ঘোষণা করবেন।

১ দিন আগে

বাস গভীর খাদে, কলম্বিয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি

মেডেলিনের কাছের বেলো শহরের একটি স্কুলের ওই শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন উদ্‌যাপন করতে গিয়েছিল। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছর।

১ দিন আগে

অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুকধারী বাবা-ছেলের গুলিতে নিহত ১৫

নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন এসব তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। হামলায় জড়িত দুজনের নাম তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেননি। তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করেননি।

১ দিন আগে