মার্কিন ঘাঁটিতে ফের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, বিস্তৃত হচ্ছে সংঘাত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
তেহরানের রাস্তায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী তএকটি বিলবোর্ডের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ইরানি নারী। ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

একই সময়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে আরও ‘চরম পদক্ষেপ’ নিতে বাধ্য করতে পারে। তার হুঁশিয়ারি— ইরান যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তাহলে দেশটির সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো, এমনকি জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালাবে ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সেখানে মার্কিন সেনাদের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরঞ্জামের গুদাম এবং যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও রাডার ব্যবস্থাও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্য ছিল।

ইরান এসব হামলাকে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আঙ্কারাভিত্তিক প্রতিবেদনে একে ইরানের ‘অপারেশন সায়েকাহ’-এর ৩১তম ধাপ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলাটিকে ‘নির্লজ্জ ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর আগে বুধবার বাহরাইন ও জর্ডানও জানিয়েছিল, তারা ইরানের কয়েকটি বিমান হামলা প্রতিহত করেছে।

তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রপন্থি সূত্রের দাবিতে পার্থক্য রয়েছে। ইরান নির্দিষ্ট মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করলেও একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে ইরানবিষয়ক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাগুলো কোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করেনি।

হরমুজকে ঘিরেই নতুন উত্তেজনা

সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। রোববার হরমুজের একটি দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণকারী ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান ওই রকেট ব্যবহার করে হরমুজের পানিতে মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর থেকেই সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। বাস্তবে বাণিজ্যিক চলাচল এখনো যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের অনেক নিচে রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর তেলের দামও আবার বেড়েছে।

তবে ১ সেপ্টেম্বর হরমুজ দিয়ে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট, যুদ্ধ শুরুর পর কমে যাওয়া প্রবাহের তুলনায় যা ছিল বড় ধরনের পুনরুদ্ধার।

অর্থাৎ, জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামরিক উত্তেজনা এখনো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে যাচ্ছে’— দাবির বিপরীতে তেহরানের নতুন হামলা

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহের হামলাগুলো সেই দাবির বিপরীত একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

ইরান এবার যে অস্ত্রগুলোর একটি ব্যবহার করছে, সেটি হলো খেইবার শেকান, যা মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এ ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম সুবিধা এর কঠিন জ্বালানি ইঞ্জিন। ফলে উৎক্ষেপণের আগে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয় না। দ্রুত এটি মোতায়েন করা যায় এবং শনাক্ত হওয়ার আগেই উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

এর শেষ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত ও চালনাযোগ্য ব্যবস্থা যুক্ত করা যেতে পারে, যা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর উৎপাদন ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্র যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে, তার তুলনায় ইরানের এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অনেক কম খরচে তৈরি করা যায়। ফলে যুদ্ধটি শুধু কে কত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারছে, তার লড়াই নয়, এটি ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সাশ্রয়ী প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর তৈরির অর্থনৈতিক হিসাবেরও লড়াই হয়ে উঠছে।

ইরান বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এখনো চলছে

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি আগস্টের শেষ দিকে দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ততটা কমেনি। তিনি বলেন, শুরুতে অনেকে মনে করেছিলেন ইরানের কাছে সীমিত সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং যুদ্ধ চলতে থাকলে একসময় সেই মজুত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

জেনারেলে মোহেব্বির দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো টিকে আছে এবং উৎপাদনও অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রকৃত পরিমাণ বা উৎপাদনের হার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিষেধাজ্ঞায় চাপে ইরানের অর্থনীতি

সামরিক ক্ষেত্রে পালটা আঘাত চালাতে পারলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের ওপর চাপ যে বাড়ছে, তার প্রমাণও মিলছে। রয়টার্সের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে তিনজন ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের তেল রপ্তানির ওপর অবরোধ দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বৈদেশিক মুদ্রায় প্রবেশাধিকার প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিও কঠিন হয়ে পড়ছে। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রির প্রচলিত ব্যবস্থাগুলোও ক্রমে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

ফলে ইরানের অপরিশোধিত তেল লোডিংয়ের পরিমাণ দৈনিক প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল থেকে কমে দুই লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইরানের মুদ্রা রিয়ালেরও বড় পতন হয়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। এমনকি ইরানের কাছে মাত্র প্রায় দুই মাসের গ্যাসোলিন মজুত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপের আরেকটি রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে— ইরানের সরকার আশঙ্কা করছে, অর্থনৈতিক দুর্দশা নতুন করে ব্যাপক জনবিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি: ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ নিতে পারে তেহরান

এই অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সতর্ক করেছেন, নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর চাপ তৈরি করলেও এর ফল উল্টোও হতে পারে। তিনি বলেন, ইরানের ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ এবং সেখানে বিদ্রোহ বা সরকারের পতনের আশঙ্কা তেহরানকে আরও ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ নিতে ঠেলে দিতে পারে।

কাৎজের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব দেখছে এবং মনে করছে, শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা নিয়ে ভয় থেকেই ইরান আরও চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তার ভাষায়, ইরান ইসরায়েলে হামলা চালালে ‘ইসরায়েলের ওপর বিদ্যমান সব ধরনের সীমাবদ্ধতা উঠে যাবে’।

কাৎজ বলেন, ইসরায়েল তখন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ জাতীয় সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে এবং ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ঠেলে দেওয়ার মতো আঘাত হানবে। অর্থাৎ, তেহরানের অর্থনৈতিক সংকট যত গভীর হচ্ছে, ততই ইসরায়েলের আশঙ্কা— চাপের মুখে ইরান হয়তো আরও ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

বেসামরিক হতাহত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

নতুন করে সামরিক সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধের বেসামরিক মূল্যও সামনে এসেছে। কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত কয়েকজন বেসামরিক নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র জানতে চায় আসলে কী ঘটেছিল।

ইরান ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে এবং এর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর পরই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরানের হামলার ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এতে যুদ্ধের একটি নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে— সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করার পাশাপাশি ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত, বেসামরিক হতাহত এবং তার প্রতিশোধে আরও বড় হামলা।

ছয় মাস পর যুদ্ধ কোন দিকে?

ছয় মাসের যুদ্ধের এই পর্যায়ে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো— কোনো পক্ষই এখনো নির্ণায়ক বিজয় অর্জন করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তেহরানের ওপর এমন চাপ তৈরি করা, যেন দেশটির নেতৃত্বকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হয়। অন্যদিকে ইরান এখনো পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ ধরে রেখেছে।

ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে— তেল রপ্তানি কমেছে, মুদ্রার পতন ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।

আর হরমুজের পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ শুধু তার ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথের ওপর চাপ তৈরির ক্ষমতাও তেহরানের হাতে রয়েছে।

এ কারণেই যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানকে দুর্বল করছে, কিন্তু সেই দুর্বলতাই যদি তেহরানকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপে ঠেলে দেয়, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বিশেষ করে ইসরায়েল যদি ইরানের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালায় এবং তার জবাবে ইরান হরমুজ বা উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও বড় আঘাত হানে, তাহলে বর্তমান যুদ্ধ একটি সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থেকে আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

এই মুহূর্তে তাই যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু ইরানের কাছে আর কত ক্ষেপণাস্ত্র আছে— তা নয়; বরং প্রশ্ন হলো— অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক পালটা আঘাত ও হরমুজকে ঘিরে অচলাবস্থার মধ্যে কোনো পক্ষ প্রথমে কতটা বড় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৯ দিন পর ত্রিশূলী-থ্রিএ টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার ২ শ্রমিক

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, প্রথম উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় সাহ কাদামাটিতে পুরোপুরি ঢেকে আছেন। একজন উদ্ধারকারী তাকে কাঁধে করে টানেল থেকে বের করে আনছেন। পরে তাকে ত্রিশূলীতে নেপাল সেনাবাহিনীর ব্যারাকে নেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় শ্রমিক কবির মহার্জনকেও জীবিত বের করে আনা হয়।

২ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, বেসামরিক প্রাণহানিতে বাড়ছে উদ্বেগ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে বেসামরিক মানুষের হতাহতের খবরে ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার খবর তাকে উদ্বিগ্ন করেছে। তার মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এ কথা জানান। তিনি সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

১ দিন আগে

নেপাল-তিব্বতে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: মৃত্যু বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেবল নেপাল অংশেই ১ হাজার ২০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন। দেশটির সীমান্তবর্তী রসুয়া ও নুয়াকোট জেলাতেই প্রায় ১৬ লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভোতেকোশি নদী

১ দিন আগে

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়া ও ফিলিপিন্সের আকাশ

শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এ আগুন অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে কালিমেন্ট ও সুমাত্রার সুরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

১ দিন আগে
Advertisement