
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, প্রথম বছরে গাজা থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে সরানো হবে। এরপর পরবর্তী ছয় বছরে উপত্যকাটির বাকি প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকেও বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বেন-গভির দাবি করেছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য এবং এরই মধ্যে কিছু দেশ গাজার ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে ‘প্রস্তুত’ রয়েছে। তবে কোন কোন দেশ তাদের নিতে রাজি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি এই মন্ত্রীর প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যদিও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় সেই উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক আইনে দখল করা ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বেন-গভিরের পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক মহল ‘স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন’ হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বেন-গভিরের প্রস্তাবটি ২০ পৃষ্ঠার একটি নথিতে তুলে ধরা হয়েছে। নথিটির নাম দেওয়া হয়েছে— ‘গাজা উপত্যকা থেকে স্বেচ্ছামূলক অভিবাসনের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’।
পরিকল্পনায় ‘স্বেচ্ছামূলক’ ব্যবহার করা হলেও আন্তর্জাতিক মহলে একে জবরদস্তিমূলক উচ্ছেদের পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হতে পারে। কারণ গাজার বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ, ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে মানুষকে উপত্যকা ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে স্বেচ্ছামূলক সিদ্ধান্ত বলা কঠিন। বিশেষ করে বেন-গভির নিজেই যখন স্পষ্ট করে বলেছেন, তার লক্ষ্য গাজার ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে সরিয়ে দেওয়া।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই— কোনো জনগোষ্ঠীর বসবাসের পরিবেশ এমনভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলে, পরে তাদের অন্য দেশে চলে যাওয়াকে কতটা ‘স্বেচ্ছামূলক’ বলা যায়।
চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনও জানিয়েছিল, গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে গাজার পুরো জনসংখ্যাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার নতুন এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বেন-গভিরের ঘোষণার মাত্র কিছুদিন আগে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি জানিয়েছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েল ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন চাইছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত এক সম্মেলনে কাৎজ বলেন, বিষয়টি ট্রাম্পের কারণে ‘স্থগিত’ হয়ে গেলেও আলোচনা এখনো চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অভিবাসন ‘যেকোনো উপায়ে’ সহজ করে দেবে ইসরায়েল।
কাৎজের বক্তব্যও পরিকল্পনাটির তথাকথিত ‘স্বেচ্ছামূলক’ চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে। কারণ, ‘যেকোনো উপায়ে’ মানুষকে গাজা ছাড়তে সহায়তা করার কথা বলার মধ্যে জবরদস্তির সম্ভাবনা স্পষ্ট বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প নিজেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা পুনর্গঠন করবে। পরে অবশ্য সেই প্রস্তাব থেকে কিছুটা সরে আসেন তিনি।
ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে নিজের উগ্র ডানপন্থি সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে বেন-গভির ধারাবাহিকভাবে একের পর এক বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
সম্প্রতি তিনি এমন একটি স্থান থেকে ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইহুদি উগ্রপন্থিদের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অন্য একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নিয়েও তাকে উল্লাস করতে দেখা গেছে।
বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থি দল ‘জিউইশ পাওয়ার’ বা ‘ইহুদি শক্তি’ আগামী নির্বাচনে সাতটি আসন পেতে পারে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সরকার গঠনের সময় দলটি পরবর্তী সরকারের কাছে ‘অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানাবে বলেও বেন-গভির জানিয়েছেন।
বেন-গভিরের দাবি, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাটি হঠাৎ তৈরি হয়নি। এটি গত দেড় বছর ধরে কাজ করে তৈরি করা হয়েছে এবং এখন এটি একটি ‘সুনির্দিষ্ট’ পরিকল্পনা।
সাম্প্রতিক ইসরায়েলি প্রতিবেদনে পরিকল্পনাটিকে ‘ডিজিএংগেজমেন্ট ৭১০’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রথম বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার এবং সাত বছরের মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে সরানোর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনায় গাজা ছাড়তে আগ্রহীদের জন্য গন্তব্য দেশের সঙ্গে সমঝোতা, নিয়ন্ত্রিত অভিবাসনপথ এবং পুনর্বাসন সহায়তার কথাও বলা হয়েছে।
বেন-গভিরের রাজনৈতিক অবস্থান শুধু গাজার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইসরায়েলের দুই আইনপ্রণেতা এবং আরও কয়েকজনকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত নন’। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তালিকায় ইহুদিরাও রয়েছেন।
বেন-গভির বলেছেন, পরবর্তী সরকারে তার দলকে রাখা হলে তিনি এমন একটি নীতি এগিয়ে নেবেন, যার আওতায় রাষ্ট্রের প্রতি ‘অবিশ্বস্ত’ বলে বিবেচিত ব্যক্তিদেরও বহিষ্কার করা হতে পারে।
ফলে গাজা থেকে প্রায় পুরো ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ঘোষণা এবং ইসরায়েলের ভেতর ‘অবিশ্বস্ত’ ব্যক্তিদের বহিষ্কারের আহ্বান— সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে বেন-গভিরের রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
এদিকে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি উপত্যকার ভেতরে ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার গাজার একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, গাজায় দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েল পিছু হটবে না।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যাহার করছি না। আমরা এই অবস্থানেই থাকছি। আমরা উপত্যকার ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছি। আরও অনেক কিছু বাকি আছে। কারণ, যারা আমাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে, সেই সন্ত্রাসীদের আমরা প্রতিদিনই নির্মূল করছি।’
ইসরায়েলের উপপ্রধান সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল তামির ইয়াদাইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। এই নিয়ন্ত্রণের পরিমাণ গত বছর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত ৫৩ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরায়েল যে পরিমাণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা ছিল, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, প্রথম বছরে গাজা থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে সরানো হবে। এরপর পরবর্তী ছয় বছরে উপত্যকাটির বাকি প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকেও বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বেন-গভির দাবি করেছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নযোগ্য এবং এরই মধ্যে কিছু দেশ গাজার ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে ‘প্রস্তুত’ রয়েছে। তবে কোন কোন দেশ তাদের নিতে রাজি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি এই মন্ত্রীর প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যদিও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় সেই উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক আইনে দখল করা ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগণকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বেন-গভিরের পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক মহল ‘স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন’ হিসেবে গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বেন-গভিরের প্রস্তাবটি ২০ পৃষ্ঠার একটি নথিতে তুলে ধরা হয়েছে। নথিটির নাম দেওয়া হয়েছে— ‘গাজা উপত্যকা থেকে স্বেচ্ছামূলক অভিবাসনের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’।
পরিকল্পনায় ‘স্বেচ্ছামূলক’ ব্যবহার করা হলেও আন্তর্জাতিক মহলে একে জবরদস্তিমূলক উচ্ছেদের পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হতে পারে। কারণ গাজার বাসিন্দাদের ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ, ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে মানুষকে উপত্যকা ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে স্বেচ্ছামূলক সিদ্ধান্ত বলা কঠিন। বিশেষ করে বেন-গভির নিজেই যখন স্পষ্ট করে বলেছেন, তার লক্ষ্য গাজার ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে সরিয়ে দেওয়া।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই— কোনো জনগোষ্ঠীর বসবাসের পরিবেশ এমনভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হলে, পরে তাদের অন্য দেশে চলে যাওয়াকে কতটা ‘স্বেচ্ছামূলক’ বলা যায়।
চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনও জানিয়েছিল, গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে গাজার পুরো জনসংখ্যাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার নতুন এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বেন-গভিরের ঘোষণার মাত্র কিছুদিন আগে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি জানিয়েছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েল ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন চাইছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত এক সম্মেলনে কাৎজ বলেন, বিষয়টি ট্রাম্পের কারণে ‘স্থগিত’ হয়ে গেলেও আলোচনা এখনো চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অভিবাসন ‘যেকোনো উপায়ে’ সহজ করে দেবে ইসরায়েল।
কাৎজের বক্তব্যও পরিকল্পনাটির তথাকথিত ‘স্বেচ্ছামূলক’ চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে। কারণ, ‘যেকোনো উপায়ে’ মানুষকে গাজা ছাড়তে সহায়তা করার কথা বলার মধ্যে জবরদস্তির সম্ভাবনা স্পষ্ট বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
এর আগে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প নিজেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা পুনর্গঠন করবে। পরে অবশ্য সেই প্রস্তাব থেকে কিছুটা সরে আসেন তিনি।
ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে নিজের উগ্র ডানপন্থি সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে বেন-গভির ধারাবাহিকভাবে একের পর এক বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
সম্প্রতি তিনি এমন একটি স্থান থেকে ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইহুদি উগ্রপন্থিদের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অন্য একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নিয়েও তাকে উল্লাস করতে দেখা গেছে।
বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থি দল ‘জিউইশ পাওয়ার’ বা ‘ইহুদি শক্তি’ আগামী নির্বাচনে সাতটি আসন পেতে পারে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সরকার গঠনের সময় দলটি পরবর্তী সরকারের কাছে ‘অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানাবে বলেও বেন-গভির জানিয়েছেন।
বেন-গভিরের দাবি, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাটি হঠাৎ তৈরি হয়নি। এটি গত দেড় বছর ধরে কাজ করে তৈরি করা হয়েছে এবং এখন এটি একটি ‘সুনির্দিষ্ট’ পরিকল্পনা।
সাম্প্রতিক ইসরায়েলি প্রতিবেদনে পরিকল্পনাটিকে ‘ডিজিএংগেজমেন্ট ৭১০’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রথম বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার এবং সাত বছরের মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজা থেকে সরানোর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনায় গাজা ছাড়তে আগ্রহীদের জন্য গন্তব্য দেশের সঙ্গে সমঝোতা, নিয়ন্ত্রিত অভিবাসনপথ এবং পুনর্বাসন সহায়তার কথাও বলা হয়েছে।
বেন-গভিরের রাজনৈতিক অবস্থান শুধু গাজার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইসরায়েলের দুই আইনপ্রণেতা এবং আরও কয়েকজনকে দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত নন’। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তালিকায় ইহুদিরাও রয়েছেন।
বেন-গভির বলেছেন, পরবর্তী সরকারে তার দলকে রাখা হলে তিনি এমন একটি নীতি এগিয়ে নেবেন, যার আওতায় রাষ্ট্রের প্রতি ‘অবিশ্বস্ত’ বলে বিবেচিত ব্যক্তিদেরও বহিষ্কার করা হতে পারে।
ফলে গাজা থেকে প্রায় পুরো ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ঘোষণা এবং ইসরায়েলের ভেতর ‘অবিশ্বস্ত’ ব্যক্তিদের বহিষ্কারের আহ্বান— সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে বেন-গভিরের রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর ও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
এদিকে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি উপত্যকার ভেতরে ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার গাজার একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, গাজায় দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েল পিছু হটবে না।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যাহার করছি না। আমরা এই অবস্থানেই থাকছি। আমরা উপত্যকার ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছি। আরও অনেক কিছু বাকি আছে। কারণ, যারা আমাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে, সেই সন্ত্রাসীদের আমরা প্রতিদিনই নির্মূল করছি।’
ইসরায়েলের উপপ্রধান সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল তামির ইয়াদাইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। এই নিয়ন্ত্রণের পরিমাণ গত বছর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত ৫৩ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরায়েল যে পরিমাণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা ছিল, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এ আগুন অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে কালিমেন্ট ও সুমাত্রার সুরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
১ দিন আগে
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের উত্তরে ‘সিদর’ জাহাজটিকে লক্ষ্য করে কয়েকটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল ছোঁড়া হয়। প্রায় একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের আরেকটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে সৌদি অপর
১ দিন আগে
কুয়েত কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে স্পষ্ট করেছে যে, দেশজুড়ে যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কর্তৃক শত্রুর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে।
১ দিন আগে
বেইজিংয়ে বসবাস করা পাউকেন বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় সম্পাদক ও ভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেছেন। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের হয়ে নিবন্ধন না করে এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন।
২ দিন আগে