ম্যাক্রোঁকে চাপে রাখতে ফরাসি মদে ২০০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত

নিজের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে ফ্রান্সকে যুক্ত করতে চাপ বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যেই ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ হুমকি দেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ফ্রান্স সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে।

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের উদ্যোগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যোগ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেন, ‘তিনি (ম্যাক্রোঁ) কি তাই বলেছেন? আসলে কেউ তাকে এই বোর্ডে চায় না। কারণ, খুব শিগগিরই তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নিচ্ছেন।’

এরপরই শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফরাসি ওয়াইন আর শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব। তখন দেখবেন তিনি ঠিকই যোগ দেবেন। যদিও তাকে যোগ দিতেই হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ আপাতত প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা ঘোষণার সময় প্রথম ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ওয়াশিংটন বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের কাছে এ–সংক্রান্ত একটি খসড়া সনদ পাঠিয়েছে।

রয়টার্সের হাতে আসা নথির বরাতে বার্তাসংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো দেশ যদি তিন বছরের বেশি সময় এই বোর্ডের সদস্যপদ ধরে রাখতে চায়, তবে তাদের নগদ ১০০ কোটি ডলার চাঁদা দিতে হবে।

রয়টার্স বলেছে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। এ ধরনের কাঠামো জাতিসংঘের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে করছেন তারা।

এ ছাড়া ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত কিংবা ফরাসি পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকির মতো একের পর এক আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা অবৈধ: জাতিসংঘ দূত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছেন ইরানে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সাটো। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটিতে আগে থেকেই মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল নাজুক। এ হামলার পর সে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

৬ ঘণ্টা আগে

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান ও বাসিজ ফোর্স প্রধান নিহত, দাবি ইসরায়েলের

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

৮ ঘণ্টা আগে

মস্কোয় চিকিৎসা নিচ্ছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কুয়েতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জারিদার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে তাকে মস্কো পাঠানো হয়েছে।

৯ ঘণ্টা আগে

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল— কে কী পেতে চাইছে যুদ্ধ থেকে?

ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্রদের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি হতো যদি এই যুদ্ধের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহদের শাসনের অবসান ঘটে এবং দ্রুত সেখানে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আসে; যারা নিজেদের জনগণ বা প্রতিবেশীদের জন্য আর হুমকি হবে না।

৯ ঘণ্টা আগে