
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও হামাসের দমনমূলক শাসনের মধ্যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণ কার্যত সব পক্ষের নিপীড়নের শিকার হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা এমন এক বাস্তবতার মধ্যে আটকা পড়েছে যেখানে একদিকে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ‘চরম নৃশংসতা’, অন্যদিকে গাজায় রয়েছে হামাসের ‘কট্টরপন্থি শাসন’।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল, পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, অঞ্চলটির সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনিরা ‘পদ্ধতিগত ও ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার’ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে কমিশন তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যার আইনি মানদণ্ড পূরণ করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন প্রায় তিন বছর ধরে চলছে। এ সময় গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য ‘প্রাথমিকভাবে দায়ী’ ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও দখলনীতি আরও জোরদার হয়েছে।
জাতিসংঘের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত এক হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনি হামলা কিংবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যে অন্তত ৪৬ জন ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা ইসরায়েলি নীতির প্রত্যক্ষ ফল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা কার্যত রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতির লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে স্থায়ী করা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে কার্যত সংযুক্ত (অ্যানেক্স) করা এবং ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই এ তদন্ত কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাতিত্বে’র অভিযোগ করে আসছে।
প্রতিবেদনে গাজায় ক্ষমতাসীন হামাসের ভূমিকাও কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। কমিশন বলেছে, গাজায় হামাস এবং তাদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী।
গাজাবাসীরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যেখানে তাদের শাসনের দাবি করা গোষ্ঠীই তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, ‘অবিরাম ইসরায়েলি হামলা ও গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যে শূন্যতা তৈরি করেছে, হামাস-সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেটির সুযোগ নিয়েছে।’
তবে মুরালিধর একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। তিনি বলেন, ‘উৎস ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের ফলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আর উভয় ক্ষেত্রই এমন এক পরিবেশে ঘটছে, যা ইসরায়েলের তৈরি করা বাস্তবতার মধ্যে গড়ে উঠেছে।’
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই নতুন প্রতিবেদন মূলত একটি বিষয়ই সামনে এনেছে— দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দখলদারিত্ব, সামরিক অভিযান ও অভ্যন্তরীণ দমননীতির মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীর হোক কিংবা গাজা, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই জনগোষ্ঠী ক্রমেই নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ হারাচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও হামাসের দমনমূলক শাসনের মধ্যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণ কার্যত সব পক্ষের নিপীড়নের শিকার হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা এমন এক বাস্তবতার মধ্যে আটকা পড়েছে যেখানে একদিকে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ‘চরম নৃশংসতা’, অন্যদিকে গাজায় রয়েছে হামাসের ‘কট্টরপন্থি শাসন’।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল, পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, অঞ্চলটির সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনিরা ‘পদ্ধতিগত ও ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার’ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে কমিশন তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গণহত্যার আইনি মানদণ্ড পূরণ করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন প্রায় তিন বছর ধরে চলছে। এ সময় গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য ‘প্রাথমিকভাবে দায়ী’ ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও দখলনীতি আরও জোরদার হয়েছে।
জাতিসংঘের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত এক হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনি হামলা কিংবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মধ্যে অন্তত ৪৬ জন ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং তা ইসরায়েলি নীতির প্রত্যক্ষ ফল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা কার্যত রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতির লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে স্থায়ী করা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে কার্যত সংযুক্ত (অ্যানেক্স) করা এবং ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা। তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই এ তদন্ত কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাতিত্বে’র অভিযোগ করে আসছে।
প্রতিবেদনে গাজায় ক্ষমতাসীন হামাসের ভূমিকাও কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। কমিশন বলেছে, গাজায় হামাস এবং তাদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী।
গাজাবাসীরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যেখানে তাদের শাসনের দাবি করা গোষ্ঠীই তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, ‘অবিরাম ইসরায়েলি হামলা ও গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যে শূন্যতা তৈরি করেছে, হামাস-সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেটির সুযোগ নিয়েছে।’
তবে মুরালিধর একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। তিনি বলেন, ‘উৎস ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের ফলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আর উভয় ক্ষেত্রই এমন এক পরিবেশে ঘটছে, যা ইসরায়েলের তৈরি করা বাস্তবতার মধ্যে গড়ে উঠেছে।’
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এই নতুন প্রতিবেদন মূলত একটি বিষয়ই সামনে এনেছে— দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, দখলদারিত্ব, সামরিক অভিযান ও অভ্যন্তরীণ দমননীতির মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীর হোক কিংবা গাজা, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই জনগোষ্ঠী ক্রমেই নিরাপত্তা, অধিকার ও স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ হারাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বোমা হামলা চালালে অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কে তা চায়? আমি অন্তত তা চাই না। তাছাড়া, সামরিক হামলার চেয়ে আলোচনার টেবিলে সই হওয়া একটি লিখিত চুক্তি অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী হবে।’
১১ ঘণ্টা আগে
উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ১ লাখ ডলারের (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) নতুন ভিসা ফি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
১৩ ঘণ্টা আগে
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস আরও বলেছে, আপাচি হেলিকপ্টারটি কি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে নাকি এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না সেটি এখনো জানা যায়নি।
১৪ ঘণ্টা আগে
ভূমিকম্পের পর প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে একাধিক ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে একটি জোলিবি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে