
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

দক্ষিণ ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করতে গিয়ে গ্রিসে তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস ও তুরস্কে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন দাবানল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সতর্ক করে বলেছে, সামনের সপ্তাহগুলো আরও কঠিন হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস থেকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত দাবানলের এই ধারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে নজিরবিহীন। অনেক আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং শহর ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গ্রিক ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ক্রিট দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানল নেভানোর সময় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গ্রিসের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী তুরস্কেও।
ইইউর জরুরি প্রতিক্রিয়া সমন্বয় কেন্দ্র (ইআরসিসি) মনে করছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাবানলের কেন্দ্র ফ্রান্স থেকে আরও বেশি করে গ্রিসের দিকে সরে যেতে পারে।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানলকে 'প্রযুক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণে' আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা।
রাতভর কাজ করে দমকলকর্মীরা আগুনের বিস্তার থামাতে সক্ষম হলেও ভ্যালেন্সিয়ার কাছে আরেকটি দাবানল এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দাবানলকে সর্বোচ্চ 'অপারেশনাল লেভেল-৩'-এ উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে দুর্যোগ মোকাবিলার দায়িত্ব সরাসরি জাতীয় সরকার গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, পরবর্তী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটি ধরে রাখা হবে কি না, তা এই সময়ের ওপর নির্ভর করছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ বিভাগে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ঝুঁকি এখনো কাটেনি। মঙ্গলবার রাতের তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়ায় আগুনের নতুন বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া আবার প্রতিকূল হয়ে উঠছে। দাবানল শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৬ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। যদিও আগুনে পুড়ে যাওয়া মোট এলাকা এখনো ৪২ হাজার হেক্টরের চেয়ে বাড়েনি।
বুধবার বোর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা শহরতলির দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সক্ষম হলেও পরিস্থিতি এখনো সতর্কতার পর্যায়ে রয়েছে।

ইউরোপীয় ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে বছরের এই সময়ে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের সংখ্যাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দাবানলের কারণে দক্ষিণ ইউরোপে তিন লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ও হোটেল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে।
আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় বোর্দো, মাদ্রিদ ও ভ্যালেন্সিয়ার আশপাশের বহু মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ফিরে গিয়ে অনেকে দেখেছেন, তাদের বাড়িঘর ও ব্যক্তিগত সম্পদ আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
মাদ্রিদ অঞ্চলের পেলায়োস দে লা প্রেসার ৭৪ বছর বয়সী বাসিন্দা হোসে ফার্নান্দেজ বলেন, 'আমার কাছে এখন কোনো টাকা নেই, কোনো কাগজপত্র নেই, এমনকি থাকার মতো বাড়িও নেই। সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।'
দাবানল মোকাবিলায় বিভিন্ন সদস্যদেশের মধ্যে সমন্বিত সহায়তা অব্যাহত রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন দমকলকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ইউরোপীয় সংহতির কোনো সীমা নেই। রোমানিয়া ও গ্রিস তাদের সহায়তা মিশনের মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং পোল্যান্ডও নতুন করে সহায়তায় যোগ দেবে।
এর আগে কমিশন জানায়, ফ্রান্সের জন্য সুইডেন, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সাতটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও চারটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনে গ্রিস, ইতালি ও তুরস্ক থেকে ছয়টি বিমান, পর্তুগাল থেকে ১৩৪ জন উদ্ধারকর্মী ও ৪১টি যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিয়া থেকেও একটি সুপার পুমা হেলিকপ্টার, ৪০ জন কর্মী এবং ১৮টি যানবাহন স্পেনে পাঠানো হচ্ছে।

ইইউর জরুরি প্রতিক্রিয়া সমন্বয় কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মারিয়া জুবার বলেন, আগামী কয়েক দিন ফ্রান্সের জন্য খুবই কঠিন হবে। এরপর একই ধরনের ঝুঁকি গ্রিসে আরও বাড়তে পারে।
কেন্দ্রটির দাবানল বিশেষজ্ঞ মোইসেস গালান সান্তানো বলেন, শুধু আগুন নেভানোর সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না। দাবানল প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এ বছর ইউরোপীয় কমিশন একটি নীতিপত্রে বনাঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত চারণভূমি সম্প্রসারণ, জলাভূমি ও নদী পুনরুদ্ধার, দাবানল-সংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থা উন্নত করা এবং নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পশ্চিম ইউরোপের চলতি গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের পেছনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে।
একাধিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনের রেকর্ড তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া কার্যত অসম্ভব ছিল। একই সঙ্গে পশ্চিম ইউরোপে মাটির অস্বাভাবিক শুষ্কতা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাঁচ গুণ বেশি সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে, যা বড় দাবানলের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের তাপপ্রবাহে ইউরোপে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি খরার কারণে শস্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষিখাতে প্রায় ২০০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে।
ইউরোপীয় গ্রিন পার্টির সহসভাপতি ভুলা ত্সেতসি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ ও দাবানল এখন রেকর্ড হারে প্রাণহানি, বন ধ্বংস এবং ঘরবাড়ি হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, ইউরোপ জুড়ে সংকটের যে মাত্রা তৈরি হয়েছে, তার তুলনায় সমন্বিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখনো যথেষ্ট নয়।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

দক্ষিণ ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করতে গিয়ে গ্রিসে তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস ও তুরস্কে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন দাবানল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সতর্ক করে বলেছে, সামনের সপ্তাহগুলো আরও কঠিন হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস থেকে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত দাবানলের এই ধারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে নজিরবিহীন। অনেক আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং শহর ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গ্রিক ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ক্রিট দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানল নেভানোর সময় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গ্রিসের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী তুরস্কেও।
ইইউর জরুরি প্রতিক্রিয়া সমন্বয় কেন্দ্র (ইআরসিসি) মনে করছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাবানলের কেন্দ্র ফ্রান্স থেকে আরও বেশি করে গ্রিসের দিকে সরে যেতে পারে।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানলকে 'প্রযুক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণে' আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা।
রাতভর কাজ করে দমকলকর্মীরা আগুনের বিস্তার থামাতে সক্ষম হলেও ভ্যালেন্সিয়ার কাছে আরেকটি দাবানল এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দাবানলকে সর্বোচ্চ 'অপারেশনাল লেভেল-৩'-এ উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে দুর্যোগ মোকাবিলার দায়িত্ব সরাসরি জাতীয় সরকার গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, পরবর্তী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটি ধরে রাখা হবে কি না, তা এই সময়ের ওপর নির্ভর করছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ বিভাগে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ঝুঁকি এখনো কাটেনি। মঙ্গলবার রাতের তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়ায় আগুনের নতুন বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া আবার প্রতিকূল হয়ে উঠছে। দাবানল শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৬ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। যদিও আগুনে পুড়ে যাওয়া মোট এলাকা এখনো ৪২ হাজার হেক্টরের চেয়ে বাড়েনি।
বুধবার বোর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা শহরতলির দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সক্ষম হলেও পরিস্থিতি এখনো সতর্কতার পর্যায়ে রয়েছে।

ইউরোপীয় ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে বছরের এই সময়ে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের সংখ্যাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দাবানলের কারণে দক্ষিণ ইউরোপে তিন লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ও হোটেল ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে।
আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় বোর্দো, মাদ্রিদ ও ভ্যালেন্সিয়ার আশপাশের বহু মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ফিরে গিয়ে অনেকে দেখেছেন, তাদের বাড়িঘর ও ব্যক্তিগত সম্পদ আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
মাদ্রিদ অঞ্চলের পেলায়োস দে লা প্রেসার ৭৪ বছর বয়সী বাসিন্দা হোসে ফার্নান্দেজ বলেন, 'আমার কাছে এখন কোনো টাকা নেই, কোনো কাগজপত্র নেই, এমনকি থাকার মতো বাড়িও নেই। সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।'
দাবানল মোকাবিলায় বিভিন্ন সদস্যদেশের মধ্যে সমন্বিত সহায়তা অব্যাহত রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন দমকলকর্মীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ইউরোপীয় সংহতির কোনো সীমা নেই। রোমানিয়া ও গ্রিস তাদের সহায়তা মিশনের মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং পোল্যান্ডও নতুন করে সহায়তায় যোগ দেবে।
এর আগে কমিশন জানায়, ফ্রান্সের জন্য সুইডেন, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সাতটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও চারটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনে গ্রিস, ইতালি ও তুরস্ক থেকে ছয়টি বিমান, পর্তুগাল থেকে ১৩৪ জন উদ্ধারকর্মী ও ৪১টি যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিয়া থেকেও একটি সুপার পুমা হেলিকপ্টার, ৪০ জন কর্মী এবং ১৮টি যানবাহন স্পেনে পাঠানো হচ্ছে।

ইইউর জরুরি প্রতিক্রিয়া সমন্বয় কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মারিয়া জুবার বলেন, আগামী কয়েক দিন ফ্রান্সের জন্য খুবই কঠিন হবে। এরপর একই ধরনের ঝুঁকি গ্রিসে আরও বাড়তে পারে।
কেন্দ্রটির দাবানল বিশেষজ্ঞ মোইসেস গালান সান্তানো বলেন, শুধু আগুন নেভানোর সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না। দাবানল প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এ বছর ইউরোপীয় কমিশন একটি নীতিপত্রে বনাঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত চারণভূমি সম্প্রসারণ, জলাভূমি ও নদী পুনরুদ্ধার, দাবানল-সংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থা উন্নত করা এবং নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পশ্চিম ইউরোপের চলতি গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের পেছনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে।
একাধিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনের রেকর্ড তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া কার্যত অসম্ভব ছিল। একই সঙ্গে পশ্চিম ইউরোপে মাটির অস্বাভাবিক শুষ্কতা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাঁচ গুণ বেশি সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে, যা বড় দাবানলের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের তাপপ্রবাহে ইউরোপে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি খরার কারণে শস্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষিখাতে প্রায় ২০০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে।
ইউরোপীয় গ্রিন পার্টির সহসভাপতি ভুলা ত্সেতসি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ ও দাবানল এখন রেকর্ড হারে প্রাণহানি, বন ধ্বংস এবং ঘরবাড়ি হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, ইউরোপ জুড়ে সংকটের যে মাত্রা তৈরি হয়েছে, তার তুলনায় সমন্বিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখনো যথেষ্ট নয়।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

সম্প্রতি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও রাজধানী রিয়াদের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরাক ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মূলত সেসব ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়। সৌদি আরব জানায়, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না; তবে দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্
১ দিন আগে
ইরানের এ পদক্ষেপের জবাবে ইরাকে অবস্থিত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক অস্ত্র ও রসদ ঘাঁটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী। সেন্টকম জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশে চালানো ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এ
১ দিন আগে
জেলেনস্কির দাবি, আলোচনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা- ‘প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর’ উৎপাদনের লাইসেন্স নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বিপরীতে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এটাই ছিলো তার এ যাবৎকালের সেরা বৈঠক।
১ দিন আগে