মিত্র থেকে শত্রু— যেভাবে বদলে যায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
২০১৫ সালের ১৪ জুলাই অস্ট্রিয়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে সেই আলোচনাস্থলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: রয়টার্স

সারা বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, যেখানে আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সঙ্গে যে যুদ্ধ শুরু, ৪০ দিনের মাথায় তাতে আসে যুদ্ধবিরতি। সেই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, আলোচনায় দুপক্ষ স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না— এসব প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ঘিরে।

এই ফেব্রুয়ারির মাত্র আট মাস আগে গত জুনেও যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এ বৈরিতার সম্পর্ক নতুন নয়, বলতে গেলে ৪৭ বছরের পুরনো। কিন্তু বরাবরই কি এই দুই দেশের সম্পর্ক এমন বৈরী ছিল? বরাবরই কি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরকে শত্রুজ্ঞান করে আসছে?

ইতিহাস ঘাঁটলে যে উত্তর মিলবে, তা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে, কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্ক একসময় ছিল ঘনিষ্ঠ মিত্রের! শুধু তাই নয়, ইরানের যে পরমাণু কর্মসূচি, তার সূচনাই হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায়! অথচ এই পরমাণু কর্মসূচি ঘিরেই গত কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর দফায় দফায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইতিহাসের পাঠ বলছে, ১৯৭৯ সাল বছরটিই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার শত্রুমিত্র সম্পর্কে একরকম কাঁটাতারের বেড়া হয়ে রয়েছে। ওই বছর ইরানে যে ইসলামি বিপ্লব ঘটে, তাতে পতন ঘটে রাজতন্ত্রের ধারক রেজা শাহ পাহলভির, যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ। মূলত তার ক্ষমতার আরোহণও হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই।

ফলে পাহলভির শাসনমাল ও পতন— এটিই মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দুই বিপরীতমুখী অধ্যায় হয়ে রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ১৯৭৯ সালের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের যে রসায়ন, তারই সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো সময়ের ধারাবাহিকতা ধরে।

মিত্রতার বন্ধন

  • ১৯৫৩: অভ্যুত্থান ও ক্ষোভের বীজ

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ২৬ বছর আগেও এক অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। সে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক। ইতিহাস বলছে, মোসাদ্দেক সরকারের পতনের জন্য গোপনে সে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, যাদের প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিল যুক্তরাজ্য।

ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পশ্চিমাপন্থি সাবেক রাজা মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে আবার ক্ষমতায় বসানো হয়। এই বিদেশি হস্তক্ষেপ ইরানে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। ইরানের জনগণের একাংশের মধ্যে তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোবৃত্তি বাসা বাঁধে, যা ক্রমেই স্থায়ী রূপ পায়। তবে রাষ্ট্র হিসেবে পাহলভির নেতৃত্বাধীন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ।

  • ১৯৫৪: তেল খাতে পশ্চিমাদের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চাপে পাহলভি ১৯৫৪ সালে ‘কনসোর্টিয়াম চুক্তি’তে সই করেন। এই চুক্তির ফলে মার্কিন, ব্রিটিশ ও ফরাসি তেল কোম্পানিগুলো ২৫ বছরের জন্য ইরানের জাতীয় তেল শিল্পের ৪০ শতাংশ মালিকানা পায়। এ উদ্যোগও ইরানিদের একাংশকে ক্ষুব্ধ করে। তবে তেলের মালিকানা পেয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে ইরান সরকারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।

  • ১৯৫৭: পারমাণবিক কর্মসূচির সূচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুইট ডি আইজেনহাওয়ারের ‘অ্যাটমস ফর পিস’ উদ্যোগের অধীনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি পরমাণু চুক্তি সই করে। এ চুক্তির নাম ছিল ‘কোঅপারেশন কনসার্নিং সিভিল ইউশেজ অব অ্যাটমস’। শিরোনামের মতোই খাতাকলমে এ চুক্তির লক্ষ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তি ভাগাভাগি করা।

এ চুক্তির বদৌলতেই গড়ে ওঠে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তি। পরে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির অধীনে ইরানকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর ও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানি সরবরাহ করে গেছে।

  • ১৯৬০: ওপেক গঠন

তেল রপ্তানিকারক শীর্ষ দেশ ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনেজুয়েলা মিলে গড়ে তোলে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। এর লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক তেলের বাজারে পশ্চিমাদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা এবং নিজেদের তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা।

সত্তরের দশকে ওপেকের বিপুল মুনাফা তাদের পশ্চিমা অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা দেয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হয় ইরান।

১৯৬২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির দেওয়া নৈশভোজে ইরানের শাহ (রাজা) মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ও তার স্ত্রী ফারাহ দিবা পাহলভি। ছবি: সংগৃহীত
১৯৬২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির দেওয়া নৈশভোজে ইরানের শাহ (রাজা) মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ও তার স্ত্রী ফারাহ দিবা পাহলভি। ছবি: সংগৃহীত

  • ১৯৭২: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক ঘনিষ্ঠতা

এ বছর ইরান সফরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। সফরে শাহ পাহলভির কাছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা চান তিনি। বিশেষ করে সোভিয়েতপন্থি ইরাকের মোকাবিলায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর বিনিময়ে নিক্সন ইরানকে যেকোনো অ-পরমাণু অস্ত্র কেনার অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈরী পর্ব

  • ১৯৭৯: ইসলামি বিপ্লব ও মার্কিন-সমর্থিত শাহ রাজত্বের পতন

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক রাষ্ট্রীয়ভাবে শক্তিশালী হলেও ইসলামপন্থিসহ বহু ইরানির মধ্যেই পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছিল। ইরানিদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ অংশটি পাহলভির স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে থাকে। অন্যদিকে ইসলামপন্থিরা পশ্চিমা প্রভাবে ছড়িয়ে পড়া পাহলভির তথাকথিত আধুনিকীকরণকে প্রত্যাখ্যান করে। এ অসন্তোষ ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

১৯৭৮-৭৯ সালে এ বিক্ষোভ গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে ধর্মীয় গোষ্ঠী থেকে শুরু করে বামপন্থি ও জাতীয়তাবাদীদের মতো ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের মানুষও একত্রিত হয়ে শাহবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন।

এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ১৪ বছরের নির্বাসন শেষে ইরানে ফিরে আসেন ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, যিনি ইসলামি বিপ্লবের প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। তার প্রত্যাবর্তনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইসলামি বিপ্লবই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে বদলে দেয়— মিত্রতা থেকে তা সরাসরি রূপ নেয় বৈরিতায়।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় শাহ (রাজা) মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ইসলামপন্থি ছাড়াও ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ইরানিরাও। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় শাহ (রাজা) মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ইসলামপন্থি ছাড়াও ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ইরানিরাও। ছবি: সংগৃহীত

  • ১৯৭৯-৮০: জিম্মি সংকট, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন

১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে প্রত্যর্পণের দাবিতে শিক্ষার্থী-কর্মীরা তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল করে। এ ঘটনায় ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়।

১৯৮০ সালের এপ্রিলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এদিকে ৯ মাস পর মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়।

  • ১৯৮০-৮৮: বাড়তে থাকে বৈরিতা, যুক্ত আঞ্চলিক রাজনীতি

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের মধ্যেই ইরাকের দিকে ঝুঁকে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের তখনকার প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ইরানে আগ্রাসন চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে ইরাককে অর্থনৈতিক ছাড়াও প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

  • ১৯৯২-৯৬: আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা

এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করতে থাকে। ১৯৯২ সালে ‘ইরান-ইরাক আর্মস ননপ্রোলিফারেশন অ্যাক্ট’ নামে আইন পাস করে মার্কিন কংগ্রেস। এ আইনের মাধ্যমে এমন সব সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যেগুলো উন্নত অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।

এরপর ১৯৯৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তেল ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কার্যত বন্ধ করে দেয়।

১৯৯৬ সালে ‘ইরান অ্যান্ড লিবিয়া স্যাংশনস অ্যাক্ট’ পাসের মাধ্যমে সে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। এ আইনে বলা হয়, কোনো অ-মার্কিন কোম্পানি যদি বছরে ২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

  • ২০০২: ‘অ্যাক্সিস অব ইভিল’

ইরানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে মূল কারণ দেখানো হয় সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকে। অভিযোগ ছিল, হিজবুল্লাহ, হামাস ও প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে ইরান, যারা সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

২০০২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরান, ইরাক ও উত্তর কোরিয়াকে ‘অ্যাক্সিস অব ইভিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

  • ২০০৩-১৩: আলোচনার কেন্দ্রে পরমাণু সক্ষমতা

২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অস্তিত্বের প্রমাণ পায়। চাপের মুখে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে রাজি হয়। তবে পরে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় এসে আবার তা চালু করেন।

২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ১৮ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠান, যেখানে পারমাণবিক ইস্যুতে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানো হয়। তবে বাস্তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির গতি কমায়নি। তাদের দাবি ছিল, বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্যই কেবল এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসার পর ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেন। এর ফল হিসেবে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তি— চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছায়।

জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দেয়। এর বিনিময়ে তাদের ওপর আরোপ করা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলও করা হয়।

  • ২০১৭: নতুন করে উত্তেজনা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ইরানসহ সাতটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের নাগরিকদের ওপর ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ইরান এই সিদ্ধান্তকে ‘ইসলামি বিশ্বের প্রতি স্পষ্ট অপমান’ হিসেবে উল্লেখ করে।

এর জবাবে ইরান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়।

  • ২০১৮: পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

২০১৫ সালে যে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি সই হয়েছিল ইরানের সঙ্গে, ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছরের মাথায় ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এ সময় তিনি ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

পরে ইরানও চুক্তির কিছু শর্ত অনুসরণ থেকে সরে আসে। ২০২৫ সালে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয় এবং চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়।

২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের ‘নম্বর ওয়ান জেনারেল’ কাসেম সোলেইমানি। তার মৃত্যুতে ইরানের রাস্তায় শোকের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের ‘নম্বর ওয়ান জেনারেল’ কাসেম সোলেইমানি। তার মৃত্যুতে ইরানের রাস্তায় শোকের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

  • ২০২০: শীর্ষ জেনারেল হত্যা

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে বাগদাদে ড্রোন হামলায় হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

কাসেম সোলেইমানি আশির দশকেই আইআরজিসিতে যোগ দিয়েছিলেন। ওই সময় ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই করেন তিনি। ক্রমেই তিনি ইরানের ‘নম্বর ওয়ান জেনারেল’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদের হিট লিস্টেও ‘এক নম্বরে’ ছিলেন তিনি।

  • ২০২১: ফের পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ফের ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিকে আলোচনার টেবিলে তুলে আনার চেষ্টা করেন। এ আলোচনার মধ্যেই ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরান।

তেহরান ঘোষণা দেয়, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে, যা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে। একই বছরে নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ক্ষমতায় এসে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা কার্যত স্থগিত করেন এবং আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নেন।

২০২৩ সালের আলোচিত বন্দি বিনিময়। ওই সময় মার্কিন পাঁচ নাগরিককে জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দিয়েছিল ইরান। বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের জব্দ থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার অবমুক্ত হয়। ছবি: সংগৃহীত
২০২৩ সালের আলোচিত বন্দি বিনিময়। ওই সময় মার্কিন পাঁচ নাগরিককে জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দিয়েছিল ইরান। বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের জব্দ থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার অবমুক্ত হয়। ছবি: সংগৃহীত

  • ২০২৩: বন্দি বিনিময়

২০২৩ সালে একটি বড় ধরনের সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬০০ কোটি ডলার মুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।

বন্দি বিনিময়কে দুই দেশের মধ্যে সীমিত হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু বন্দি বিনিময় চুক্তির পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ওপর। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— আরেক মার্কিন নাগরিক বব লেভিনসনের বিষয়ে তথ্য গোপন রাখা, যিনি ২০০৭ সালে ইরানে নিখোঁজ হন এবং ধারণা করা হয়, আটক অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লেভিনসনের আটক ও সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য গোপন করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তিরোহিত হয়।

  • ২০২৫: ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে তার সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি প্রয়োগ করে ইরানের ওপর ফের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে থাকেন। মার্চে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন করে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

খামেনি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার অভিযোগ— যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরিবর্তে হুমকি ও শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না।

এর মধ্যেই এরপর ওমান ও ইতালিতে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়, যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে মাসকাট। ট্রাম্প দাবি করেন, একাধিক দফা আলোচনার পর তার দল চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইরানও চুক্তি নিয়ে আশাবাদ জানায়। তবে তারা একটি শর্তে অনড় থাকে— ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বহাল রাখতে হবে। এ ইস্যুটিই আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে।

ষষ্ঠ দফায় যেদিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হওয়ার কথা, ঠিক আগের দিন ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল। পরে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। ১২ দিনের এ যুদ্ধের পর ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতিও স্পষ্ট নয়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ হামলা কোনো ধরনের চুক্তির সম্ভাবনাকে ফের অনিশ্চিত করে তোলে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কও ভেঙে পড়ে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছে যায়।

  • ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আলি খামেনিসহ বহু শীর্ষ নেতা নিহত

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায় ইরানে। প্রথম দিনের হামলাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর একে একে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি, বিপ্লবী গার্ড কোরের কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপৌর, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুলরহিম মৌসাভিসহ আরও বহু নেতা নিহত হন।

জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে থাকে। এ যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। এ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে।

  • এপ্রিল ২০২৬: ‘নড়বড়ে’ যুদ্ধবিরতির মধ্যে আলোচনা

যুদ্ধ শুরুর ৪০ দিনের মাথায় গত বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়। শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছে। পরে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী ছিল না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই ৪০ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইরানে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন লেবাননে। ইসরায়েলের ২৩ জন ও যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এ যুদ্ধে।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের রাস্তায় শোকের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের রাস্তায় শোকের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

প্রাণহানি আর ইরান-লেবাননে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও এ যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি পরিবহন স্থবির হয়ে পড়েছে। হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত তেলের প্রধান গন্তব্য এশিয়ার দেশগুলো হলেও এর প্রভাবে জ্বালানির সংকটে ভুগছে গোটা বিশ্বই। ইউরোপ-আমেরিকাতেও তেলের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান যার নাম দিয়েছে ‘ইসলামাবাদ টকস’। ইরান সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার দেশের প্রতিনিধি দলকে, অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স রয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে।

ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল, যেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা। ছবি: রয়টার্স
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল, যেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা। ছবি: রয়টার্স

স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার আগেই ইরান কিছু শর্ত দেওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা আলাদা করে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে। দুপক্ষ মুখোমুখি বসবে কি না কিংবা বসলেও সে আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমাধানে দুই দেশে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়।

গোটা বিশ্বই চাইছে, স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে দুই দেশের শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক জোড়া না লাগলেও অন্তত যুদ্ধবিরতি যেন স্থায়ী হয়। যদি সেটুকুও না হয়, তাহলে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও তার আগেই যে হামলা-পালটা হামলায় দুপক্ষ জড়িয়ে পড়বে না, সে নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কেউ।

তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, হিস্টোরি ডটকম, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ট্রেজারি, ডন, আল জাজিরা, তেহরান টাইমস, আনাদোলু এজেন্সি

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের শর্তে ইঙ্গিত— জটিল হতে যাচ্ছে আলোচনা

পল অ্যাডামস বলছেন, গত এক বছরে আলোচনার চালাকালে দুবার হামলার শিকার হওয়ার কারণে ইরান এখন নিশ্চয়তা চায়, যেন ভবিষ্যতে আবার এমন হামলা না হয়। তবে বাস্তবতা হলো— কেউই খুব একটা বিশ্বাস করে না যে এসব বড় বড় সমস্যার সমাধান ইসলামাবাদে বসে হয়ে যাবে।

৯ ঘণ্টা আগে

শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন জে ডি ভ্যান্স: হোয়াইট হাউজ

মার্কিন প্রতিনিধিদলের হয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মূল বৈঠকে বসার আগে জে ডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিলেন। বৈঠকে ভ্যান্সের সঙ্গে আরও ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

৯ ঘণ্টা আগে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করল ইরানি প্রতিনিধিদল

বৈঠকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকের বিস্তারিত সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

৯ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়ে আলোচনায় বসছে ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়ে ইরান আলোচনায় বসছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

১০ ঘণ্টা আগে