গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৪: ১১
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠিতব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) সেনা পাঠাতে পারে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকার ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

মার্কিন-মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সৈন্যরা থাকবে। তবে, ইসরাইল ইতোমধ্যে এই বহুজাতিক বাহিনীতে তুরস্কের সেনার উপস্থিতির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। নৈতিক দায়িত্ব ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকেই পাকিস্তান এই মিশনে অংশ নিতে আগ্রহী বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, সরকার এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ‘উন্নত পর্যায়ে’ রয়েছে।

তাদের মতে, ‘আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইসলামাবাদ এই মিশনে অংশ নিতে আগ্রহী।’

মার্কিন-মধ্যস্থতায় গাজা শান্তি চুক্তির একটি ভিত্তিপ্রস্তর হল আইএসএফ প্রতিষ্ঠা, যা মূলত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সৈন্যদের নিয়ে গঠিত।

এর আগে জানানো হয়, ট্রাম্পের ২০-দফা প্রস্তাবনা অনুযায়ী ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে যারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

এই বাহিনীর কার্যভারের মধ্যে আরও থাকবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, হামাসকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত পারাপার নিরাপদ করা এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন গাজা উপত্যকায় মার্কিন সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে বহুজাতিক বাহিনীতে অবদান রাখার জন্য ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, কাতার, তুরস্ক এবং আজারবাইজানের সাথে কথা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

তবে, সোমবার, ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার জানান, এই বাহিনীকে তুর্কি সেনারা থাকতে পারবে না।

ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা যুক্তি দেন, নৈতিক দায়িত্ব এবং কূটনৈতিক প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা গাজার শান্তি স্থাপত্যের মূল সমর্থকদের মধ্যে ছিলাম। এখন সরে দাঁড়ানোর অর্থ হবে আমরা যে উদ্যোগটি গঠনে সহায়তা করেছি তা ত্যাগ করা। এখানে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিদ্যুৎ বিপর্যয়, মূল্যস্ফীতি, জনরোষ— যুদ্ধ শেষে ইরানের সামনে কঠিন বাস্তবতা

যুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য পার হয়ে এক ঝুঁকিপূর্ণ ও চরম বাস্তবতার পথে পা বাড়াতে যাচ্ছে ইরান। এই বাস্তবতা হলো— দেশটির আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতির ১০ শতাংশ সংকোচন, তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং সরকারের নজিরবিহীন ভিন্নমত দমনের বিরুদ্ধে ওঠা তীব্র জনরোষের এক অগ্নিপরীক্ষা।

১ দিন আগে

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির সমাবেশ

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিজিৎ দীপকে সরাসরি যন্তর মন্তরে পৌঁছান। সাদা টি-শার্ট, কালো জ্যাকেট ও টুপি পরিহিত অভিজিতের হাতে ছিল ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম রূপকার ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মজীবনী।

১ দিন আগে

আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণ ২০১৪ সালের মহামারির ‘ভয়াবহ রেকর্ড ছুঁতে পারে’

মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণ অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে চলেছে। চলমান এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় আঘাত হানা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা মহামারির আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। পশ্চিম আফ্রিকার সেই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারেরও বেশি ম

১ দিন আগে

লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চায় ইরান, অনিশ্চয়তায় ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তি

বৈরুত-তেল আবিব যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর, নিজেদের লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর প্রতি আবারও প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

১ দিন আগে