‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’— গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্কের হুঁশিয়ারি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৫৪
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন (বাঁয়ে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালায়, তবে ডেনিশ সেনারা ‘আগে গুলি চালাবে, পরে প্রশ্ন করবে’— এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, এটি ১৯৫২ সালে প্রণীত ডেনিশ সেনাবাহিনীর একটি নিয়মের প্রতিফলন, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে সেনাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা না করেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি রয়েছে। ডেনিশ সংবাদপত্র বার্লিংস্কে ওই নিয়মের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সেটি এখনো ‘বলবৎ’।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ন্যাটোভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র যেসব বিকল্প নিয়ে ভাবছে, তার মধ্যে ‘সামরিক শক্তি’র ব্যবহার অন্যতম। ট্রাম্প যখন এই আর্কটিক দ্বীপ দখলে আবারও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, ঠিক তখনই ডেনমার্কের পক্ষ থেকে এই কড়া মন্তব্য এল।

গ্রিনল্যান্ড দখলের পেছনে ট্রাম্পের যুক্তি হলো, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি ও প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা প্রয়োজন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অগ্রাধিকার। আর্কটিক অঞ্চলে শত্রুদের মোকাবিলায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক ‘স্পষ্টভাবেই ব্যর্থ’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প ‘যত দূর প্রয়োজন, তত দূর যেতে রাজি আছেন’।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক শক্তি ব্যবহার নয়, ট্রাম্প দ্বীপটি কিনতে চান। ডেনমার্কও এই আলোচনাকে ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মার্কো রুবিও।

এদিকে ডেনমার্ক বারবার জোর দিয়ে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড ‘বিক্রির জন্য নয়’। গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

এর আগে সোমবার ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যেকোনো মার্কিন আক্রমণের অর্থ হবে ন্যাটো জোটের সমাপ্তি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তার অবসান।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ট্রাম্পের পদক্ষেপে জল্পনা— ইরানে স্থল হামলার পথে যুক্তরাষ্ট্র?

শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানের খার্গ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোকেও সম্ভাব্

২ ঘণ্টা আগে

লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে আরও ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার বৃহত্তর যুদ্ধের প্রভাব লেবানন সীমান্তেও ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে নিয়মিতভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোন তৈরির চেষ্টা করলেও হিজবুল্লাহর তীব্র প্রতিরোধের মুখে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।

৩ ঘণ্টা আগে

হাজারও মার্কিন প্যারাট্রুপার মোতায়েন, মধ্যপ্রাচ্যে ফের বাড়ছে উত্তেজনা

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে পাঠানো সেনাদের নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ মোতায়েন প্রত্যাশিত ছিল। অতিরিক্ত সেনাদের মধ্যে রয়েছে ৮২তম ডিভিশনের সদর দপ্তরের সদস্য, লজিস্টিক ও সহায়তা ইউনিট ও একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম।

৫ ঘণ্টা আগে

রণক্ষেত্রে অনড় ইরান, কয়েক সপ্তাহেই জয়ের আশা যুক্তরাষ্ট্রের

রুবিও আরও জানান, এখন তাদের মূল মনোযোগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা।

৫ ঘণ্টা আগে