ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা: নিহত ৯, আহত অর্ধশতাধিক

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশে বিস্ফোরণের আলো ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ প্রধান শহরগুলোতে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও ৬০ জনেরও বেশি মানুষ। কয়েকদিন ধরে মস্কো বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে— এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার পরই আজ মঙ্গলবার ভোরে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, চলতি বছর রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতেও হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এসব হামলায় মাঝেমধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটলেও উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানঝা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহত সবাইকে মাঝারি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ধসে পড়া আবাসিক ভবন, পুড়ে যাওয়া যানবাহন এবং একটি ক্ষতিগ্রস্ত শিশু পার্কের ছবিও পোস্ট করেছেন।

রাতভর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কিয়েভের একটি সড়কের ছবি তুলছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স
রাতভর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কিয়েভের একটি সড়কের ছবি তুলছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স

এদিকে রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, কিয়েভ জুড়ে হামলায় শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন। একটি ২৪ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটির একাংশ ধসে পড়ে। এর ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

কিয়েভের মেয়র ক্লিচকো আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, ‘ওবলন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ছে। এ ছাড়া একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি এলাকাসহ দুটি খোলা জায়গায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে রুশ হামলা প্রতিহতে ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিকট শব্দের মাঝেই হাজার হাজার বাসিন্দা আশ্রয় নিতে কিয়েভের সাবওয়ে (পাতাল রেল) স্টেশনগুলোতে ভিড় করেন। এ সময় অনেককে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও তোশক সাথে নিয়ে আসতে দেখা যায়।

বড় ধরনের হামলার পূর্বাভাস

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগের দিন বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা পুনর্ব্যক্ত করার পর, মঙ্গলবার ভোরে দেশের একটি বড় অংশ জুড়ে হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে।

সোমবার রাতে নিজের নিয়মিত ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘রুশ হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা বহাল রয়েছে। তারা একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং যেকোনো সময় তা হতে পারে। বর্তমান মজুত দিয়ে আমাদের রক্ষাকারীরা ২৪ ঘণ্টাই সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।’

রাজধানী কিয়েভে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের সামনে বসে আছে এক শিশু। ছবি: রয়টার্স
রাজধানী কিয়েভে রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের সামনে বসে আছে এক শিশু। ছবি: রয়টার্স

এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছিল যে, তারা ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী এবং নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত কিয়েভের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিদেশি নাগরিকদের কিয়েভ ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছিল।

মস্কোর দাবি, গত মাসে ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছিলেন, যদিও ইউক্রেন সেই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।

ইউক্রেনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

অন্যদিকে রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া রুশ অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলে একটি রুশ নৌঘাঁটির ওপর ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে রুশ বাহিনী। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব রিপোর্টের সব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে এই যুদ্ধ এখনও চলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ায়, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাগুলো খুব একটা আলোর মুখ দেখছে না।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইসরায়েলি মদদে পশ্চিমতীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ তাণ্ডব

নাবলুসের নিকটবর্তী তাল শহরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ প্রবেশের পর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় সংঘর্ষে দুই ইসরায়েলি নিহত হলে পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

১৬ ঘণ্টা আগে

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী সহিংসতা চরমে, ঘরছাড়া হাজারও মানুষ

গত ২৯ জুন কয়েকজন ব্যক্তি ৬০ বছর বয়সী মালাউই নাগরিক ইব্রাহিম হুসেইনের বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। তিনি ২০০০ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন।

১ দিন আগে

মার্কিন হামলায় বিরতি, আপাতত পালটা আঘাত বন্ধ রাখছে ইরানও

ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতেই ইরানে হামলা চালাচ্ছিল। অন্যদিকে ইরান বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।

১ দিন আগে

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেটেলারদের হামলা, ২ মসজিদে আগুন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা হামলা চালিয়ে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদসহ গ্রামের ভবনগুলোর দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগানও লিখেছেন তারা। রোববার ভোরে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

১ দিন আগে