
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধ নতুন এক মোড়ে পৌঁছেছে। তিন মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে চলতি মাসে ফের দুই পক্ষের পালটাপালটি হামলা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই কৌশলগতভাবে স্পষ্ট সুবিধা অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধ কার্যত এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে আছে।
বর্তমানে সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন হচ্ছে, যুদ্ধের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে যে সীমিত সমর্থন ছিল, সেটিও টালমাটাল হয়ে পড়ছে। প্রায় টানা দুই সপ্তাহ রাতভর হামলার পর আপাতত মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সময়ই সংঘাত আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে আসছে।
এমন পরিস্থিতিতে সামনে কী ঘটতে পারে? মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত প্রশ্ন—
১. রিপাবলিকানরা কি যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াবেন?
শুরুর দিকে যারা এই যুদ্ধের সমালোচনা করেননি, তারাও এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন— এই যুদ্ধ আর কতদিন চলবে?
ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহাম গত সোমবার বলেন, “ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক রিপাবলিকান উদ্বিগ্ন। নভেম্বরে জিততে চাইলে এই যুদ্ধকে অনন্তকাল ধরে চলা বিভ্রান্তিতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।”
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও মঙ্গলবার যুদ্ধের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এখন আমাদের এটি শেষ করতে হবে।”
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডিও রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে বলেন, “আমার মতে, প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলো অর্জনের সুযোগ ছিল, যেগুলোর সঙ্গে আমি একমত ছিলাম। এরপর যুদ্ধ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি।”
তবে এই মুহূর্তে ট্রাম্প কীভাবে যুদ্ধ শেষ করবেন, তার সহজ কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। তুলনামূলকভাবে ইরানের জন্য অনুকূল বলে বিবেচিত সমঝোতা স্মারকেও (এমওইউ) তেহরান আগ্রহ দেখায়নি। অন্যদিকে নতুন করে হামলা ও হুমকি দিয়েও ইরানকে নতি স্বীকার করাতে পারেননি ট্রাম্প।
এখন প্রশ্ন হলো, পারমাণবিক চুক্তি না হলেও রিপাবলিকানরা কি ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে চাপ দেবেন? অথবা ইরান যদি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, সেক্ষেত্রেও কি তারা যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নেবেন?
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতেও যদি প্রভাবশালী রিপাবলিকানরা যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান, তাহলে সেটি রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগেরই প্রতিফলন হবে।
অবশ্য ট্রাম্প মঙ্গলবারও দাবি করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন তার ওপর “কোনো প্রভাব ফেলবে না।”
২. মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা কি জনমত আরও খারাপ করবে?
মার্চের পর প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা জনসমর্থন আরও কমিয়ে দিতে পারে— এ নিয়ে ট্রাম্প যে উদ্বিগ্ন, তা তার বিভিন্ন বক্তব্যেই স্পষ্ট।
নিয়মিত হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প একদিকে এ পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা (এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত) অতীতের বেশি প্রাণহানির যুদ্ধগুলোর সঙ্গে তুলনা করছেন। অন্যদিকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করছেন, নিহত সেনা ও তাদের পরিবার এই যুদ্ধকে সমর্থন করতেন। যদিও অন্তত একটি পরিবারের সদস্য ভিন্ন কথা বলেছেন।
জনমত জরিপও বলছে, ট্রাম্পের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মার্চে পরিচালিত রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের ৪২ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের ৫৩ শতাংশ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হলে তারা যুদ্ধের বিরোধিতায় আরও বেশি ঝুঁকবেন।
এদিকে সপ্তাহান্তে পেন্টাগন নীরবে তাদের হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করেছে। সেখানে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট আহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে।
অতীতের যুদ্ধগুলোর তুলনায় নিহতের সংখ্যা কম হলেও এর রাজনৈতিক প্রভাব বড় হতে পারে। কারণ, কয়েক মাস ধরে কোনো সেনা নিহত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কমছিল। এর সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টিও জনমনে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকই যখন এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য সুফল নিয়ে আশ্বস্ত নন, তখন এতে সেনাদের প্রাণহানি তাদের কাছে আরও বেশি অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
৩. ট্রাম্প কি যুদ্ধ আরও বাড়াবেন?
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প সংঘাত আরও বিস্তৃত করার পথ এড়িয়ে চলেছেন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ অচলাবস্থায় আটকে থাকায় তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা শেষ পর্যন্ত এটিকেই বিব্রতকর পশ্চাদপসরণ এড়ানোর একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
অবশ্য সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণও রয়েছে।
গত সপ্তাহসহ বিভিন্ন সময় ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন তুলতে পারে।
আরেকটি বিকল্প হতে পারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এগুলো ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকেন্দ্র। কিন্তু তা করতে গেলে সম্ভবত স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
মার্চে সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক স্থলবাহিনী পাঠানোর বিরোধিতা করেন, সমর্থন করেন মাত্র ১১ শতাংশ। এতে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওসকে বলেন, তিনি বর্তমানে “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হামলার” বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
তবে অতীতেও তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। কিন্তু ইরানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়েও শেষ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে পিছু হটেছেন।
একপর্যায়ে ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা হয়তো বুঝতে পারেন, শুধু হুমকি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
সপ্তাহান্তে ট্রাম্প হামলা স্থগিত করেন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ বলেন, ট্রাম্প “আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ করে দিচ্ছেন।”
তবে সিএনএনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বড় ধরনের হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকার পেছনে আরেকটি কারণ হলো, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সংঘাত আরও বাড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়েও সতর্ক করেছেন কেইন।
৪. জ্বালানির দাম কতটা বাড়তে পারে?
গত সপ্তাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা এবং লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করা।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। ফলে এ পথে চলাচল ব্যাহত হলে আগে থেকেই চাপে থাকা বৈশ্বিক তেলের বাজার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর প্রথম। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম আবারও ৪ ডলারের ওপরে উঠেছিল।
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনেক দিক থেকেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান জ্বালানির দামের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রতি গ্যালনের দাম যদি ৪ ডলারের অনেক ওপরে উঠে যায়, তাহলে শুধু মার্কিন জনগণ নয়, তার মিত্রদের কাছেও এই যুদ্ধের পক্ষে গ্রহণযোগ্য যুক্তি তুলে ধরা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
৫. ট্রাম্প কি তার লক্ষ্য আরও কমিয়ে আনবেন?
এই মুহূর্তে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো, তিনি শুরুতেই অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের কাছ থেকে কেবল “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে চিরতরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। এমনকি তিনি ইরানের জনগণ তাদের শাসকদের উৎখাত করবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কিন্তু পরে ভেঙে যাওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বিচার করলে দেখা যায়, তিনি ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্যগুলো অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি কি আরও কম কিছু মেনেও সন্তুষ্ট হবেন?
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই যদি শুধু হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হয়, ট্রাম্প কি সেটিই মেনে নেবেন? তিনি আগেও দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে এবং মহাকাশ থেকেই সেটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
অবশ্য এক বছর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরও তিনি যুদ্ধ শুরু করেন।
ট্রাম্প কখনো কখনো এটাও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা নয়; বরং অন্য দেশগুলোর জন্য এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে এই সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিতে পারেন?
এটি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। তবে মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কখনোই ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে ছিল না।
৬. কংগ্রেস কি শেষ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেবে?
রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস এখনো যুদ্ধের বিষয়ে সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগের অবস্থানে পৌঁছায়নি বলেই মনে হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
কংগ্রেস চাইলে যুদ্ধের অর্থায়ন আটকে বা বিলম্বিত করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ গত সপ্তাহে অর্থায়নসহ একটি বিল পাস করলেও সিনেটে সেটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
আরেকটি পথ হলো ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশনের মাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়া। প্রতিনিধি পরিষদ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটও একবার একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে।
এতদিন রিপাবলিকানরা যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পকে অনেকটাই স্বাধীনতা দিলেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তারা ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টে নির্ধারিত ৬০ থেকে ৯০ দিনের সীমা কার্যত এড়িয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির কারণে এটিকে দুটি আলাদা সংঘাত হিসেবে দেখানোর যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও অনেক আইনপ্রণেতার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস গত সপ্তাহে সিএনএনকে বলেন, “একটি যুদ্ধ কয়েক দিনের জন্য থামিয়ে আবার শুরু করলেই তা সংবিধানের দৃষ্টিতে নতুন যুদ্ধ হয়ে যায় না।”
আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাওস্কিও গত সপ্তাহের এক শুনানিতে একই ধরনের মন্তব্য করেন।
এদিকে বিল ক্যাসিডি, যিনি সম্প্রতি ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার অবস্থান থেকে সরে এসে তাকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তিনিও রোববার বলেছেন, খুব শিগগিরই কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধ নতুন এক মোড়ে পৌঁছেছে। তিন মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে চলতি মাসে ফের দুই পক্ষের পালটাপালটি হামলা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই কৌশলগতভাবে স্পষ্ট সুবিধা অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধ কার্যত এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে আছে।
বর্তমানে সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন হচ্ছে, যুদ্ধের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে যে সীমিত সমর্থন ছিল, সেটিও টালমাটাল হয়ে পড়ছে। প্রায় টানা দুই সপ্তাহ রাতভর হামলার পর আপাতত মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিত রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সময়ই সংঘাত আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে আসছে।
এমন পরিস্থিতিতে সামনে কী ঘটতে পারে? মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত প্রশ্ন—
১. রিপাবলিকানরা কি যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াবেন?
শুরুর দিকে যারা এই যুদ্ধের সমালোচনা করেননি, তারাও এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন— এই যুদ্ধ আর কতদিন চলবে?
ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহাম গত সোমবার বলেন, “ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক রিপাবলিকান উদ্বিগ্ন। নভেম্বরে জিততে চাইলে এই যুদ্ধকে অনন্তকাল ধরে চলা বিভ্রান্তিতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।”
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও মঙ্গলবার যুদ্ধের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এখন আমাদের এটি শেষ করতে হবে।”
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডিও রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে বলেন, “আমার মতে, প্রেসিডেন্টের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলো অর্জনের সুযোগ ছিল, যেগুলোর সঙ্গে আমি একমত ছিলাম। এরপর যুদ্ধ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা হয়নি।”
তবে এই মুহূর্তে ট্রাম্প কীভাবে যুদ্ধ শেষ করবেন, তার সহজ কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। তুলনামূলকভাবে ইরানের জন্য অনুকূল বলে বিবেচিত সমঝোতা স্মারকেও (এমওইউ) তেহরান আগ্রহ দেখায়নি। অন্যদিকে নতুন করে হামলা ও হুমকি দিয়েও ইরানকে নতি স্বীকার করাতে পারেননি ট্রাম্প।
এখন প্রশ্ন হলো, পারমাণবিক চুক্তি না হলেও রিপাবলিকানরা কি ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে চাপ দেবেন? অথবা ইরান যদি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, সেক্ষেত্রেও কি তারা যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নেবেন?
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতেও যদি প্রভাবশালী রিপাবলিকানরা যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান, তাহলে সেটি রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগেরই প্রতিফলন হবে।
অবশ্য ট্রাম্প মঙ্গলবারও দাবি করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন তার ওপর “কোনো প্রভাব ফেলবে না।”
২. মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা কি জনমত আরও খারাপ করবে?
মার্চের পর প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা জনসমর্থন আরও কমিয়ে দিতে পারে— এ নিয়ে ট্রাম্প যে উদ্বিগ্ন, তা তার বিভিন্ন বক্তব্যেই স্পষ্ট।
নিয়মিত হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প একদিকে এ পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা (এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত) অতীতের বেশি প্রাণহানির যুদ্ধগুলোর সঙ্গে তুলনা করছেন। অন্যদিকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করছেন, নিহত সেনা ও তাদের পরিবার এই যুদ্ধকে সমর্থন করতেন। যদিও অন্তত একটি পরিবারের সদস্য ভিন্ন কথা বলেছেন।
জনমত জরিপও বলছে, ট্রাম্পের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মার্চে পরিচালিত রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের ৪২ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের ৫৩ শতাংশ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হলে তারা যুদ্ধের বিরোধিতায় আরও বেশি ঝুঁকবেন।
এদিকে সপ্তাহান্তে পেন্টাগন নীরবে তাদের হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করেছে। সেখানে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত হয়েছে। ফলে মোট আহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে।
অতীতের যুদ্ধগুলোর তুলনায় নিহতের সংখ্যা কম হলেও এর রাজনৈতিক প্রভাব বড় হতে পারে। কারণ, কয়েক মাস ধরে কোনো সেনা নিহত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কমছিল। এর সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টিও জনমনে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকই যখন এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য সুফল নিয়ে আশ্বস্ত নন, তখন এতে সেনাদের প্রাণহানি তাদের কাছে আরও বেশি অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
৩. ট্রাম্প কি যুদ্ধ আরও বাড়াবেন?
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প সংঘাত আরও বিস্তৃত করার পথ এড়িয়ে চলেছেন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ অচলাবস্থায় আটকে থাকায় তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা শেষ পর্যন্ত এটিকেই বিব্রতকর পশ্চাদপসরণ এড়ানোর একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
অবশ্য সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণও রয়েছে।
গত সপ্তাহসহ বিভিন্ন সময় ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন তুলতে পারে।
আরেকটি বিকল্প হতে পারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এগুলো ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকেন্দ্র। কিন্তু তা করতে গেলে সম্ভবত স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
মার্চে সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক স্থলবাহিনী পাঠানোর বিরোধিতা করেন, সমর্থন করেন মাত্র ১১ শতাংশ। এতে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওসকে বলেন, তিনি বর্তমানে “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হামলার” বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
তবে অতীতেও তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। কিন্তু ইরানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়েও শেষ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে পিছু হটেছেন।
একপর্যায়ে ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা হয়তো বুঝতে পারেন, শুধু হুমকি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
সপ্তাহান্তে ট্রাম্প হামলা স্থগিত করেন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ বলেন, ট্রাম্প “আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ করে দিচ্ছেন।”
তবে সিএনএনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বড় ধরনের হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকার পেছনে আরেকটি কারণ হলো, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সংঘাত আরও বাড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়েও সতর্ক করেছেন কেইন।
৪. জ্বালানির দাম কতটা বাড়তে পারে?
গত সপ্তাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা এবং লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করা।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। ফলে এ পথে চলাচল ব্যাহত হলে আগে থেকেই চাপে থাকা বৈশ্বিক তেলের বাজার আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর প্রথম। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম আবারও ৪ ডলারের ওপরে উঠেছিল।
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনেক দিক থেকেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান জ্বালানির দামের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রতি গ্যালনের দাম যদি ৪ ডলারের অনেক ওপরে উঠে যায়, তাহলে শুধু মার্কিন জনগণ নয়, তার মিত্রদের কাছেও এই যুদ্ধের পক্ষে গ্রহণযোগ্য যুক্তি তুলে ধরা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
৫. ট্রাম্প কি তার লক্ষ্য আরও কমিয়ে আনবেন?
এই মুহূর্তে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো, তিনি শুরুতেই অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের কাছ থেকে কেবল “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে চিরতরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। এমনকি তিনি ইরানের জনগণ তাদের শাসকদের উৎখাত করবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কিন্তু পরে ভেঙে যাওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বিচার করলে দেখা যায়, তিনি ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্যগুলো অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি কি আরও কম কিছু মেনেও সন্তুষ্ট হবেন?
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই যদি শুধু হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হয়, ট্রাম্প কি সেটিই মেনে নেবেন? তিনি আগেও দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে এবং মহাকাশ থেকেই সেটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
অবশ্য এক বছর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরও তিনি যুদ্ধ শুরু করেন।
ট্রাম্প কখনো কখনো এটাও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা নয়; বরং অন্য দেশগুলোর জন্য এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে এই সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিতে পারেন?
এটি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। তবে মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কখনোই ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে ছিল না।
৬. কংগ্রেস কি শেষ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেবে?
রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস এখনো যুদ্ধের বিষয়ে সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগের অবস্থানে পৌঁছায়নি বলেই মনে হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
কংগ্রেস চাইলে যুদ্ধের অর্থায়ন আটকে বা বিলম্বিত করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ গত সপ্তাহে অর্থায়নসহ একটি বিল পাস করলেও সিনেটে সেটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
আরেকটি পথ হলো ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশনের মাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়া। প্রতিনিধি পরিষদ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটও একবার একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে।
এতদিন রিপাবলিকানরা যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পকে অনেকটাই স্বাধীনতা দিলেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তারা ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টে নির্ধারিত ৬০ থেকে ৯০ দিনের সীমা কার্যত এড়িয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির কারণে এটিকে দুটি আলাদা সংঘাত হিসেবে দেখানোর যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও অনেক আইনপ্রণেতার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস গত সপ্তাহে সিএনএনকে বলেন, “একটি যুদ্ধ কয়েক দিনের জন্য থামিয়ে আবার শুরু করলেই তা সংবিধানের দৃষ্টিতে নতুন যুদ্ধ হয়ে যায় না।”
আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাওস্কিও গত সপ্তাহের এক শুনানিতে একই ধরনের মন্তব্য করেন।
এদিকে বিল ক্যাসিডি, যিনি সম্প্রতি ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার অবস্থান থেকে সরে এসে তাকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তিনিও রোববার বলেছেন, খুব শিগগিরই কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

গত ২৯ জুন কয়েকজন ব্যক্তি ৬০ বছর বয়সী মালাউই নাগরিক ইব্রাহিম হুসেইনের বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। তিনি ২০০০ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন।
১ দিন আগে
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতেই ইরানে হামলা চালাচ্ছিল। অন্যদিকে ইরান বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।
১ দিন আগে
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা হামলা চালিয়ে দুটি মসজিদে আগুন দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদসহ গ্রামের ভবনগুলোর দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগানও লিখেছেন তারা। রোববার ভোরে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।
১ দিন আগে
হামলায় বিরতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প সব সময়ই স্পষ্ট করে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানই তার প্রথম পছন্দ। তবে ইরান যদি আন্তরিকভাবে আলোচনার টেবিলে না আসে, তাহলে কী ঘটতে পারে, সেটিও তিনি তাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।
১ দিন আগে