রাতভর রুশ হামলায় কিয়েভে নিহত ১০, আহত ৫৬

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১৩: ০৬
রাতভর রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি আবাসিক ভবন। ছবি: রয়টার্স
রাতভর রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি আবাসিক ভবন। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং দুই শিশুসহ ৫৬ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশকিছু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একটি নয়তলা ভবনের অংশ ধসে পড়েছে এবং শহরের একটি কেন্দ্রীয় সড়কের হোটেলে আগুন লেগেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, বুধবার রাতভর রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের প্রায় তিন ডজন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানাননি।

তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লেখেন, ‘শত্রুপক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শিশুদেরসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছেন।’

হামলার পর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও আশপাশের এলাকায় আগুন নেভানোর কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
হামলার পর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও আশপাশের এলাকায় আগুন নেভানোর কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানান, একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাত হানার পর ভবনটির প্রথম থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত ধসে পড়ে। হামলায় আহতদের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনের প্যারামেডিক ও চালকরাও রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি আবাসিক ভবনের ভেতরে এখনো কিছু মানুষ আটকা পড়ে আছেন।

রাতভর মেট্রো স্টেশনে আশ্রয়

রাশিয়ার হামলার সময় শিশু, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, তাঁবু ও পোষা প্রাণী নিয়ে অসংখ্য মানুষ কিয়েভের ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। জুনের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই দেশটির ওপর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হামলা।

হামলার সময় কিয়েভের একটি মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: রয়টার্স
হামলার সময় কিয়েভের একটি মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলহা স্টেফানিশিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘শহরের বাসিন্দাদের জন্য এটি ছিল আরেকটি ভয়াবহ রাত। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাতে বাধ্য হতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন জেলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক ভবনে আগুন এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।’

সফর সংক্ষিপ্ত করলেন জেলেনস্কি

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাতের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আবর্তনশীল সভাপতির দায়িত্বে আয়ারল্যান্ডের ছয় মাসের মেয়াদ শুরুর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি দেশে ফিরছেন।

রাশিয়ার দাবি, এটি পালটা হামলা

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভের আশপাশের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা এবং পোলতাভা ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্কসহ কয়েকটি অঞ্চলের সামরিক বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইউক্রেন সম্প্রতি বেসামরিক অবকাঠামোতে যে হামলা চালিয়েছে, তার প্রতিশোধ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement