ইসরায়েলি হামলা: যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় ৬৭ শিশু নিহত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৯: ৫৭
গাজার আল শিফা হাসপাতালে ইসরাইলি হামলায় নিহত আত্মীয়ের জন্য কান্না করছে এক ফিলিস্তিনি শিশু।ছবি: সংগৃহীত
গাজার আল শিফা হাসপাতালে ইসরাইলি হামলায় নিহত আত্মীয়ের জন্য কান্না করছে এক ফিলিস্তিনি শিশু।ছবি: সংগৃহীত

গাজায় গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বাস্তবে শিশুদের ওপর সহিংস হামলা থামেনি। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়েই সেখানে অন্তত ৬৭টি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে নবজাতকও রয়েছে।

আল জাজিরার শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নবজাতকসহ এত সংখ্যক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ইউনিসেফ গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

সংস্থাটির মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে জানান, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় বিমান হামলায় একটি নবজাতক মেয়েশিশু নিহত হয়েছে। এর আগের দিনও বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলায় সাতটি শিশু প্রাণ হারায়।

পিরেস বলেন, “ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রকমের উদ্বেগজনক।”


তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিটি হারানো শিশু কেবল একটি সংখ্যা নয়—একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই নিভে যাচ্ছে।”

ইউনিসেফ জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। তাদের মতে, গাজার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হলো শিশুরাই।

এদিকে শিশু সহায়তামূলক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ ফিলিস্তিনি শিশু গুরুতর আহত হয়ে জীবনভর পঙ্গুত্ব বরণ করছে। অনেকের মস্তিষ্কে আঘাত, কারও শরীরজুড়ে দগ্ধ ক্ষত—গাজাকে তারা আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিশুর অঙ্গচ্ছেদের অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পিরেস আরও বলেন, বহু শিশু খোলা জায়গায় কিংবা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। “গাজার শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা বলতে আসলে কিছুই নেই। তাদের যন্ত্রণা গ্রহণযোগ্য নয়”—মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ধ্বংসস্তূপের মাঝে শীতের তীব্র ঠান্ডা মোকাবিলা করে লাখো শিশুর দিন কাটছে, যা তাদের জন্য নতুন আরেকটি হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement