কাশ্মিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ১১

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৪: ৩৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরের রাওয়ালকোটে সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে ৪ পুলিশসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবারের (৮ জুন) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭০ জনেরও বেশি মানুষ।

স্থানীয় প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।

আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে এমন উত্তেজনার মধ্যে পুরো অঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল স্থানীয় নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। ধর্মঘটের আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় এবং বিভিন্ন এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংগঠনটির কার্যক্রম দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।

সোমবার সকালে রাওয়ালকোটের একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হন। এর আগে পুলিশের গুলিতে নিহত এক সমাজকর্মীর মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রথমে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালটা অভিযান চালালে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন। সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

একই সঙ্গে বহু মানুষকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে

সম্প্রতি ৪৫ সদস্যের আইনসভায় ১২টি আসন উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ। এসব উদ্বাস্তু মূলত পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশে বসবাস করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাইরের প্রভাব বাড়বে।

এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট, বেকারত্ব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনার অভিযোগও আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

গত দুই বছর ধরে এসব ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছিল যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। এদিকে পরিস্থিতির অবনতির পর কয়েকটি পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে একটি অনুসন্ধানী দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনীতি/এসআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad