আস্থার সংকট, তবু ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনায় ফেরার আশা সিরিয়ার

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ফের আলোচনার টেবিলে বসতে পারে সিরিয়া ইসরায়েল। প্রতীকী ছবি

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে স্থগিত আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে বলে আশা করছে সিরিয়া। তবে একই সঙ্গে দামেস্ক বলছে, ইসরায়েল ইস্যুতে তাদের আস্থার সংকট কাটেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আলোচনার আগে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হওয়াকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন। দামেস্কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাইবানি বলেন, সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্থগিত রয়েছে। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগের দরজা এখনো খোলা এবং শিগগিরই আলোচনা ফেরার আশা করছে সিরিয়া।

‘আমরা বর্তমানে ইসরায়েলকে বিশ্বাস করি না’— এ কথা উল্লেখ করে শাইবানি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে যখন দেশটি নিয়মিত সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তবে সেই যোগাযোগে যদি কোনো বাস্তব ফল না আসে, তাহলে তার প্রয়োজনও নেই।

গত মঙ্গলবার সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ইসরায়েলের দাবি ছিল, সিরিয়া সেখানে তুরস্কের সেনাদের মোতায়েনের সুযোগ দিতে যাচ্ছে। তবে সিরিয়া ও তুরস্ক উভয়েই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

শাইবানি জানান, বছরের শুরুতে চুক্তির বেশির ভাগ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছিল। প্রস্তাবিত চুক্তিতে সিরিয়ার ভূখণ্ডে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, সীমান্তবর্তী একটি বাফার জোনে শুধু জাতিসংঘের উপস্থিতি এবং অন্যান্য এলাকায় সীমিত পরিসরে সিরীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল।

এর বিনিময়ে সিরিয়ার ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দখল করা সিরীয় ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি চুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে দামেস্কের অভিযোগ, চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের প্রকৃত আগ্রহ দেখা যায়নি।

১৯৪৮ সাল থেকে সিরিয়া ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে ইসরায়েল। তাই বর্তমান নিরাপত্তা আলোচনা শুধু হামলা বন্ধ বা সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়, দীর্ঘমেয়াদে গোলান মালভূমির প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।

শাইবানি বলেন, এখন সিরিয়ার প্রধান লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি ‘আগ্রাসন’ বন্ধ করা। এরপরই শান্তি ও গোলান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন শাইবানি।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এমন ব্যবস্থা অবশ্যই ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করে নিরাপত্তা চুক্তির পথ তৈরি করবে। তবে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণকে আরও স্থায়ী করবে— এমন কোনো ব্যবস্থায় দামেস্ক রাজি নয়।

ইসরায়েলের সঙ্গে আস্থার সংকট থাকলেও সিরিয়া কূটনীতির পথ বন্ধ করতে চাইছে না। শাইবানি বলেন, সিরিয়া তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়তে চায় এবং ‘বোঝাপড়া, শান্তি ও কূটনীতির জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে’। তবে সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরতে কতটা প্রস্তুত— তার ওপর।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান যুদ্ধে নতুন মোড়— ওয়াশিংটনের ‘কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা’ বনাম তেহরানের পালটা হুঁশিয়ারি

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে নতুন করে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা’ ঘোষণা করা হবে। তবে ওয়াশিংটনের এই হুমকির মুখেও পিছু হটার ইঙ্গিত নেই ইরানের। বরং নতুন নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হতাশার

১৬ ঘণ্টা আগে

নির্বাচনের ‘বিপক্ষে’ জেলেনস্কি, বললেন যুদ্ধের মধ্যে ভোট হলে ইউক্রেন ধ্বংস হবে

সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা যদি দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এমন যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।’ তার মতে, এখন নির্বাচন আয়োজন করলে তা ‘রাষ্ট্রের জন্য সুনামি’ হয়ে দাঁড়াবে এবং ইউক্রেনকে বিভক্ত করে ফেলতে পারে।

১৭ ঘণ্টা আগে

বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় কানাডাকে ‘খোঁচা’ ট্রাম্পের

বিবিসি জানাচ্ছে, শুক্রবার রাতে দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার বেশ কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কৃষকদের পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে আসছে।

২০ ঘণ্টা আগে

কলকাতায় আগুনে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ মৃত্যু: ‘শিখা ইন’ হোটেলের মালিক গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বীরেশ্বর। নিজের গাড়িতে করে কলকাতা থেকে পালিয়ে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। ঝাড়খণ্ডে বীরেশ্বরের কয়েকজন কর্মচারীর বাড়ি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই গিয়ে তিনি তাদের সহায়তা নিয়েছিলেন।

২ দিন আগে