
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় বলে এরপর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে অনেকটা।
এর মধ্যে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও ইরানের জাহাজ ঠিকই চলছে। এর মধ্যেই বিবিসি ভেরিফাইয়ের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের হামলা ও অবরোধ সত্ত্বেও চলতি মার্চ মাসের ১৯ দিনে প্রায় ১০০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য বলছে, সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ এই প্রণালি হয়ে চলাচল করত। আর শিপিং অ্যানালিস্ট প্রতিষ্ঠান কেপলার বলছে, এ মাসে এখন পর্যন্ত ৯৯টি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সে হিসাবে দিনে গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজ যাতায়াত করছে এই নৌ পথে।
প্রশ্ন উঠেছে কারা পার হচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে নিষিদ্ধ থাকা এই জলপথ? কীভাবেই বা তারা পার হচ্ছে এই পথ?
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যেসব জাহাজ এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করছে, তার এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে ১৪টি জাহাজ সরাসরি ইরানের পতাকাবাহী। তেহরানের তেল বাণিজ্য থাকার কারণে বাকিগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এর বাইরে ৯টি জাহাজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় দেখা গেছে চীনের নাম। আর ছয়টি জাহাজের গন্তব্য ছিল ভারত। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়— গ্রিক মালিকানাধীন এমন কিছু জাহাজকেও ইরানের বন্দরে নোঙর করতে দেখা গেছে।
বিশ্লেষণের তথ্য বিবিসি বলছে, সফলভাবে হরমুজ পার হওয়া জাহাজগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে। যেমন— গত ১৫ মার্চ পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ আন্তর্জাতিক নৌ পথের পরিবর্তে ইরানের উপকূলের খুব কাছ দিয়ে চলাচল করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা থিংকট্যাংক র্যান্ড করপোরেশনের গবেষক ব্র্যাডলি মার্টিন বলেন, জাহাজটি সম্ভবত ইরানের দেওয়া কোনো বিশেষ দিকনির্দেশনা মেনে চলছিল।
শিপিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান মূলত হামলার ভয় ও মাইন স্থাপনের আতঙ্ক ছড়িয়ে জাহাজগুলোকে তাদের নিজস্ব জলসীমায় ঢুকতে বাধ্য করছে।
উইন্ডওয়ার্ড মেরিটাইম অ্যানালিটিক্সের মিশেল উইস বকম্যান বলেন, ইরান এখন ভয় দেখিয়ে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক চ্যানেল ব্যবহার না করে ইরানের উপকূল ঘেঁষে চলতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে তারা তেহরানের সামুদ্রিক আইন ও নজরদারির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। গত ১১ মার্চ থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ময়ূরী নারী’ নামক একটি জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলায় ২৩ জন ক্রুর মধ্যে ৩ জন নিখোঁজ হন।
একই দিনে গ্রিক মালিকানাধীন ‘স্টার গুইনেথ’ ও মার্কিন মালিকানাধীন ‘এমটি সেফসি বিষ্ণু’ নামে দুটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া ইরাকের উপকূলে নোঙর করা ‘এমটি সেফসি বিষ্ণু’ জাহাজে হামলায় একজন প্রাণ হারান, ২৮ ক্রু জ্বলন্ত জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হন।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শনাক্তকরণ এড়াতে বেশির ভাগ জাহাজই এখন তাদের ‘অটোমেটিক আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম’ (এআইএস) বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে এই এলাকা পার হচ্ছে।
কেপলারের বিশ্লেষক দিমিত্রি আম্পাতজিদিস বলেন, বিপুলসংখ্যক জাহাজ এখন চোখ বন্ধ করে বা রাডার অব করে এই প্রণালি পার হচ্ছে।
জাহাজগুলো ওমান উপসাগরে প্রবেশের সময় মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে এবং কয়েক ঘণ্টা বা দিন পর অন্য কোনো স্থানে আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে স্যাটেলাইট ইমেজ ও ম্যানুয়াল ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এই রহস্যময় পারাপার নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোট ও মাইনের এই বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সরু ও অগভীর হওয়ায় এবং এর উপকূলীয় এলাকা পাহাড়ঘেরা হওয়ায় ইরান খুব সহজেই ওপর থেকে হামলা চালাতে পারে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও যারা হরমুজ অতিক্রম করতে পেরেছে বা পারছে, তারা ইরানের ইশারা বা আনুকূল্য পেয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয় বলে এরপর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে অনেকটা।
এর মধ্যে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও ইরানের জাহাজ ঠিকই চলছে। এর মধ্যেই বিবিসি ভেরিফাইয়ের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের হামলা ও অবরোধ সত্ত্বেও চলতি মার্চ মাসের ১৯ দিনে প্রায় ১০০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য বলছে, সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ এই প্রণালি হয়ে চলাচল করত। আর শিপিং অ্যানালিস্ট প্রতিষ্ঠান কেপলার বলছে, এ মাসে এখন পর্যন্ত ৯৯টি জাহাজ এ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সে হিসাবে দিনে গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজ যাতায়াত করছে এই নৌ পথে।
প্রশ্ন উঠেছে কারা পার হচ্ছে আপাতদৃষ্টিতে নিষিদ্ধ থাকা এই জলপথ? কীভাবেই বা তারা পার হচ্ছে এই পথ?
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যেসব জাহাজ এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করছে, তার এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে ১৪টি জাহাজ সরাসরি ইরানের পতাকাবাহী। তেহরানের তেল বাণিজ্য থাকার কারণে বাকিগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এর বাইরে ৯টি জাহাজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় দেখা গেছে চীনের নাম। আর ছয়টি জাহাজের গন্তব্য ছিল ভারত। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়— গ্রিক মালিকানাধীন এমন কিছু জাহাজকেও ইরানের বন্দরে নোঙর করতে দেখা গেছে।
বিশ্লেষণের তথ্য বিবিসি বলছে, সফলভাবে হরমুজ পার হওয়া জাহাজগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে। যেমন— গত ১৫ মার্চ পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ আন্তর্জাতিক নৌ পথের পরিবর্তে ইরানের উপকূলের খুব কাছ দিয়ে চলাচল করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা থিংকট্যাংক র্যান্ড করপোরেশনের গবেষক ব্র্যাডলি মার্টিন বলেন, জাহাজটি সম্ভবত ইরানের দেওয়া কোনো বিশেষ দিকনির্দেশনা মেনে চলছিল।
শিপিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান মূলত হামলার ভয় ও মাইন স্থাপনের আতঙ্ক ছড়িয়ে জাহাজগুলোকে তাদের নিজস্ব জলসীমায় ঢুকতে বাধ্য করছে।
উইন্ডওয়ার্ড মেরিটাইম অ্যানালিটিক্সের মিশেল উইস বকম্যান বলেন, ইরান এখন ভয় দেখিয়ে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে। জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক চ্যানেল ব্যবহার না করে ইরানের উপকূল ঘেঁষে চলতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে তারা তেহরানের সামুদ্রিক আইন ও নজরদারির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। গত ১১ মার্চ থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ময়ূরী নারী’ নামক একটি জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলায় ২৩ জন ক্রুর মধ্যে ৩ জন নিখোঁজ হন।
একই দিনে গ্রিক মালিকানাধীন ‘স্টার গুইনেথ’ ও মার্কিন মালিকানাধীন ‘এমটি সেফসি বিষ্ণু’ নামে দুটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া ইরাকের উপকূলে নোঙর করা ‘এমটি সেফসি বিষ্ণু’ জাহাজে হামলায় একজন প্রাণ হারান, ২৮ ক্রু জ্বলন্ত জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হন।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শনাক্তকরণ এড়াতে বেশির ভাগ জাহাজই এখন তাদের ‘অটোমেটিক আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম’ (এআইএস) বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে এই এলাকা পার হচ্ছে।
কেপলারের বিশ্লেষক দিমিত্রি আম্পাতজিদিস বলেন, বিপুলসংখ্যক জাহাজ এখন চোখ বন্ধ করে বা রাডার অব করে এই প্রণালি পার হচ্ছে।
জাহাজগুলো ওমান উপসাগরে প্রবেশের সময় মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে এবং কয়েক ঘণ্টা বা দিন পর অন্য কোনো স্থানে আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে স্যাটেলাইট ইমেজ ও ম্যানুয়াল ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এই রহস্যময় পারাপার নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোট ও মাইনের এই বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি সরু ও অগভীর হওয়ায় এবং এর উপকূলীয় এলাকা পাহাড়ঘেরা হওয়ায় ইরান খুব সহজেই ওপর থেকে হামলা চালাতে পারে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও যারা হরমুজ অতিক্রম করতে পেরেছে বা পারছে, তারা ইরানের ইশারা বা আনুকূল্য পেয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে আর কখনো ইরানকে হুমকি দেওয়া চলবে না। ইরান ও অঞ্চলটিতে তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে ওয়াশিংটনকে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির
১ দিন আগে
দাবানল নিয়ন্ত্রণ অভিযানের উপ-প্রধান টাইলার হেক্ট জানান, দুর্ঘটনার পর কর্মীরা কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে পুনরায় কাজ শুরু হয়। তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনা আমাদের কাজের পদ্ধতি বদলে দেবে না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাব এবং মাটিতে থাকা দমকলকর্মীদের সহায়তায় বিমান
১ দিন আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র এদুয়ার্দো নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ব্রাজিলের ন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন এজেন্সির (এএনএসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আকাশে চলাচলকারী সকল হেলিকপ্টারের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত কর
১ দিন আগে
নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। গত মার্চের শুরুর দিকে দেশটির নীতি-নির্ধারণী পরিষদ 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
১ দিন আগে