আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধানকে হত্যার দায় স্বীকার ইসরায়েলের

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের এক টেলিগ্রাম বার্তায় বলেছে, আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান নিহত হওয়া ইরানের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সময়ই ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র দায় স্বীকার করার পরই ইরান তা নিশ্চিত করেছে। তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটল। ইরান নিজেই আগে খাদেমির নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মাজিদ খাদেমির নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আইআরজিসি। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
আইআরজিসি ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি চলমান আগ্রাসী যুদ্ধে আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর সন্ত্রাসী হামলায় শহিদ হয়েছেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিপ্লব, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ইসলামি স্বদেশের প্রতি আন্তরিক ও সাহসী অভিভাবকত্বের মাধ্যমে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ, স্থায়ী ও শিক্ষণীয় অবদান রেখে গেছেন।
২০২৫ সালের ১৫ জুন ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আইআরজিসির আগের গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি। ওই সময় তার স্থলাভিক্তি হন মেজর জেনারেল খাদেমি। গত ফেব্রুয়ারিতে এবারের যুদ্ধ শুরুর আগেই তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর একটি মঞ্চ প্রস্তুত করছে।
আইআরজিসি বলছে, মাজিদ খাদেমির প্রচেষ্টা, বিশেষ করে কৌশলগত পর্যায়ে বিদেশি শত্রুদের মোকাবিলা এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত কূটচাল ও শয়তানি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে তার অবদান দেশের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের জন্য বহু বছর ধরে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে।
মেজর জেনারেল খাদেমির মৃত্যুর মাধ্যমে এবারের যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ নেতাদের হারানোর তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা করলে এ যুদ্ধ শুরু হয়। হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় সুপ্রিম নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি, আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি, গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী এসমায়েলি খতিব, ইরানের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুলরহিম মৌসাভি, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ আরও অনেকেই নিহত হয়েছেন।


















