গালিবাফ-আরাগচিকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্র’ ইসরায়েলের, সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ (বাঁয়ে) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ (বাঁয়ে) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

গত এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার সময় ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিত্বারীদের হত্যার ‘ষড়যন্ত্র’ করেছিল ইসরায়েল। আর এ বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছিল খোদ যুক্তরাষ্ট্র। বলেছিল, তেহরান যেন এ পরিকল্পনার বিষয়ে সজাগ থাকে।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ আলোচকদের মধ্যে বিশেষ করে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ছিলেন ইসরায়েলের নিশানায়।

ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরান যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে ইসরায়েল ইরানের প্রধান আলোচকদের হত্যা করতে পারে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে হত্যার আশঙ্কা প্রবল ছিল তথ্য পায় ওয়াশিংটন। তবে এ পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেও তারা বদ্ধপরিকর ছিল। এ কারণেই তারা অপ্রত্যাশিত একটি পদক্ষেপ নেয়— মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য আশঙ্কা ও হত্যার চক্রান্ত সম্পর্কে ইরানকে সতর্ক করে দেয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতেও পরামর্শ দেয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, এপ্রিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই আলোচনা শুরুর পর যদি কোনো গুপ্তহত্যা হতো, তাহলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সমাধানের আশা শেষ হয়ে যেত এবং সংঘাত আবারও শুরু হতো। এ কারণেই তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে এ বিষয়ে সতর্ক করে।

এদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ নিশ্চয়তা চেয়েছিল, কূটনৈতিক বৈঠকের সময় ইসরায়েল তাদের আলোচক দলকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।

এপ্রিল মাসের একটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে, যেখানে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে শনাক্ত করার পর ইসলামাবাদ থেকে গালিবাফের ফিরতি ফ্লাইটটি মাশহাদে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আরব ও মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও দৃঢ় অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিরোধিতাকারী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অমিল দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়েই বেশি মনোযোগী হয়েছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
গালিবাফ-আরাগচিকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্র’ ইসরায়েলের, সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র