সমঝোতা স্মারকে সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের চরম উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

বুধবার (১৭ জুন) সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই চুক্তিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এটিকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আওতায় যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে সই করেন। উভয় পক্ষ জানায়, চুক্তিটি এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ এতে ইলেকট্রনিকভাবে সই করেছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরএনএকে বাঘাই বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন পরীক্ষা করার সময়।

আল জাজিরা জানায়, বুধবার (১৭ জুন) এই ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক তৎপরতা স্থগিতের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি করবে। যেহেতু উভয় পক্ষ ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে সই করেছে, তাই আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আর কোনও স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না বলে জানান বাঘাই।

তবে দুই দেশের আলোচক দল এখনও জেনেভায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। মুখোমুখি বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত হতে পারে। আপাতত সেই পরিকল্পনা স্থগিত রয়েছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যালয় এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও আল জাজিরার প্রতিনিধি মাইক হান্না জানান, হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দিনের শুরুতেই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হান্নার মতে, এই সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে। কারণ, ট্রাম্পের ওপর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য কট্টর-ডানপন্থি মহলের চাপ ছিল।

তিনি বলেন, এমওইউয়ের যেসব বিষয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এমনকি কিছু রিপাবলিকানও মনে করছেন, ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হয়েছে।

হান্না আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি। তার ভাষায়, প্রশাসন আমেরিকান জনগণ ও রাজনীতিকদের বোঝাতে চেষ্টা করছে যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় নয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement