আমিরাতের প্রস্থানে ওপেকে ধাক্কা, সৌদির সঙ্গে টানাপড়েন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ০৫
১ মে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত
১ মে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ওপেক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাকে বৈশ্বিক তেল উৎপাদকদের জোটে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ইরান যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ওপেকের অন্যতম বড় উৎপাদক দেশ আমিরাতের এই সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহে জোটটির নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। পাশাপাশি ওপেকের কার্যত নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দূরত্বও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইউএই ওপেকের কোটা থেকে বেরিয়ে গেলে এবং উপসাগরীয় রুটে রপ্তানি স্বাভাবিক হলে দেশটি ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন বাড়াতে স্বাধীনতা পাবে।

ওপেক ছাড়ার ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়ায় দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল-মাজরুই এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জানান, দেশের জ্বালানি কৌশল পর্যালোচনার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন নীতির গভীর পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

১ মে থেকে কার্যকর

ইউএই আগামী ১ মে থেকে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট ছাড়বে বলে জানিয়েছে। এ ঘোষণার পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

মন্ত্রী মাজরুই মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে ওপেকভুক্ত উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানিতে সমস্যায় পড়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মার্চ মাসে বৈশ্বিক তেল উৎপাদনে ওপেক প্লাসের অংশীদারিত্ব কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ। এপ্রিল ও মে মাসে এই হার আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের জন্য ইতিবাচক?

বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প ওপেকের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি’ করার অভিযোগ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ওপেক সদস্যদের নিরাপত্তা দেয়, তখন তারা তেলের উচ্চ দাম নির্ধারণ করে সেটিকে কাজে লাগায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভোক্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হতে পারে।

এডিসিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ মনিকা মালিক বলেন, “ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইউএই-এর জন্য বৈশ্বিক বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।”

রিস্টাডের বিশ্লেষক জর্জ লিওন বলেন, সৌদি আরব ছাড়া ওপেকের খুব কম সদস্যেরই অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা আছে, যার মধ্যে ইউএই অন্যতম। ফলে জোটের বাইরে গিয়ে দেশটি উৎপাদন বাড়াতে পারবে, যা বাজারে সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।

সৌদি-ইউএই সম্পর্কে টানাপড়েন

একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও আবুধাবি ও রিয়াদের মধ্যে এখন প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তেলনীতি, আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে শুরু করে বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে ইউএই নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের পর দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ইউএই।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় নেতারা মঙ্গলবার সৌদি আরবে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানের হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে তাদের করণীয় নির্ধারণই ছিল এই বৈঠকের লক্ষ্য।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement