সৌদি আরামকোর স্থাপনায় ফের হামলা, তেলের দাম ১০০ ডলারের পথে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আরামকো সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, যেটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
আরামকো সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, যেটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান তেল স্থাপনায় আবারও হামলা হয়েছে। গত কয়েক মাসে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার কারণে এলাকাটি বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে সবশেষ হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সোমবারের (৭ সেপ্টেম্বর) এ হামলায় স্থাপনাটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে। তবে হামলার মাত্রা গত মাসের হামলার কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তি।

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জিজানে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় শোধনাগার রয়েছে। গত জুলাই থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে। এর আগে জিজান ও ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

গত মাসের হামলায় জিজান শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের জানিয়েছিলেন, এতে কোম্পানির কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে এবারের হামলা নতুন করে সৌদি আরবের তেল সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় জিজানের গুরুত্ব এখন আরও বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় রুটে সৌদি তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রিয়াদ সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠাচ্ছে। কিন্তু হুতিদের হামলার কারণে জিজান থেকে তেলজাত পণ্যের চালানও ব্যাপকভাবে কমেছে, আগস্টে সেখান থেকে কোনো তেলজাত পণ্য রপ্তানির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ আরও বেড়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৯৩ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়, যা জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। পরে দাম কিছুটা কমলেও বিকেলে ব্রেন্ট ছিল প্রায় ৯৭ ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও ৯২ ডলারের ওপরে ছিল।

তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে শুধু আরামকোতে হামলা নয়, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পালটাপালটি হামলাও বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর ইরানও হরমুজ ও আশপাশের এলাকায় জাহাজ লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালিয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল গত ১০ দিনে গড়ে দিনে মাত্র ১০টিতে নেমেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

এদিকে ইরান হরমুজের বাইরে নতুন একটি নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তেহরান বলছে, ওই এলাকায় চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিকল্প লোহিত সাগরীয় রুটও হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। তেল উৎপাদন, শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ— সবগুলোই একসঙ্গে চাপের মুখে। হামলা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন আরও বাড়লে তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, জাহাজে হামলা আরও বিস্তৃত ও তীব্র হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement