মার্কিন অবরোধ না উঠলে হরমুজ খুলবে না: ইরানের স্পিকার

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ১৬
মার্কিন অবরোধ না উঠলে হরমুজ খুলবে না: ইরানের স্পিকার

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ-বন্দরগুলোতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গালিবাফ বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকা ‘চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’। তাঁর ভাষায়, একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে জিম্মি করার আশঙ্কা দূর হবে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির আরেকটি শর্ত হচ্ছে সব রণাঙ্গণে ‘জায়নবাদী আগ্রাসন’ বন্ধ করা।

ইরানের স্পিকার সতর্ক করে বলেন, একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে না। সামরিক আগ্রাসনে যা অর্জন করা যায়নি, তা ভয়ভীতি দেখিয়েও অর্জন সম্ভব নয়।

১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ—প্রায় এক-চতুর্থাংশ—এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

গত ২৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। বর্তমানে প্রণালিটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে প্রণালি ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে আইআরজিসির অনুমতি নিতে হচ্ছে।

টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এরপর ১২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২১ এপ্রিল তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও, অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement