লেবাননে 'যুদ্ধবিরতিতে সম্মত' ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ, জানালেন মার্কিন কর্মকর্তা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ২০: ৩৪
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন স্থানীয়রা; হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার আগে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফাইল ছবি
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন স্থানীয়রা; হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার আগে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফাইল ছবি

লেবাননে চলমান সংঘাত নিরসনে অবশেষে আজ শুক্রবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দেশটিতে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তিটিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তরের সম্ভাবনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এরপরই এই যুদ্ধবিরতির খবর এলো।

রয়টার্স বলছে, লেবাননে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করায় শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান বৈঠকটি বাতিল করা হয়। বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে এই আলোচনা ছিল অত্যন্ত জরুরি।

কিন্তু বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় আলোচনার ভবিষ্যৎ সময়সূচি নিয়ে নতুন করে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

মার্কিন প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, লেবানন সময় বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি যে আজ সকালের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এখন একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।" তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

লেবাননে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় ইসরায়েলি হামলায় ১৮ জন নিহত হন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ গেরিলাদের পালটা হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। এই সংঘাত সামগ্রিক শান্তি আলোচনার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত, কারণ লেবাননে স্থায়ীভাবে লড়াই বন্ধ করা ছিল মূল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।

হিজবুল্লাহর একজন শীর্ষস্থানীয় আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, ইরান তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল যে— একটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সরাসরি এই শান্তি আলোচনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তেহরান প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement