এবার হুতিদের দখলে লোহিত সাগরের আরও ২ দ্বীপ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
শনিবার ইয়েমেনের বানি মাতার জেলায় পিকআপের পেছনে চড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুতিদের দখলে নেওয়া দক্ষিণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা থেকে মুক্তি পাওয়া হুতি বন্দিদের বহনকারী গাড়িবহর সানার পথে যাওয়ার সময় তারা সেটি অনুসরণ করেন। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার ইয়েমেনের বানি মাতার জেলায় পিকআপের পেছনে চড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হুতিদের দখলে নেওয়া দক্ষিণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা থেকে মুক্তি পাওয়া হুতি বন্দিদের বহনকারী গাড়িবহর সানার পথে যাওয়ার সময় তারা সেটি অনুসরণ করেন। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ‘গ্রেটার হানিশ’ ও ‘লেসার হানিশ’ নামের এই দুটি দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজেদের অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের সরকারি দুই কর্মকর্তা ও এক হুতি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের এই দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা।

ইয়েমেনের সরকার সমর্থিত বাহিনী হানিশ দ্বীপপুঞ্জ থেকে পিছু হটার পরই হুতি বিদ্রোহীরা দ্বীপ দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার হুতিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দরনগরীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরদিন বাব আল-মান্দেব প্রণালির মায়ুন দ্বীপও দখল করে তারা।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে বিবেচিত বাব আল-মান্দেব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বৈশ্বিক তেল ও পণ্য পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকায় লোহিত সাগরে নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মোখা বন্দর ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারানোকে সরকারি বাহিনীর জন্য একটি ‘বেদনাদায়ক পরাজয়’ বলে স্বীকার করেছেন ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা। তবে লোহিত সাগর উপকূলে নতুন করে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির সরকার।

এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে সরকারি বাহিনীর পাল্টা হামলা এবং এর বিপরীতে প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের ভেতরে হুতিদের হামলার কারণে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নতুন করে তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।

ইয়েমেন আবার বড় ধরনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটির সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement