কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় এক ভারতীয় নিহত, আহত ৬৩

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের একাংশ। ছবি: রয়টার্স
ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের একাংশ। ছবি: রয়টার্স

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে ইরানের হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন। হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতের সামরিক বাহিনী। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ওই বিমানবন্দরের দিকে যাওয়া ফ্লাইটগুলো বিকল্প বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-আতওয়ান এ হামলাকে ‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের শুরু থেকেই বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোতে হামলার বিরোধিতা করে আসছে ভারত। তারা অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা বতসোয়ানার পতাকাবাহী এমটি লেক্সি নামের একটি তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটির ক্রুরা ২৪ ঘণ্টা ধরে দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। জাহাজটি কুয়েতের কাছে ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল।

ওয়াশিংটন আরও জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর রাখতে কাজ করছে এবং এখন পর্যন্ত ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা ১২২টি জাহাজকে অন্যদিকে সরিয়ে দিয়েছে। ১৩ এপ্রিল অবরোধ শুরু হওয়ার পর এমটি লেক্সি ছিল ষষ্ঠ জাহাজ, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছে।

বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ আলি আব্দুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহ। ছবি: রয়টার্স
বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ আলি আব্দুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহ। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এর জবাবেই কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আবার জানিয়েছে, তারা কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌ বহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের নেতৃত্বকে দায়ী করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ড ও অবকাঠামো ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বন্যা’ দিয়ে জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি এখনো ‘নাগালের মধ্যে’ রয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টে প্রযোজ্য এবং এর যেকোনো লঙ্ঘনের দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বহন করতে হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement