হরমুজে তেল পরিবহন শুরু, লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলায় ফের অনিশ্চয়তা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। ছবি: রয়টার্স
বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে দেখা গেছে। ছবি: রয়টার্স

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এর মধ্যে লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার রাত থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার তথ্য জানান। তিনি বলেন, বুধবার রাত থেকে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়েছে। যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে এখন ৬০ দিনের আলোচনার সময় শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই জানিয়েছিল, তারা সমঝোতায় সম্মত হয়েছে। পরে জানানো হয়, শুক্রবার দুই দেশ সমঝোতা স্মারকে সই করবে। তবে প্রত্যাশিত সময়ের দুই দিন আগেই বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানের সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এর পরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা— এই আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি চূড়ান্ত চুক্তি হবে, যেন ইরানের কাছে এমন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র না থাকে, যা বিশ্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে সমুদ্রপথ খুলে দেওয়া হলেও শিপিং কোম্পানিগুলো বলছে, যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে জাহাজ চলাচল ফিরতে আরও সময় লাগবে। কারণ নিরাপদ নৌ পথ নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রে পাতা মাইন অপসারণের কাজ বাকি রয়েছে।

অন্যদিকে সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও প্রায় ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বনিম্ন।

লেবানন নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

সমঝোতা স্মারকে লেবাননের যুদ্ধের ‘স্থায়ী অবসান’ এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আলোচনায় সরাসরি অংশ নেয়নি ইসরায়েল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের কফারতেবনিত ও জেবদিন শহরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। বৈরুতের আকাশেও ড্রোন টহলের খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েল একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ‘বাফার জোন’ আরও সম্প্রসারণের একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমঝোতা সত্ত্বেও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে রয়টার্সকে দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব। তাদের একজন বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘কঠিন’ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইসরায়েল অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

এদিকে ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা নির্বাচিত লেবানিজ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া, যেন সেখানে হিজবুল্লাহর প্রভাব না থাকে এবং ইসরায়েলও হামলার প্রয়োজন অনুভব না করে।

তবে সাম্প্রতিক হামলা দেখাচ্ছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা কার্যকর হলেও লেবানন ইস্যু এখনো বড় অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement