
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ’শিগগিরই সমঝোতা’য় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সই হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, চুক্তির বিষয়ে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যদি এই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে, তবে তা হবে গত তিন মাস ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি ও ‘রেড লাইন’ প্রশ্নে অনড় ইরান
ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওয়াশিংটনের এই দাবি প্রসঙ্গে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আলোচনার অধীনে থাকা চুক্তির খসড়ার একটি বড় অংশ চূড়ান্ত করা হয়েছে ঠিকই, তবে ইরান তাদের ‘রেড লাইনে’র (নীতিগত অবস্থান) প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না।
ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা বর্তমানে আমাদের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নীতিনির্ধারকরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছেন।"
অন্যদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী সুরেই ট্রাম্প বলেছেন, "আমরা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের একটি চমৎকার দফারফা করে ফেলেছি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, "আমরা চুক্তি সই করার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। আর এই চুক্তিটি খুব শিগগিরই, এমনকি চলতি সপ্তাহের শেষেই ইউরোপে সই হতে পারে।" ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই চুক্তিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সই করতে পারেন।

চুক্তিটিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদন রয়েছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমার জানামতে, উত্তর হলো ‘হ্যাঁ’।"
আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণার পরপরই এই নতুন চুক্তি সংক্রান্ত তথ্যটি সামনে আনলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন শেয়ারবাজারে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।
চুক্তির রূপরেখা ও দুই পক্ষের শর্তাবলি
গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি 'প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে' রয়েছে। তবে এই সপ্তাহের শুরুতেও দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক পালটাপালটা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), যা কিছুটা ধারণাগত বা নীতিগত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।"
শান্তি আলোচনার শুরু থেকেই ট্রাম্প জোর দিয়ে আসছেন যে, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হতে হবে— ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। অবশ্য তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ধরনের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষার কথা অস্বীকার করে আসছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমাদের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যার ফলে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না। এত সব কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল এটি। সুতরাং এটি একটি বড় অর্জন।"
অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— তাদের ওপর আরোপিত সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, বিদেশে জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দেওয়া।
রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি ও পালটাপালটি হামলা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে টানা দুই দিন প্রণালির আশেপাশে নতুন করে হামলার নির্দেশ দেন।
একই সময়ে ইরানও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, একটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে একটি ১১ বছরের শিশু সামান্য আহত হয়েছে এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আজ রাতেই ইরানকে চরম আঘাত’ হানবে এবং এক পর্যায়ে ইরানের প্রধান তেল হাব ‘খার্গ দ্বীপ’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। তবে এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই ট্রাম্প তার অবস্থান বদলে ফেলেন। তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, খার্গ দ্বীপটি দিয়ে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়। এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তা ইরানের অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে এবং দেশটির জ্বালানি বাণিজ্য পুরোপুরি বিপর্যস্ত করার ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে চলে যাবে।
ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান এই সংঘাত ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের (গ্যাসোলিন) আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ভোটারদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে কমছে। এমনকি কিছু রিপাবলিকান নেতা প্রকাশ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই যুদ্ধের অজনপ্রিয়তার খেসারত হিসেবে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হতে পারে।
রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পকে একই সঙ্গে তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের কট্টরপন্থিদেরও শান্ত রাখতে হচ্ছে, যাতে তারা আশ্বস্ত হতে পারেন যে এই চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ হচ্ছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই ইরানবিরোধীদের তীব্র আপত্তির কারণেই ভেস্তে গিয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এই চুক্তিকে কীভাবে গ্রহণ করছে, তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন যে, এই সমঝোতাটি ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভিন্ন সুর দেখা গেছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়।
বিবৃতি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু অবশ্য ট্রাম্পের একটি প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছেন— যার লক্ষ্য হলো চুক্তির মাধ্যমে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি বা সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।
একই সময়ে তেহরানের পক্ষ থেকেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল, যেখানে ইসরায়েল এবং ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে এখনও সংঘাত চলছে।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই তিনি এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।
রাজনীতি/আইআর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ’শিগগিরই সমঝোতা’য় পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সই হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, চুক্তির বিষয়ে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যদি এই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে, তবে তা হবে গত তিন মাস ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি ও ‘রেড লাইন’ প্রশ্নে অনড় ইরান
ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওয়াশিংটনের এই দাবি প্রসঙ্গে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আলোচনার অধীনে থাকা চুক্তির খসড়ার একটি বড় অংশ চূড়ান্ত করা হয়েছে ঠিকই, তবে ইরান তাদের ‘রেড লাইনে’র (নীতিগত অবস্থান) প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না।
ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা বর্তমানে আমাদের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নীতিনির্ধারকরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছেন।"
অন্যদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী সুরেই ট্রাম্প বলেছেন, "আমরা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের একটি চমৎকার দফারফা করে ফেলেছি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, "আমরা চুক্তি সই করার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। আর এই চুক্তিটি খুব শিগগিরই, এমনকি চলতি সপ্তাহের শেষেই ইউরোপে সই হতে পারে।" ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই চুক্তিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সই করতে পারেন।

চুক্তিটিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদন রয়েছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমার জানামতে, উত্তর হলো ‘হ্যাঁ’।"
আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণার পরপরই এই নতুন চুক্তি সংক্রান্ত তথ্যটি সামনে আনলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন শেয়ারবাজারে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।
চুক্তির রূপরেখা ও দুই পক্ষের শর্তাবলি
গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি 'প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে' রয়েছে। তবে এই সপ্তাহের শুরুতেও দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক পালটাপালটা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), যা কিছুটা ধারণাগত বা নীতিগত কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।"
শান্তি আলোচনার শুরু থেকেই ট্রাম্প জোর দিয়ে আসছেন যে, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হতে হবে— ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। অবশ্য তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ধরনের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষার কথা অস্বীকার করে আসছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমাদের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে যার ফলে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না। এত সব কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল এটি। সুতরাং এটি একটি বড় অর্জন।"
অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— তাদের ওপর আরোপিত সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, বিদেশে জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের ইরানি তহবিল অবমুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দেওয়া।
রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি ও পালটাপালটি হামলা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে টানা দুই দিন প্রণালির আশেপাশে নতুন করে হামলার নির্দেশ দেন।
একই সময়ে ইরানও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, একটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে একটি ১১ বছরের শিশু সামান্য আহত হয়েছে এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আজ রাতেই ইরানকে চরম আঘাত’ হানবে এবং এক পর্যায়ে ইরানের প্রধান তেল হাব ‘খার্গ দ্বীপ’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। তবে এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরেই ট্রাম্প তার অবস্থান বদলে ফেলেন। তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, খার্গ দ্বীপটি দিয়ে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়। এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তা ইরানের অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে এবং দেশটির জ্বালানি বাণিজ্য পুরোপুরি বিপর্যস্ত করার ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে চলে যাবে।
ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান এই সংঘাত ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের (গ্যাসোলিন) আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ভোটারদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে কমছে। এমনকি কিছু রিপাবলিকান নেতা প্রকাশ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই যুদ্ধের অজনপ্রিয়তার খেসারত হিসেবে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হতে পারে।
রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পকে একই সঙ্গে তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের কট্টরপন্থিদেরও শান্ত রাখতে হচ্ছে, যাতে তারা আশ্বস্ত হতে পারেন যে এই চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ চিরতরে বন্ধ হচ্ছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই ইরানবিরোধীদের তীব্র আপত্তির কারণেই ভেস্তে গিয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এই চুক্তিকে কীভাবে গ্রহণ করছে, তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন যে, এই সমঝোতাটি ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভিন্ন সুর দেখা গেছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল কোনো পক্ষ নয়।
বিবৃতি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু অবশ্য ট্রাম্পের একটি প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছেন— যার লক্ষ্য হলো চুক্তির মাধ্যমে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি বা সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।
একই সময়ে তেহরানের পক্ষ থেকেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল, যেখানে ইসরায়েল এবং ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে এখনও সংঘাত চলছে।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই তিনি এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।
রাজনীতি/আইআর

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু ওরা আমাদের ঝুলিয়ে রাখছে। ওরা আমাদের বোকা বানাচ্ছে, কারণ জানেন কি? ওরা এর আগে কিছু খুবই বোকা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করেছে।’
১ দিন আগে
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহের প্রদেশের জামে এলাকায় ড্রোনটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। ড্রোনটি ভূপাতিত করতে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
২ দিন আগে
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
২ দিন আগে
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অভিযোগ করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আবারও আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক বাড়িঘরে বোমা হামলা চালিয়েছে।
২ দিন আগে