ইরানে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনা, অর্ধেকের বেশি অর্থের প্রতিশ্রুতি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৫: ৩৮
তহবিলটির নাম ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা। প্রতীকী ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তিতে ইরানে বিনিয়োগের গতি বাড়াতে ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের একটি বিশাল বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ এই তহবিলের বিশাল অঙ্কের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবহিত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই তহবিল মূলত একটি অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে উৎসাহিত করবে।

এটি কোনো সরকারি পুনর্গঠন কর্মসূচি বা যুদ্ধক্ষতিপূরণ তহবিল নয়। বরং এটি হবে সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতনির্ভর একটি বিনিয়োগ মাধ্যম (প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ভেহিকল), যেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় অনুদান বা সরকারি অর্থ থাকবে না।

যুক্তরাষ্ট্র, পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি ইতোমধ্যেই এই তহবিলে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হবে জ্বালানি, লজিস্টিকস, উৎপাদনশিল্প (ম্যানুফ্যাকচারিং) এবং পরিবহন খাতে।

এর আগে গত রোববার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কথা জানান। আগামী শুক্রবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিও আবার পুরোপুরি সচল হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরান প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দেয়, তারা এমন কোনো অর্থ পরিশোধ করবে না।

মূলত এই অচলাবস্থার পরই নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো হিসেবে একটি বৃহৎ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ধারণা সামনে আসে। ইরানি ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, তহবিলটির নাম হতে পারে ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ (পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল)।

এই তহবিলের আওতায় ঋণ নিশ্চিত করা, ঋণের সীমা (ক্রেডিট লাইন) তৈরি কিংবা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর পুনর্গঠনে সরাসরি অর্থায়ন করা হবে। এই তালিকায় রয়েছে মোবারকেহ স্টিল কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অন্যান্য অবকাঠামো।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও, ইরান গত চার দশকে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) পায়নি। একের পর এক মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি কার্যত বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

অথচ ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দেশটিতে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুত। একই সঙ্গে দেশটিতে রয়েছে ৯ কোটি ২০ লাখের বেশি তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী, বৈচিত্র্যময় শিল্পভিত্তি এবং পেট্রোকেমিক্যাল, খনি, পর্যটন ও কৃষি খাতের মতো বিপুল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র— যা এতদিন অব্যবহৃত রয়ে গেছে।

নতুন এই বিনিয়োগ তহবিলের বিষয়টি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সার্বভৌম সম্পদ ফেরত দেওয়ার আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং নতুন বিনিয়োগ তহবিল— এই তিনটি বিষয় সমান্তরালভাবে আলোচিত হলেও এগুলো পৃথক আর্থিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতিটির লক্ষ্য, কাঠামো ও বাস্তবায়ন সময়সূচিও ভিন্ন।

চূড়ান্ত ও উভয় পক্ষের কাছে সন্তোষজনক কোনো সমঝোতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তহবিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন বা কার্যকর করা হবে না। আগামী শুক্রবার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে এই উদ্যোগকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর কাঠামোয় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন, ইসরায়েলে ক্ষোভ

যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা। কিন্তু তিন মাসেরও বেশি সময়ের সংঘাতের পর ট্রাম্প এখন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে আগ্রহী হলেও নেতানিয়াহু এখনো মনে করছেন, ইরানকে যথেষ্ট

১ দিন আগে

খুলে দেওয়া হলো হরমুজ প্রণালি, শুরু হলো জাহাজ চলাচল

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তিটি দ্রুত ও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা। তিনি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ছাড়া অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

১ দিন আগে

ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন ঘাঁটিতে বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

এডওয়ার্ডস এয়ারফোর্স বেইসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রুটিন টেস্ট মিশনের অংশ হিসেবে বিমান বাহিনীর একটি বি-৫২ বম্বার এডওয়ার্ড বিমান ঘাঁটির রানওয়ে থেকে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে চালকসহ মোট ৮ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের কেউই বেঁচে নেই।”

১ দিন আগে

চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয়, লেবাননে হামলা থামবে না: নিরাপত্তামন্ত্রী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভির। ওই চুক্তিতে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধের শর্ত থাকলেও ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি এই নেতা হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া পর্যন্ত আরও তীব্র হামলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে

১ দিন আগে