
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী সতর্ক করে বলেছে, লোহিত সাগরের সৌদি আরব উপকূলের কোনো বন্দর ব্যবহার করা ট্যাংকারে হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই আজ বুধবার তা কার্যকর করার অংশ হিসেবে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, হুতিদের এই ঘোষণার ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এমন এক সময় এই হুমকি এলো, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলেও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ধারাবাহিকভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেও সৌদি আরবের বিপুল তেল রপ্তানি এত দিন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েনি। কিন্তু নতুন এই পদক্ষেপ সেই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
হুতিদের হামলার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে চীন ও ভারতের উদ্দেশে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা করা তিনটি ট্যাংকার মঙ্গলবার লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে হুতি-নিয়ন্ত্রিত উপকূলের দিকে না গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে সুয়েজ খালের দিকে চলে যায়। হুতিদের দাবি, মোট ছয়টি জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হুতিরা যদি তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যা করার, তা করতেই হবে’।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, এর আগে আমরা হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রথমবার যা করার করেছিলাম, তারপর থেকে দীর্ঘদিন তাদের সম্পর্কে তেমন কিছু শোনা যায়নি।’
অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভেঙে পড়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে একই সময়ে দুই দেশই টানা দশম দিনের মতো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা পাকিস্তান সফরে গেছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, পর্দার আড়ালে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার এই ধাপ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সংঘাত আরও বাড়াবে কি না, অন্যদিকে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেবে কি না, সেটি বিবেচনা করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তার ভাষায়, ‘সেটি বাস্তবসম্মত হতে হবে।’
হুতিরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলও রয়েছে। তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রণালি বন্ধের ঘোষণা না দিলেও সৌদি বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি বৈশ্বিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়।
সোমবার হুতিরা একাধিক শিপিং কোম্পানিকে ই-মেইলে জানায়, সৌদি আরবের কোনো বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের নাগালের মধ্যে থাকা ‘যেকোনো স্থানে’ ওই জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ই-মেইলে আরও বলা হয়, ‘আমরা জোরালোভাবে সুপারিশ করছি, আপনার প্রতিষ্ঠান যেন সব ধরনের কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে।’ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এই বার্তা পাঠানো হয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন মাইনর বলেন, ‘হুতিরা এখনো স্পষ্ট করেনি, তারা ঠিক কোন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করবে। তবে সৌদি বন্দর অবরোধের ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সৌদি বন্দরে যাওয়া এবং সৌদি তেল বহনকারী যেকোনো জাহাজই তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।’
তিনি বলেন, বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে যাওয়া তেলের বড় অংশ এশিয়ার বাজারে যাচ্ছে। লোহিত সাগরে আগের অভিযানের সময় হুতিরা রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। তবে এবার সৌদি তেল বহনকারী চীনা জাহাজের ক্ষেত্রেও তারা একই ধরনের সমঝোতায় আগ্রহী নাও হতে পারে।
অ্যালিসন মাইনরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হুতিরা ছোট নৌযান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ১০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এতে প্রায় ২০ মাইল প্রশস্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি অধিকাংশ শিপিং কোম্পানির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে হুতিদের নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে তারা দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও আঘাত করেছে। একই সঙ্গে ইরানও ইয়েমেনকে বৃহত্তর সংঘাতে টেনে এনে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে চায়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হুতিদের ওপর চাপ দিয়েছিল তেহরান। ইরান স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পাল্টা ভারসাম্য তৈরির একটি উপায় হিসেবে তারা বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়। পূর্ণমাত্রার নতুন সংঘাত শুরুর দেড় সপ্তাহ পরও ইরানের কৌশলগত বিকল্প যে এখনো রয়েছে, সেটিও এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২৫ শতাংশ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব— এই দুই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এই পথ দিয়ে চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
এদিকে সংঘাতের দুই পক্ষই ভারী হামলা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফার্স, হরমোজগান, ইলাম, কেরমান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া পাঁচটি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, সোমবার রাতেও টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরান দেশটির সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এতে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ‘ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।’

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী সতর্ক করে বলেছে, লোহিত সাগরের সৌদি আরব উপকূলের কোনো বন্দর ব্যবহার করা ট্যাংকারে হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই আজ বুধবার তা কার্যকর করার অংশ হিসেবে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, হুতিদের এই ঘোষণার ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এমন এক সময় এই হুমকি এলো, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলেও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ধারাবাহিকভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেও সৌদি আরবের বিপুল তেল রপ্তানি এত দিন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েনি। কিন্তু নতুন এই পদক্ষেপ সেই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
হুতিদের হামলার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে চীন ও ভারতের উদ্দেশে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা করা তিনটি ট্যাংকার মঙ্গলবার লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে হুতি-নিয়ন্ত্রিত উপকূলের দিকে না গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে সুয়েজ খালের দিকে চলে যায়। হুতিদের দাবি, মোট ছয়টি জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হুতিরা যদি তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যা করার, তা করতেই হবে’।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, এর আগে আমরা হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রথমবার যা করার করেছিলাম, তারপর থেকে দীর্ঘদিন তাদের সম্পর্কে তেমন কিছু শোনা যায়নি।’
অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভেঙে পড়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে একই সময়ে দুই দেশই টানা দশম দিনের মতো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা পাকিস্তান সফরে গেছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, পর্দার আড়ালে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার এই ধাপ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সংঘাত আরও বাড়াবে কি না, অন্যদিকে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেবে কি না, সেটি বিবেচনা করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তার ভাষায়, ‘সেটি বাস্তবসম্মত হতে হবে।’
হুতিরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলও রয়েছে। তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রণালি বন্ধের ঘোষণা না দিলেও সৌদি বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি বৈশ্বিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়।
সোমবার হুতিরা একাধিক শিপিং কোম্পানিকে ই-মেইলে জানায়, সৌদি আরবের কোনো বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের নাগালের মধ্যে থাকা ‘যেকোনো স্থানে’ ওই জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ই-মেইলে আরও বলা হয়, ‘আমরা জোরালোভাবে সুপারিশ করছি, আপনার প্রতিষ্ঠান যেন সব ধরনের কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে।’ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এই বার্তা পাঠানো হয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন মাইনর বলেন, ‘হুতিরা এখনো স্পষ্ট করেনি, তারা ঠিক কোন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করবে। তবে সৌদি বন্দর অবরোধের ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সৌদি বন্দরে যাওয়া এবং সৌদি তেল বহনকারী যেকোনো জাহাজই তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।’
তিনি বলেন, বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে যাওয়া তেলের বড় অংশ এশিয়ার বাজারে যাচ্ছে। লোহিত সাগরে আগের অভিযানের সময় হুতিরা রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। তবে এবার সৌদি তেল বহনকারী চীনা জাহাজের ক্ষেত্রেও তারা একই ধরনের সমঝোতায় আগ্রহী নাও হতে পারে।
অ্যালিসন মাইনরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হুতিরা ছোট নৌযান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ১০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এতে প্রায় ২০ মাইল প্রশস্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি অধিকাংশ শিপিং কোম্পানির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে হুতিদের নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে তারা দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও আঘাত করেছে। একই সঙ্গে ইরানও ইয়েমেনকে বৃহত্তর সংঘাতে টেনে এনে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে চায়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হুতিদের ওপর চাপ দিয়েছিল তেহরান। ইরান স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পাল্টা ভারসাম্য তৈরির একটি উপায় হিসেবে তারা বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়। পূর্ণমাত্রার নতুন সংঘাত শুরুর দেড় সপ্তাহ পরও ইরানের কৌশলগত বিকল্প যে এখনো রয়েছে, সেটিও এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২৫ শতাংশ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব— এই দুই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এই পথ দিয়ে চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
এদিকে সংঘাতের দুই পক্ষই ভারী হামলা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফার্স, হরমোজগান, ইলাম, কেরমান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া পাঁচটি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, সোমবার রাতেও টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরান দেশটির সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এতে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ‘ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।’

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জিজানে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় শোধনাগার রয়েছে। গত জুলাই থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে। এর আগে জিজান ও ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
১৬ ঘণ্টা আগে
হামলার আগে শহরটিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে অনলাইনে কোনো সরিয়ে নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। হামলার বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামলার স্থানে চিকিৎসাকর্মী ও শিশুরা থাকার বিষয়ে তারা অবগত ছিল কি না এবং কেন কোনো সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়নি— এ
১ দিন আগে
বাংলাভাষী ভারতীয় মুসলিম নারী মুমতাজ বেগমকে নিয়ম না মেনে জোর করে (পুশ ইন) বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে নির্বাসনের জন্য প্রথমবার রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষতিপূরণের দায় চাপাল আদালত।
১ দিন আগে
ইরানের এ ঘোষণা এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমুদ্রপথে সরাসরি সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর। গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ ও এর আশপাশে কয়েকটি জাহাজে পালটা হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এস
১ দিন আগে